kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

দেশের মাঠও এবার ‘অচেনা জগৎ’

পাকিস্তানের পর ভারত আর শ্রীলঙ্কার নিশ্চিত হয়ে থাকা সূচিতে এবার দেশের মাঠও বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে চলেছে আরেক ‘অচেনা জগৎ’, যেখানে উপমহাদেশের তিন দলকে বেসামাল করার মতো এমন কোনো আহামরি পেস আক্রমণ নেই বাংলাদেশের। আবার স্পিন রণসজ্জায় সফল হওয়ার সম্ভাবনায়ও অনাস্থাই বেশি।

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের মাঠও এবার ‘অচেনা জগৎ’

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

বাউন্সারে ‘ডাক’ করেই সাদমান ইসলাম প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়া তরুণ পেসার রেজাউল হককে এই বলে উৎসাহিত করতে চাইলেন, ‘ম্যাচেও এভাবেই করবি কিন্তু!’

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এর ঘণ্টা দুয়েক আগে পাকিস্তানের নেটে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহরা যেমন বোলিংয়ে জোর দিয়েছেন, তা ওভাবেই মাথা নিচু করে কিংবা সরিয়ে সাদমানদের শর্ট বল ছাড়ার অনুশীলনের উপযোগিতাও বাড়িয়েছে। সে জন্যই কিনা গতকাল দুপুরে মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণের দুই নেটে ব্যাটসম্যানদের থ্রো ডাউনে শুধুই এ রকম বল ছাড়ার এবং খেলার অনুশীলন করিয়ে গেলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ ও হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তাঁরা মোটামুটি নিশ্চিত যে পাকিস্তানের নতুন বলের দুই বোলার মমিনুল হকদের পাঁজরই তাক করবেন।

অবশ্য আগামীকাল থেকে এখানেই শুরু হতে যাওয়া ম্যাচ দিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যে দ্বিতীয় চক্রে ঢুকে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ, সেখানেও যেন পরিস্থিতি আগাম তাঁদের বুকের পাঁজর ঝাঁঝরা করার চোখ-রাঙানিই দিয়ে রাখছে। প্রথম চক্রে পয়েন্ট তালিকায় সবার শেষে থাকা দলের তবু কিছু স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা ছিল। করোনাভাইরাস এসে পৃথিবী এলোমেলো করে না দিলে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের একটি সিরিজও খেলা হয়ে যেত। ২০১৭-র মতো স্পিন ফাঁদ পেতে অন্তত একটি টেস্ট হলেও জেতার ফর্মুলা বের করে নেওয়ার পথও খোলা থাকত।

বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরে সে পথ একদমই রুদ্ধ। কারণ মোট ছয়টি সিরিজের যে তিনটি দেশের মাটিতে, এর কোনোটিতেই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা নয়। নিজেদের মাঠে ধীরগতির অসমান বাউন্সের স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে যাদের নাকাল করে ছাড়ার সুযোগ এবার আর উন্মুক্ত নেই। বরং মুখ হাঁ করে উল্টো তাদেরই গিলে ফেলার হুমকি দিয়ে রাখছে এমন তিন-তিনটি হোম সিরিজ, যেগুলোতে প্রতিপক্ষকে স্পিন বিষে নীল করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বরং আছে পেস আর স্পিনের যুগলবন্দিতে পাল্টা রক্তাক্ত হওয়ার ভয়ও। মধ্যপ্রাচ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর কাল থেকে আরেকটি বিশ্ব আসরের শুরুতেই যেমন পাকিস্তানের ভীতিকর বোলিং আক্রমণ সামনে, যাদের ব্যাটারদেরও স্পিন সামলানোর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পরের দুটি হোম সিরিজও অপেক্ষায় ঘরের মাঠে খেলার স্বাচ্ছন্দ্য কেড়ে নিতে। এখানে এসে যে দুই টেস্টের সিরিজ খেলা নিশ্চিত হয়ে আছে প্রবল পরাক্রমশালী ভারতের। আসবে এই উপমহাদেশেরই শ্রীলঙ্কাও।

কাজেই বাংলাদেশকে চেনা ছক থেকে বেরিয়ে আসতেই হচ্ছে। খুঁজতে হচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ভালো কিছু করার জন্য নতুন ফর্মুলাও। সেই সঙ্গে দেশের বাইরে প্রতিকূল পরিস্থিতির পুরনো চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই। এই পাকিস্তান সিরিজ শেষে যেমন উড়ে যেতে হচ্ছে নিউজিল্যান্ডে। যেখানে টেস্ট তো বটেই, কোনো সংস্করণেই আজ পর্যন্ত একটি ম্যাচও জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এবার সেখানে দুই টেস্টের সফর বিধ্বস্ত হওয়ার পুরনো ছবি বদলানোর নিশ্চয়তা তাই দিতে পারছে না। যেমন পারছে না আগামী মার্চ-এপ্রিলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরও। এই চক্রে তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজের সর্বশেষটি ওয়েস্ট ইন্ডিজে। দূর সেই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জও মমিনুলদের জন্য চেনা কোনো জগৎ নয়।

পাকিস্তানের পর ভারত আর শ্রীলঙ্কার নিশ্চিত হয়ে থাকা সূচিতে এবার দেশের মাঠও বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে চলেছে আরেক ‘অচেনা জগৎ’, যেখানে উপমহাদেশের তিন দলকে বেসামাল করার মতো এমন কোনো আহামরি পেস আক্রমণ নেই বাংলাদেশের। আবার স্পিন রণসজ্জায় সফল হওয়ার সম্ভাবনায়ও অনাস্থাই বেশি। দুয়ে মিলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ক্রিকেট কূটনীতির ব্যর্থতাও কম প্রকাশ্য নয়। ভারতকে এনে বাণিজ্যিক সাফল্যের নিশ্চয়তার সঙ্গে আছে মাঠের পারফরম্যান্সে ব্যর্থতার চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা। ঘরের মাঠে উপমহাদেশের বাইরের কোনো দলকে আনা গেলে যেখানে নিশ্চিন্তে স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলা যেত, সেখানে এখন অন্য উপায় খুঁজে হয়রান স্বাগতিকদের জন্য দেশে আর দেশের বাইরে খেলার মধ্যেও কোনো পার্থক্য রইল না।

দুই জায়গাই যে ভিন্ন জগতের মতো রহস্যময়!



সাতদিনের সেরা