kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

আজ ‘নতুন’ শুরু

মাহমুদ-বাবর দুই মেরুতে

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাহমুদ-বাবর দুই মেরুতে

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাহমুদ উল্লাহ ও বাবর আজম—দুজন অধিনায়ক যেন বিপরীত মেরুর। প্রথমজন সম্ভাব্য আক্রমণের দুশ্চিন্তায় কিছুটা সন্ত্রস্ত, পরেরজন বিজয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েও অবলীলায় আত্মসমালোচনার বিলাসিতা করতে পারছেন। ঘরের মাঠকে সামনে এনে স্বাগতিকদের এগিয়ে রেখে আজ মাঠে নামছেন বাবর। কিন্তু ম্যাচপূর্ব আবহে মনে হচ্ছে হোম কন্ডিশন যেন মাহমুদের গলার কাঁটা!

দুর্দান্ত ক্রিকেটারের প্রেস মিটে এক-আধটু তারকাতোষণ হয়।

বিজ্ঞাপন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে-পরে ব্যাটার বাবর সেসব বরাদ্দ নিলেনই না, ‘আমি কখনোই মনে করি না যে আমার সব কিছু নিখুঁত। উন্নতির সুযোগ সব সময়ই আছে। প্রতিটি ম্যাচের পর নিজের ব্যাটিং বিশ্লেষণ করি। অনুশীলনে যেমন ৫০-৬০ শতাংশ ভুল হয়ে থাকে, চেষ্টা থাকে যত দ্রুত সম্ভব শোধরাতে। প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। নতুন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হয়। আসলে শেখার কোনো শেষ নেই। ’

বিশ্বকাপ-পরবর্তী পৃথিবীতে মাহমুদের ক্রিকেট-দর্শন শোনার লোক নেই। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং একঝাঁক নতুন ক্রিকেটারকে নিয়ে বাবরের পাকিস্তানকে কিভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব? মিরপুরের উইকেটে শাহীন শাহ আফ্রিদির নতুন বলের ঝড় সামাল দেওয়ার সক্ষমতার পক্ষে ঢোল পেটাতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে, ‘শাহীন শাহ ওদের বেশির ভাগ ম্যাচেই বড় ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে নতুন বলে। এই বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। আমরা বিশ্লেষণ করেছি। আশা করি ম্যাচে সেটা প্রয়োগও করতে পারব। ’

আর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের মালিক বাবর আজমের কাছে হাফভলি টাইপ প্রশ্ন গেছে—দুর্দান্ত ফর্মে আছে দল। উল্টো বাংলাদেশ দলে সাকিব-তামিম-মুশফিকের মতো খেলোয়াড় না থাকার সুবিধা কতটুকু? পেশাদারি ভব্যতায় উত্তর দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘এটা বাংলাদেশের হোম সিরিজ। তাই ওদেরকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কয়েকজন ক্রিকেটার নেই। তবে যারা আছে, তারাও কম নয়। ওরা সবাই বিপিএলে খেলে। ওদেরকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ’

বাংলাদেশকে ঘরের মাঠের সুবিধা পাতে তুলে দিচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু সিরিজপূর্ব আবহে হোম কন্ডিশন নিয়ে কোনো বাগাড়ম্বর নেই স্বাগতিক দলের। চিরায়ত ধীরগতির অসমান বাউন্স নাকি ব্যাট-বলের সমধিকারের স্পোর্টিং উইকেট? মাহমুদ প্রত্যাশা করছেন স্পোর্টিং উইকেট। কিন্তু শক্তির পাল্লা ভীষণভাবে ঝুঁকে আছে সফরকারীদের দিকে। তাই প্রশ্ন ওঠে, স্পোর্টিং উইকেট যদি বুমেরাং হয়ে ওঠে? দুঃসময় বলেই কিনা, এমন মানহানিকর প্রশ্নেও ধৈর্য ধরতে হয়েছে মাহমুদকে, ‘সক্ষমতার কথা যদি বলেন, তাহলে বলব দলের ওপর আমার পুরোপুরি ভরসা আছে। সবার সামর্থ্য আছে বলেই দলে জায়গা পেয়েছে। তবে এই সিরিজটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তিন বিভাগেই আমাদের খুব ভালো করতে হবে। ’

দুঃসময় নাকি একবারে ধেয়ে আসে। মাহমুদের ক্রিকেটজীবনের এই পর্বে তাই হয়েছে। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পরপর শুরু হতে যাওয়া সিরিজের আগে মুশফিকুর রহিমকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কে অবশ্য যোগ দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজের মতো সিনিয়রদের নিয়ে বাবরের ভবিষ্যৎ ভাবনা পরিষ্কার, ‘দেশে ফিরে নির্বাচকদের সঙ্গে তাঁদের নিয়ে পরিকল্পনা করব। ’



সাতদিনের সেরা