kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রইলেন বাকি শুধু একজনই

মাসুদ পারভেজ   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রইলেন বাকি শুধু একজনই

না বলেও যেন অনেক কথাই বলা হয়ে গেল মাহমুদ উল্লাহর। একের পর এক প্রশ্নে দলে তাঁর বর্তমান অবস্থান জানতে চাওয়া হলেও নির্বাক থাকার ঢালই ব্যবহার করে যেতে থাকলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তবে সেই ঢালও কখনো কখনো এমন সবাক হয়ে উঠল যে শেষ পর্যন্ত অনেক কিছুই আর আড়ালে থাকল না। যেমন অনেক রেখে-ঢেকে বলার পরও সদ্যঃসমাপ্ত বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় নেতা মাহমুদের একরকম ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ গিয়ে আছড়ে পড়ার ভাগ্যটাও অজানা থাকল না।

যেখানে দৃশ্যত অধিনায়কের পদে তিনি বহাল আছেন ঠিকই তবে কার্যত নেই। নামে যতটা অধিনায়ক, কাজে একদমই তা নন। নন বলেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ সামনে রেখে দল নির্বাচনী আলোচনায় তাঁকে রাখা হয়েছে বলে মাহমুদের কথায় অন্তত মনে হয়নি। তাই বিশ্রামের মোড়কে টি-টোয়েন্টি দল থেকে মুশফিকুর রহিমকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে ঢুকতেই চাইলেন না। বারবারই এই বলে আড়াল খুঁজতে চাইলেন যে ‘টিম ম্যানেজমেন্টের কাউকে প্রশ্নটি করলে সম্ভবত ভালো হবে।’

অথচ হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো আর টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টের অপরিহার্য সদস্য থাকার কথা অধিনায়কেরও। সেখানে তাঁর মতামত অগ্রাহ্য করা পরের বিষয়, এর আগে তো আলোচনায় প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। সেটি থাকলে কী আর মাহমুদকে না বলতে চাওয়া কথাও এভাবে বলে ফেলতে হয়, ‘আমার অবস্থান নিয়ে যদি আমি কিছু বলতে চাই, তাহলে অনেক কিছু বলতে হবে; যেটা অনেক ভেতরের কথা। যা-ই হোক, এসব এখন বলা উচিত বলে আমার মনে হচ্ছে না।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে যখন আচরণবিধির কঠিন শিকলেও বাঁধা মাহমুদ, তখন বাদ পড়ে সেটি ছিঁড়ে বের হওয়ার চেষ্টাও দেখা গেছে মুশফিকের মধ্যে। গত পরশু দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একহাত নিয়েছেন নির্বাচকদেরও। মুখ খোলা মুশফিক আর মুখ না খোলা মাহমুদ—দুজনই যেন বিশ্বকাপের পরে এসে দাঁড়িয়েছেন একই বিন্দুতে। একজন অধিনায়ক হিসেবে বহাল আছেন আপাতত নেতৃত্বে অন্য কোনো বিকল্প না থাকায়। ঘটনাচক্র মাহমুদকে টিকিয়ে রাখলেও নেতা হিসেবে প্রাপ্য ক্ষমতাও আগের মতো নেই। আর মুশফিক তো দলেই নেই। দুজনের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থাপত্র হলেও কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে তাঁদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার বার্তাটা একই।

যেন আগাম বেলা শেষের ‘ডাক’ই শুনিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। সে ডাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশ থেকে এরই মধ্যে ঝরে পড়েছেন আরো কেউ কেউ। মাশরাফি বিন মর্তুজা গেছেন আরো আগেই। গত বছরের মার্চে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলে নেতৃত্ব ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তখনই ছাড়েননি এই সাবেক অধিনায়ক। তবে শুধুই সাধারণ সদস্য হিসেবে খেলার জন্য আর কখনোই ডাক না পাওয়ায় নীরবেই শেষ হয়ে গেছে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। চোট-আঘাতসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি না খেলা তামিম ইকবালেরও আর কখনো এই সংস্করণে খেলার ইচ্ছার কথা শোনা যায়নি। এঁদের সঙ্গে এবার মুশফিক-মাহমুদদেরও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ার বাস্তবতায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বা ‘ফ্যাব ফাইভ’-এর একজনই শুধু অপরিহার্য এখন। তিনি সাকিব আল হাসান।

পারফরম্যান্স আর কার্যকারিতার যোগফলে এই অলরাউন্ডারের জায়গা প্রশ্নাতীত হলেও প্রশ্ন উঠে গেছে মুশফিক-মাহমুদকে নিয়ে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত জানানোর ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে কমিউনিকেশন গ্যাপ বা যোগাযোগের ফাঁক নিয়েও প্রশ্ন আছে। মুশফিক সোচ্চার হয়েছেন সেটি নিয়েই। তিনি দলেই নেই, কিছুদিন পর একই ভাগ্য হতে পারে ঘটনাচক্রে দলে থাকা মাহমুদেরও। লম্বা সময় জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার পর এভাবে তাঁদের অন্ধকারে রেখে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। বিশেষ করে তাঁদের কারোরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের যখন আর খুব বেশি দিন বাকিও নেই।

বাকি সময়টায় তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মাহমুদের, ‘প্রথমত আমার মনে হয়, এই অবস্থায় কোনো মন্তব্য না করাই ভালো। চোট না পেলে ও সুস্থ থাকলে আরো কয়েক বছর খেলার সুযোগ পাব। চ্যালেঞ্জ থাকবে, চাপ থাকবে, সেগুলো সামলেই খেলতে হবে। এসব নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার বিষয়েই সচেষ্ট থাকতে হবে।’

বিশ্বকাপে সেরাটা দিতে না পারার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অবশ্য দলে জায়গা এবং গুরুত্ব হারিয়ে বসে আছেন মুশফিক-মাহমুদরা। সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্যে সাকিবকেই শুধু এসবের কিছু ছুঁতে পারেনি এখনো!



সাতদিনের সেরা