kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

অস্বস্তির শেষ কোথায়?

১৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবল নির্বাচকদের নিয়ে কোথাও আলোচনা হয় না, যাবতীয় প্রশংসা এবং সমালোচনা কোচের জন্য বরাদ্দ। দলের কোচই যে দল নির্বাচন করেন। সেখানে ক্রিকেটে পুরো উল্টো; অধিনায়ক-কোচ চাহিদা পেশ করেন, সেসব বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার নির্বাচক কমিটির। এই কারণেই দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক কিংবা তাঁর সহকর্মীদের কেউ।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মিরপুরে দুই সহকর্মী হাবিবুল বাশার ও আব্দুর রাজ্জাককে দুপাশে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন মিনহাজুল। বোধগম্য কারণেই বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে এই দল নিয়ে কৌতূহল যতটা না ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ঘোষিত দলের ব্যবচ্ছেদ করার আগ্রহ। সেরকম প্রশ্নই ধেয়ে গেছে প্রধান নির্বাচকের দিকে। সেসবের উত্তর শুনে মনে হয়েছে উভয় সংকটে আছেন মিনহাজুল।

বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে যেমন চারজনকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। সঙ্গে সাকিব আল হাসানের চোট এবং নুরুল হাসানের বিকল্প মিলিয়ে ১৬ জনের স্কোয়াডে ছয়টি পরিবর্তন কম হয় কী করে। প্রধান নির্বাচককে তাই পরিবর্তনের পক্ষে সাফাই গাইতে হয়েছে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কথা বলে। আবার একটা বিশ্বকাপ দিয়ে দলকে বিচার করায় রাজি নন মিনহাজুল, ‘একটা বিশ্বকাপ ভালো না খেলায় এই দলটাকে বাদ দেওয়া যাবে না। ’ ক্রিকেটীয় চিন্তাধারার সঙ্গে মানানসইও তাঁর ‘রায়’। বিশ্বকাপে বাজে ফল করা মাহমুদ উল্লাহর দলটাই কিন্তু আমিরাতে যাওয়ার আগে তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল।

যদিও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা সেই দুই সিরিজের প্রতিপক্ষ দলের শক্তি এবং মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে। বিশ্বকাপের মাঠ থেকে জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও দেশে ‘স্পোর্টিং উইকেট’ তৈরির প্রয়োজনীতার কথা বলেছিলেন। হতে পারে, এখন সেসব বিবেচনায় নিচ্ছেন মিনহাজুলও। নইলে কেন একটি আসরের ব্যর্থতার পরই ‘নতুন পথচলা’র কথা বলবেন তিনি।

পাকিস্তান সিরিজের দল গঠন নিয়েও নিরন্তর গবেষণা হয়েছে। গত পরশু বিকেলে দল ঘোষণার কথা থাকলেও সেটি টেবিলে পড়ে থাকে আরো ২৪ ঘণ্টা। অথচ অলিখিত জাতীয় দল নামে ১৩ নভেম্বর থেকেই মিরপুরে খালেদ মাহমুদের অধীনে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। গতকাল অনুশীলনের সময় দফায় দফায় সভা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। নির্বাচকদের কক্ষে কয়েক রাউন্ডের সেই সভায় একবার ডাকা হয় মিরপুরের কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকেও। এটা নিশ্চিত যে এই শ্রীলঙ্কানের কোনো হাত নেই জাতীয় দল নির্বাচনে। হতে পারে উইকেটের সম্ভাব্য আচরণ জানতেই ডাক পড়েছিল গামিনির।

আশার কথা, দল নির্বাচনী সভায় একবার ডাক পড়েছিল জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোরও। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর যাঁকে অনুশীলন সূচির আশপাশেই শুধু দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপ থেকেই শোনা যাচ্ছিল, এই দক্ষিণ আফ্রিকানের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঢাকায় ফেরার পর ডমিঙ্গোর আচরণেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি কোনো আকর্ষণ অবশেষ আছে বলে মনে হচ্ছে না!

একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে ডমিঙ্গোকে ঘিরে। বাইরে থেকেই দৃশ্যমান। ড্রেসিংরুমের ভেতরের অবস্থা কী, কে জানে!



সাতদিনের সেরা