kalerkantho

রবিবার । ৯ মাঘ ১৪২৮। ২৩ জানুয়ারি ২০২২। ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বোর্ডের হাতে মাহমুদের ভাগ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বোর্ডের হাতে মাহমুদের ভাগ্য

যে জিজ্ঞাসায় বিব্রত হতে হয়েছিল স্টুয়ার্ট ব্রড ও এউইন মরগ্যানকে, এবার সেই একই অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে থাকল মাহমুদ উল্লাহর জন্যও। এবং সেটি শুধুই ব্যর্থতার বিশ্বকাপ অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাঁর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসতে না বসতেই।

ব্রডকেও তা-ই। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে সেই হারের পর সংবাদ সম্মেলনে আসতে না আসতেই অধিনায়ক ব্রডকে এক ইংরেজ সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা ছিল এ রকম, ‘আপনার কি এখনো মনে হয় যে আপনি ওই চেয়ারে (ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে) বসার যোগ্য?’

প্রায় একই রকম দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ২০১৫ সালের অ্যাডিলেইডেও। ওয়ানডের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়কের কাছে ছুটে যাওয়া প্রশ্নের প্রথম তীরটিই ছিল এ রকম, ‘কবে অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন আপনি?’

সেবার যাঁর সেঞ্চুরিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দুর্ভাগ্য লেখা হয়েছিল ইংল্যান্ডের, এবার সেই মাহমুদ উল্লাহর জন্যও বরাদ্দ থাকল একই রকম সুচালো তীর। তবে একটু অন্যভাবেই, ‘২০১৫-এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে মরগ্যানকে প্রথম প্রশ্নই করা হয়েছিল যে তিনি কবে অধিনায়কত্ব ছাড়বেন? এবার এই বিশ্বকাপের মঞ্চে আপনাকেও একই প্রশ্ন করা হলে কি মাইন্ড করবেন?’

মৃদু হাসিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ‘না’ বলতেই পরের প্রশ্ন, ‘তাহলে আপনি কি নেতৃত্ব ছাড়বেন?’ মাহমুদ একই সঙ্গে বিসিবির কোর্টে বল ঠেলে দিলেন যেমন, তেমনি নিজের ভুল স্বীকারেও অকাতর হলেন, ‘এটি তো আমার হাতে নেই। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেই আসবে। আমার তরফ থেকে সব সময়ই চেষ্টা করেছি দলটিকে আগলে রাখতে এবং ভালো পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে। নিশ্চিতভাবে আমার অধিনায়কত্বে হয়তো ভুল ছিল, আমি ওভাবে পারফরম্যান্স আদায় করে নিতে পারিনি। ’

গত জুলাইতে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট প্রত্যাবর্তনেই সেঞ্চুরি করে সতীর্থদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে আর খেলবেন না এই সংস্করণ। সুসময়ে টেস্ট থেকে অবসরে যাওয়া মাহমুদ কি এই ঘোর দুঃসময়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেও বিদায় বলবেন? এমন বাউন্সারও ডাক করে গেলেন তিনি, ‘এই মুহূর্তে আমি এ রকম কিছু ভাবছি না। ’

মাহমুদ ভেবে কূল-কিনারা করতে পারছেন না যে কেন এ রকম একটি বিশ্বকাপ গেল, যেখানে বলার মতো নেই একটি পারফরম্যান্সও। উত্তর খুঁজে হয়রান অধিনায়কের কাছে এর রহস্যোদ্ধার যেন ফেসবুকে অনেকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের মতোই ‘কমপ্লিকেটেড’। ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিরুপায় মাহমুদ বলছিলেন, “আমার কাছেও ব্যাপারটি ‘কমপ্লিকেটেড’। আমি নিজেও এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। অনেক প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেরও জানা নেই। ”

তবে ব্যর্থতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি ব্যাপার অন্তত চিহ্নিত করতে পারছেন। সেটি কী? মাহমুদের ভাষায় সেটি ‘ফ্লো’ বা ছন্দ। শুরুটা বাজে না হয়ে অন্য রকম হলে ফলও ব্যতিক্রম হতে পারত বলে উপসংহার টানলেন অধিনায়ক, ‘আপনারা যদি বিগত সিরিজগুলোর দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন যে প্রথম ম্যাচটি জিতেই আমাদের মধ্যে দারুণ ছন্দ চলে এসেছিল। আমাদের দলের জন্য এই ছন্দ ধরাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো আসর যখন শুরু করি, তখন এটা দরকার। আমাদের আত্মবিশ্বাসের জন্য ওই ছন্দটা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। শুরুতে ওটাতেই ব্যাঘাত ঘটেছে। তারপর আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যদি আমরা প্রথম ম্যাচটি জিততে পারতাম, তাহলে সেই ছন্দটা আসত এবং সবার আত্মবিশ্বাসও আরো বাড়ত। কিন্তু এখন এসব আর বলে লাভ নেই। আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। ’



সাতদিনের সেরা