kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ম্যাচের পর

আফগানদের নির্মল আনন্দ

কাবুল শহরে ছোট্ট চায়ের দোকান চালান ৫০ বছর বয়সী শ্মশ্রুমণ্ডিত নাসির খান নাসেরি। ঘনিয়ে আসা শীতে তাঁর দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতে পরশু মুজিবউর রহমান, নাজিবুল্লাহ জারদানদের ক্রিকেট উপভোগ করেছেন স্থানীয়রা।

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আফগানদের নির্মল আনন্দ

কাবুল শহরে ছোট্ট চায়ের দোকান চালান ৫০ বছর বয়সী শ্মশ্রুমণ্ডিত নাসির খান নাসেরি। ঘনিয়ে আসা শীতে তাঁর দোকানে চায়ে চুমুক দিতে দিতে পরশু মুজিব উর রহমান, নাজিবুল্লাহ জারদানদের ক্রিকেট উপভোগ করেছেন স্থানীয়রা। সশস্ত্র দুই তালেবান যোদ্ধাও তাঁদের সঙ্গে সেই আনন্দে শামিল ছিলেন। সেখানে এএফপির প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নাসির খান বলছিলেন, ‘যুদ্ধ-হানাহানিতে আমাদের দম আটকে আসে। আমরা সব সময় এই নির্মল আনন্দটাই পেতে চাই।’

৫ উইকেট নিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচসেরা মুজিবও বলেছেন এই সাধারণ মানুষই তাঁদের অনুপ্রেরণা, ‘দেশের মানুষই আমাদের শক্তি। তাঁরা ক্রিকেটারদের যেভাবে সমর্থন দিয়ে গেছেন, আমাদের পাশে থেকেছেন, তার জন্যই আজ আমরা এত ভালো খেলতে পেরেছি।’

গত পরশু আফগানরা এমন দাপুটে ক্রিকেটই খেলছে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় জয়ের সেরা তিনে ঢুকে গেছে তাদের এই ম্যাচটি। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ১৭২ রানের জয়টিই এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরপর ২০০৯ সালে এই স্কটল্যান্ডকেই ১৩০ রানেই হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পরশু ১০.২ ওভারে তেমনই বড় জয় তুলে নিয়েছে আফগানরা। নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের হতাশার রেকর্ডটাও মুছেছে তারা এই জয়ে। ২০১২-তে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তারা যে ১১৬ রানে।

অথচ এবারের বিশ্বকাপে আফগানদের অংশ নেওয়াটাই পড়েছিল হুমকির মুখে। তালেবানের ক্ষমতা দখলে মেয়েদের ক্রিকেট নিষিদ্ধ হলে আফগান ক্রিকেট বোর্ডকেই হয়তো নিষিদ্ধ করত আইসিসি। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাহজাদ, জাজাইদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও পড়েছিল বাধা। ভিসা জটিলতায় আরব আমিরাতে প্রত্যাশিত সময়ে প্রস্তুতি ক্যাম্পও করতে পারেনি তারা। আইপিএলের কারণে মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান ছিলেন আমিরাতেই। বাকিরা কাতারে আলাদা ক্যাম্প করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এই দলটিই খেলেছে ভয়ডরহীন আনন্দদায়ী ক্রিকেট। নবী জানতেন প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে ক্রিকেট দিয়েই হাসি ফেরাতে হবে আফগানদের মুখে। এদিন সেটাই করেছেন তাঁরা। এএফপি



সাতদিনের সেরা