kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

লিটন কি আরেক আশরাফুল?

পরেরটি আবার কবে? ব্যাটিংয়ে বড্ড অধারাবাহিক লিটন কুমার দাসের প্রতিটি বড় ইনিংসই প্রশংসার পাশাপাশি বয়ে আনে এই প্রশ্নও।

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিটন কি আরেক আশরাফুল?

পরেরটি আবার কবে? ব্যাটিংয়ে বড্ড অধারাবাহিক লিটন কুমার দাসের প্রতিটি বড় ইনিংসই প্রশংসার পাশাপাশি বয়ে আনে এই প্রশ্নও।

এনেছিল গত জুলাইতে জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম ওয়ানডের পরও। যে ম্যাচে নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা এই ওপেনারের ব্যাটে এর পর থেকে আর বড় ইনিংসের দেখাই নেই। তিন অঙ্কের স্কোর দূরের কথা, এমনকি নেই কোনো ফিফটিও। অথচ এর মধ্যেই ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে খেলা হয়ে গেছে ১১টি ইনিংস। সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ৩৩ রানের। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও চার ম্যাচে ৫৬ রান তাঁর নাম আর প্রতিভার সঙ্গে মানানসই নয় একদমই।

যদিও বাংলাদেশে যুগে যুগে প্রতিভাবান বলে চিহ্নিত হয়ে আসা ব্যাটারদের কাছে ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা দূরের বাতিঘর হয়েই থেকেছে। মাঝখানে লম্বা বিরতি দিয়েই তাঁদের ব্যাটে দেখা গেছে বড় ইনিংসের ঝলক। পরেরটির জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষায় থেকে থেকে ভেঙেছে ধৈর্যের বাঁধও। কিন্তু প্রতিভাবান হওয়াটা তাঁদের ক্ষেত্রে এমন বর্ম হয়ে উঠেছে যে দিনের পর দিন সুযোগ পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হতে হয়নি।

বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে ধরলে এ রকম ব্যাটার সব সময়ই কেউ না কেউ ছিলেন। এই যেমন প্রতিভাবান বলে বিবেচিত আল-শাহরিয়ারকে একসময় অনেক সুযোগ দিয়েও তাঁর সেরাটা বের করা যায়নি। টেস্ট অভিষেকেই ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান বনে যাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটি একটু ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একসময়ের প্রায় প্রতিটি কালোত্তীর্ণ জয়েই তাঁর ব্যাট হেসেছে। কিন্তু একটি বড় ইনিংস খেলার পর দীর্ঘ সময় ব্যর্থতায় ডুব দিয়ে থাকতেন এই সাবেক অধিনায়কও!

এখন যেমন দিয়ে আছেন লিটনও। তিনি কি তবে আরেক আশরাফুল? প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না বলেই কিনা প্রতিভা আর পারফরম্যান্সের ফারাক তুলে ধরে পূর্ব প্রজন্মের ঝাণ্ডা উড়িয়ে রেখেছেন লিটনও। টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স দিয়ে আপাতত আশরাফুল আর লিটনকে আলাদা করারও সুযোগ নেই তেমন। ২৩টি টি-টোয়েন্টি খেলা আশরাফুলের ব্যাটিং গড় যেখানে ১৯.৫৬, সেখানে ৪২ ম্যাচ খেলা লিটনেরও প্রায় একই (১৯.১৭)। তবে গড়ের চেয়েও কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে যেটি বেশি জরুরি, সেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও তাঁরা দুজন কাছাকাছিই। স্ট্রাইক রেট অন্তত বলছে সে কথাই (আশরাফুলের ১২৪.৪০, লিটনের ১২৭.৬২)। দ্রুত রান তোলার দাবি মেটাতে পারলেও নিয়মিত বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ দুই প্রজন্মের দুই প্রতিনিধিই।

আশরাফুল এখানে অতীতের ছবি আর লিটন বর্তমানের!



সাতদিনের সেরা