kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নাঈমে ভর দিয়ে আছেন তামিমও

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাঈমে ভর দিয়ে আছেন তামিমও

দুজনের ভাগ্য মোটামুটি একই রকম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও এক প্রান্ত আগলে রাখা ব্যাটিংয়ে দলের লড়াকু পুঁজির নিশ্চয়তা হয়ে উঠতে চান তাঁরা। কিন্তু তেমন ব্যাটিং করতে গেলে আবার একটু দেখেশুনে খেলারও দাবি থাকে। সেই দাবি মেটাতে যাওয়ারও অন্য পিঠ আছে। তখন ‘৩০ বলে ৫৫’ ধরনের বিধ্বংসী ইনিংসও হয় না। দিনের শেষে যখন দল হারে, তখন এমন ব্যাটিংয়ে উল্টো স্ট্রাইক রেট নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। তাঁদের দুজনের ক্ষেত্রেই তা হয়ে আসছে।

প্রথমজন তামিম ইকবাল নিজে থেকেই বিশ্বকাপ দল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আপাতত দেশে ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায়। এখানে তিনি সশরীরে নেই। তবে না থেকেও আছেন অশরীরে। কারণ এই বাঁহাতি ওপেনারের না থাকার মাঝেও ব্যাটিংয়ে তাঁর ধরনটা দেখা যাচ্ছে আরেকজনের ব্যাটে। সেই তিনিও তামিমের মতো বাঁহাতি ওপেনার, নাঈম শেখ।

এই বছর টানা ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলে একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন এই বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে। ওমানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেই ৬৪ রানের ইনিংসে উইকেটে টিকে থাকেন ১৬.৪ ওভার পর্যন্ত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার টুয়েলভ পর্বের প্রথম ম্যাচেও ৬২ রানের ইনিংস খেলে আউট হন ১৭তম ওভারে।

এভাবেই চলতি আসরে দুই ম্যাচে ‘অ্যাংকরিং’ করলেন নাঈম, যা করতে গিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের তামিমকে নিত্যই স্ট্রাইক রেট নিয়ে দু-চার কথা শুনে আসতে হয়েছে। তামিমের খেলা সর্বশেষ তিনটি টি-টোয়েন্টির সঙ্গে মেলালে দেখা যাচ্ছে নাঈমের এই আসরের ব্যাটিংয়ের ধরনেও খুব বেশি ব্যতিক্রম নেই।

তামিমের অবশ্য সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলার দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের লাহোরেও খেলেছিলেন দুটি ম্যাচ। যে দুই ম্যাচে তাঁর স্কোর ছিল ৩৪ বলে ৩৯ ও ৫৩ বলে ৬৫! স্ট্রাইক রেট ছিল যথাক্রমে ১১৪.৭০ এবং ১২২.৬৪। আগের বছরের মার্চে নিজের সবশেষ কুড়ি-বিশের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২৪.২৪ স্ট্রাইক রেটে ৩৩ বলে করেছিলেন ৪১ রান। ওই তিন ম্যাচে তামিম আউট হয়েছিলেন ১১, ১৮ ও ১১তম ওভারে।

এই বিশ্বকাপে না থেকেও তাই তামিম যেন আছেন নাঈমে ভর দিয়েই। ওমান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তরুণ বাঁহাতির দুই ফিফটি পেরোনো ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ১২৮ ও ১১৯! সেটি আরো বাড়ানো যেত কি না, শ্রীলঙ্কার কাছে হারার পর সেরকম প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। যদিও নাঈমের নিজের পরিকল্পনাটা নেমেই মারদাঙ্গা ব্যাটিং শুরু করার নয়, ‘আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানেরই ব্যক্তিগত পরিকল্পনা থাকে। সেরকম আমারও আছে। আর খেলাটাও খেলতে হয় উইকেট, কন্ডিশন দেখে নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে।’

টি-টোয়েন্টিতেও তাই এক প্রান্ত আগলে রাখা ব্যাটিং করতে পারা নাঈমের আত্মবিশ্বাসের পালেও লেগেছে জোর হাওয়া, ‘আমি সব সময়ই চাই রান করতে। রান করলে যেকোনো ব্যাটসম্যানেরই আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে। বিশেষ করে কোনো আসর থাকলে ধারাবাহিকভাবে রান করার দিকে আমার মনোযোগটাও বেশি থাকে।’ 

বিশ্বকাপের মতো আসরে আপাতত ধারাবাহিক নাঈমের ব্যাটিংয়ে আবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না-থাকা তামিমকেও!



সাতদিনের সেরা