kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ডায়েরি

ভাগ্নের কীর্তিতে নিজের দুঃখ ভোলা মামা

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাগ্নের কীর্তিতে নিজের দুঃখ ভোলা মামা

৫৭ বছর বয়সী গ্রেগ ক্যাম্পবেলের জন্য এটি প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র চারটি টেস্ট ও ১২টি ওয়ানডে খেলা এই সাবেক ডানহাতি পেসারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লম্বা হতে দেয়নি কবজি এবং হাঁটুর চোট।

ক্রিকেটীয় ব্যস্ততা তাঁদের এমন বিচ্ছিন্ন করে রাখে যে আজকাল মামা-ভাগ্নের আর তেমন একটা দেখা-সাক্ষাত্ই হয় না। হবে কী করে? একজনের যখন অবসর, আরেকজনকে তখন ছুটে চলতে হয় বিরামহীন। তবু ফোনে যোগাযোগটা নিয়মিতই হয়।

কথা হয়েছে মাসকাটে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব চলাকালীনও। এই পর্ব পেরিয়ে পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) সুপার টুয়েলভে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই না থাকায় আগেভাগে দেশে ফেরার টিকিট কেটে রাখা ছিল। সেই ফ্লাইট নিয়ে জটিলতার জট ছোটানোর ব্যস্ততার মধ্যেই ফোনে ভাগ্নের অবস্থান জানতে পারেন মামা, ‘ও তো এখন আইপিএল থেকে গিয়ে সিডনিতে রুম কোয়ারেন্টিনে আছে। আমার প্রথম বিশ্বকাপ কেমন যাচ্ছে, তা জানার জন্যই আসলে ফোন দিয়েছিল।’

৫৭ বছর বয়সী গ্রেগ ক্যাম্পবেলের জন্য এটি প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র চারটি টেস্ট ও ১২টি ওয়ানডে খেলা এই সাবেক ডানহাতি পেসারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লম্বা হতে দেয়নি কবজি এবং হাঁটুর চোট। খেলা হয়নি কোনো বিশ্বকাপও। নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ১৯৯০-এর এপ্রিলে শারজায় অস্ট্রেলেশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাঁর ১৮ ওয়ানডে উইকেটের সর্বশেষটিও সেই বাংলাদেশ দলের ওপেনার জাহিদ রাজ্জাক মাসুমের।

সেই ম্যাচটির কথা কিছুতেই মনে করতে না পারা ক্যাম্পবেলকে অবশেষে একটি বিশ্বকাপের অংশ হতে পারার অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা পিএনজি। খেলা ছাড়ার পর ক্রিকেটেই নানা বাঁক ঘুরে ক্যাম্পবেল অনেক বছর ধরেই দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই সূত্রেই মাসকাটে আসা মামা খুব সুখ্যাত না হলেও তাঁর ভাগ্নে অবশ্য ক্রিকেট কীর্তির ডানায় চড়ে খ্যাতির শীর্ষেই উঠেছেন। তিনি কে? রিকি পন্টিং।

এই তাসমানিয়ান খেলেছেন পাঁচ-পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনির্বচনীয় অনুভূতিতেও ভেসেছেন তিনবার। এর মধ্যে দুইবার (২০০৩ ও ২০০৭) আবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিতেছে পন্টিংয়ের নেতৃত্বেই। টেস্ট আর ওয়ানডে, দুই সংস্করণেই ১৩ হাজারের ওপর রান তাঁকে এনে দিয়েছে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতিও। খেলা ছাড়ার পর মামার মতোই ক্রিকেটেই আছেন পন্টিংও। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অধিনায়ক।

হাই প্রফাইল এই ভাগ্নের তুলনায় ক্যাম্পবেল এমন কিছুই নন। পিএনজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির রাজধানী পোর্ট মরিসবিতে থিতু হওয়া এই সাবেক ক্রিকেটারের আফসোস আছে নিজের খেলোয়াড়ি জীবন নিয়েও, ‘চোট-আঘাত সমস্যা না করলে হয়তো আমিও বিশ্বকাপ খেলতাম। কিন্তু কী আর করা যেত। হ্যাঁ, দুঃখ আছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশি দিন খেলতে পারিনি বলে।’

সেই দুঃখ ভোলাতে অবশ্য পন্টিংও আছেন, ‘আমার অর্জন এমন কিছুই নয়। তবে এটি ভাবলে ভালো লাগে যে আমাদের পরিবারেরই আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অনেক কিছু জিতেছে এবং অনেক কিছু করেছেও। রিকির জন্য আমি গর্বিত। আপনারাই তো ওকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বলে থাকেন। এমন একজনের জন্য গর্ব করাই যায়। আমি যা যা পারিনি, তার সবই সে করেছে। যার সবই আমার দুঃখ ভুলিয়ে দেওয়ার মতো।’ দুঃখ ভোলানো ভাগ্নের ক্রিকেটজীবনের শুরুর সঙ্গেও জড়িয়ে আছেন মামা ক্যাম্পবেল, ‘রিকির ছোটবেলায় ওকে নিয়ে বাড়ির উঠানে ক্রিকেট খেলতাম। এরপর ক্লাব ক্রিকেটও একসঙ্গেই খেলেছি আমরা।’

তাসমানিয়ান ক্লাব মৌব্রে’র হয়ে নিজের জুনিয়র পর্যায়ের পুরোটা সময় পার করা পন্টিং কিছুদিন সিনিয়র ক্রিকেটও খেলেছেন একই দলের হয়ে। এরপর একের পর এক উত্থানের সিঁড়ি ডিঙিয়ে ভাগ্নে এমন উচ্চতায় যে মাথা উঁচু তাঁর মামারও!



সাতদিনের সেরা