kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

এই হার দায় নয়, ভুল

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের কারণ হিসেবে ওই দুটি ক্যাচ ফেলার প্রসঙ্গ আসতেই মুশফিক বললেন, ‘আসলে দায় দেওয়ার কিছু নেই। আমরা যত রানই করি না কেন, ছোটখাটো কিছু ভুল থাকেই। আবার কিছু ইতিবাচক দিকও থাকে। আমাদের আজ যে ভুল হয়েছে, সেটি হলো লিটনের দুটি ক্যাচ।’

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই হার দায় নয়, ভুল

আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন যে এই দিনটিতে কাজে যাবেন না। না গেলে এক দিনের বেতন কাটা যাবে, এটি জানা থাকার পরও কাজ ফেলে শারজা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের খেলা দেখতে ছুটে এসেছিলেন আশিকুর রহমান। সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ি ফেরার সময় মাহমুদ উল্লাহদের হারের হতাশার সঙ্গে যোগ হলো এক দিনের বেতন বিসর্জনে যাওয়ার কষ্টও, ‘জিতলে আরো কয়েক দিনের বেতন কাটা গেলেও কষ্ট পেতাম না, কিন্তু ক্যাচ ফেলে হারলাম বলে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

শারজাই বলুন কিংবা দেশের প্রত্যন্ত কোনো অঞ্চল, সব খানেই ক্যাচ ফেলে ম্যাচ হারানোর জন্য লিটন কুমার দাসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো মনোভাবটি একই হওয়ার কথা। শ্রীলঙ্কা ম্যাচ শেষ হওয়ারও ঘণ্টাখানেক পর  স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হয়ে থাকা সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মতো অন্তত এই একবিন্দুতে এসেই মিলতে দেখলাম। যেখানে দায়ী করা হচ্ছে ব্যাট হাতেও ইদানীং বাজে সময় পার করতে থাকা লিটনকেই। যদিও ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের ইনিংসে বাজে সময়কে আপাতত পেছনে ফেলতে পারা মুশফিকুর রহিম দুটি ক্যাচ ফেলার ঘটনায় লিটনের কোনো দায় দেখছেন না।

যা তিনি দেখছেন, তা শুধুই ভুল। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হারের কারণ হিসেবে ওই দুটি ক্যাচ ফেলার প্রসঙ্গ আসতেই মুশফিক বললেন, ‘আসলে দায় দেওয়ার কিছু নেই। আমরা যত রানই করি না কেন, ছোটখাটো কিছু ভুল থাকেই। আবার কিছু ইতিবাচক দিকও থাকে। আমাদের আজ যে ভুল হয়েছে, সেটি হলো লিটনের দুটি ক্যাচ।’ প্রথমটি আফিফ হোসেনের বলে ১৪ রানে থাকা ভানুকা রাজাপক্ষের। দ্বিতীয়টি ৪৯ বলে ৮০ রানের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংসে ম্যাচ ভাগ্য গড়ে দেওয়া চারিথ আসালঙ্কার। তখন ৬৩ রানে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফেরানো গেলেও জয়ের আশা টিকে থাকত।

মুশফিকের মতে দুর্দান্ত ফিল্ডার হওয়ায় লিটনের কাছে সবার প্রত্যাশাই বেশি। দুটি ক্যাচ ফেলার জন্য তাই হতাশাও বেশি বলেই মনে হচ্ছে তাঁর, ‘সে কিন্তু খুব ভালোমানের ফিল্ডার। ব্যাপারটি আমার কাছ থেকে হলে হয়তো এত আশা কেউ করত না। আর ওই সময়টিও (ক্যাচ ফেলার) খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ অবশ্য আসালঙ্কা আর রাজাপক্ষের জুটি ভাঙা গেলে যে ম্যাচ ভাগ্যও বদলে যেত, সেটিও প্রকাশে দ্বিধা নেই মুশফিকের, ‘ওদের দুই বাঁহাতি দারুণ ব্যাটিং করছিল। ওই সময় দুটি উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচ ঘুরেও যেতে পারত।’

শারজার উইকেটে ১৭১ রান স্কোরবোর্ডে জমা করেও খুব সুস্থির হতে পারছিল বা বাংলাদেশ শিবির। তাই বলে অস্থিরতাও ছিল না। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই রানও ডিফেন্ড করার উপায় খুঁজছিলেন মাহমুদ উল্লাহরা। সুযোগ এসেও গিয়েছিল।

সেটি হেলায় হারানোর পরও শুনতে হচ্ছে, ‘আজকের উইকেটটি বেশ ভালো ছিল। এই উইকেটে অবশ্য (আগে) কম রানই দেখেছি। আমরাও জানতাম যে ১৭০ হয়তো জেতার স্কোর না, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে যে জেতা সম্ভব, আমরা সেটিও জানতাম। ওরা পাওয়ার প্লের ৬ ওভার খুবই ভালো কাজে লাগিয়েছে।  সাকিবও আমাদের ছন্দ ধরে দিয়েছিল, কিন্তু ওদের দুই সেট ব্যাটসম্যান সব বদলে দেয়। সার্বিকভাবে বলব, এতে দায় দেওয়ার কিছু নেই। কিছু ভুল হয়েছে, সে জন্য ম্যাচটি জিততে পারিনি।’ 

দল না জিতলেও রানে না থাকা মুশফিক রানে ফিরলেন অবশেষে। রানে ফেরার আগ পর্যন্ত সমালোচনার স্রোত ভাসিয়ে নিতে চেয়েছে তাঁকেও। গঠনমূলক সমালোচনার বদলে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ‘ছোট করা’র ঘটনায় দলের আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। সমালোচকদের দলে ছিলেন ‘ঘরের লোক’ও। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের ইঙ্গিত ছিল বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের দিকেই। শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হারার পরেও থাকল সেই ঘটনার রেশ। মুশফিককে বলতে শোনা গেল, ‘মাঠের বাইরে তো নানা রকম কথা হবেই। ক্রিকেটার হিসেবে আপনি ভালো করলে সবাই তালি দেবে আর খারাপ করলে গালি দেবে, এটিই নিয়ম। আর এটি আমার প্রথম বছরও নয়। আলোচনাটি এমন যে আমি ৫-৬ বছর ধরেই রান করছি না। ১৬ বছর ধরে আমি এসব দেখে আসছি। যারা আমাদের নিয়ে এসব বলে, তাদের উচিত নিজেদের চেহারাটা আয়নায় দেখা।’  

শ্রীলঙ্কার কাছে হারটিও নিজেদের আয়নায় দেখেছেন মুশফিকরা। যে আয়নায় লিটনের দু-দুটি ক্যাচ ফেলা দায় নয়, ভুল!



সাতদিনের সেরা