kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শ্রীলঙ্কা মানেই বৈরিতার উষ্ণতা

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রীলঙ্কা মানেই বৈরিতার উষ্ণতা

দুটি ম্যাচেই আছে বৈরিতার উষ্ণতা। এর মধ্যে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ে বাড়তি উত্তাপ মিশে থাকার ইতিহাস বহুদিনের। তুলনায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ে ঝাঁজ যুক্ত হওয়ার ঘটনা একেবারেই সাম্প্রতিক। আর এই দুটি ম্যাচই কিনা মাঠে গড়াচ্ছে একই দিনে।

বিজ্ঞাপন

দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সম্ভাব্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আগেই শারজাহতে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা; যাদের সঙ্গে ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের বৈরিতার শুরু খুব বেশিদিন আগে নয়; নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশের হেড কোচের চাকরি ছেড়ে চন্দিকা হাতুরাসিংহে শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরই। ২০১৭-এ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকতেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেওয়া ওই লঙ্কানের সঙ্গে বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের অনেকেরই সম্পর্ক খুব সুবিধার ছিল না বলেও প্রচার আছে।

তাই হাতুরাসিংহে ২০১৮-এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আসামাত্রই অন্যভাবে জেগে ওঠে বাংলাদেশ। তাঁকে দেখিয়ে দেওয়ার তাড়নাও পেয়ে বসে ক্রিকেটারদের। দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে জোড়া সেঞ্চুরি করে সাবেক কোচকে নীরব জবাবও দেন তাঁর সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে উপেক্ষিত বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক। চট্টগ্রামে রানোত্সবের সেই ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ ঢাকায় ফেরে পরের টেস্টে লড়াই আরো জমিয়ে তোলার আশায়।

তবে ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে। এই মাঠের কিউরেটর যেহেতু শ্রীলঙ্কার গামিনি ডি সিলভা, তাই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ও আবিষ্কৃত হয়ে যায় সেই সময়। বাংলাদেশের দায়িত্বে থাকার সময় ওই লঙ্কান কিউরেটরের সঙ্গে হাতুরাসিংহের দারুণ রসায়নও ভূমিকা রাখে তাতে। এর পর থেকে যখনই হাতুরাসিংহের শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ, তখনই ছড়িয়েছে বৈরিতার উষ্ণতা। যত দিন নিজ দেশের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ, তত দিনই পিছু নিয়েছে দেখিয়ে দেওয়ার সেই পুরনো তাগিদ।

ফলও মিলেছে তাতে। হাতুরাসিংহে বনাম বাংলাদেশের লড়াইয়ে ওই শ্রীলঙ্কান বরাবরই পিছিয়ে থেকেছেন। মূলত তাঁর জন্যই ছড়ানো বাড়তি উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছে একই বছরের মার্চে। ভারত আর বাংলাদেশকে ত্রিদেশীয় নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে আমন্ত্রণ জানায় লঙ্কান বোর্ড। সেখানে আবার সেই হাতুরাসিংহে, আবার বারুদ ঠাসা লড়াই। তা-ও আবার কোন সময়ে? যখন বাংলাদেশ নিজেরাই নিজেদের খুব ভালো টি-টোয়েন্টি দল বলে মনে করত না। অথচ অজেয় বলে মনে হওয়া শ্রীলঙ্কার ২১৪ রান তাড়া করেও জিতে যায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের ৩৫ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী হার না মানা ইনিংসে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও গড়ে ফেলে।

সেখানেই শেষ নয়। মুশফিকের পর পুরো দলের সদলবলে ‘স্নেক ডান্স’ও স্বাগতিক শিবিরে ছড়িয়ে দেয় বৈরিতার বিষ; যে বিষে বিষাক্ত পরের ম্যাচও। নো বল কাণ্ডে চোট কাটিয়ে সেদিনই প্রথম খেলতে নামা অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মাঠ থেকে দল প্রত্যাহার করে নিতে চাওয়ার ঘটনায় বৈরিতা পৌঁছে আরো চরমে। তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আবারও হার মানে লঙ্কানরা। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে স্বাগতিকদের দর্শক বানিয়ে ছাড়ে ১৮ বলে মাহমুদ উল্লাহর অপরাজিত ৪৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। টানা দুই হারের পর লঙ্কান দর্শকরাও এমন ফুঁসে ওঠে যে ফাইনালে তারা রীতিমতো ভারতের সমর্থক!

এরপর আবার হাতুরাসিংহের শ্রীলঙ্কা, আবার সেই মুশফিক। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে। চোট নিয়ে হাসপাতাল থেকে ব্যান্ডেজ করিয়ে এসে তামিম ইকবালের এক হাতে ব্যাটিংয়ে নামার আগেই মুশফিকের সেঞ্চুরি। শেষ উইকেটে একহাতি তামিমের এক বল খেলে দেওয়াটা আরো বিধ্বংসী হওয়ার সুযোগ করে দেয় তাঁকেও। মুশফিকের ১৪৪ রানের ইনিংসের পর বোলাররাও এমন দুর্বার যে ১৩৭ রানের বিশাল জয়।

এখন হাতুরাসিংহেও শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে নেই, একই সঙ্গে অনুপস্থিত লড়াইয়ের সাম্প্রতিক বৈরী উষ্ণতাও। তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ক্রিকেট সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার তাড়না ঠিকই আছে। হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও যেমন গত মে মাসে দেশের মাটিতে ২-১-এ ওয়ানডে সিরিজ জেতার সাফল্যের কথা বলে বোধ হয় নিজেদের ‘ফেভারিট’ই ঘোষণা করতে চাইলেন!



সাতদিনের সেরা