kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

মুখোমুখি

বাবর-কোহলি, কার দিন আজ?

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবর-কোহলি, কার দিন আজ?

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে তারায় তারায় লড়াই বললে ভুল হবে না। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরাহদের মুখোমুখি বাবর আজম, ফখর জামান, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। তবু বাবর-কোহলির দ্বৈরথটাকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে, কারণ এই মুহূর্তে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই এই দুজনের ধারাবাহিকতা বিস্ময়কর। ভারত-পাকিস্তানের বারুদ ঠাসা ম্যাচে দুজন অধিনায়কত্বও করছেন দুই দলের।

এটা ঠিক ৩২ বছরের কোহলি তাঁর রানের ভাণ্ডার নিয়ে এর মধ্যেই সর্বকালের সেরাদের কাতারে পৌঁছেছেন। তাঁর চেয়ে ছয় বছরের কনিষ্ঠ বাবর হাঁটছেন সে পথেই, এটা অন্তত বলাই যায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই দেখুন না, ১০ হাজার রান নিয়ে কোহলি সেরা পাঁচের একজন। বাবরের রান সেখানে সাত হাজার। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এই ফরম্যাটে তাঁর চেয়ে বেশি রান করেননি কেউ। আর তিন ফরম্যাটেই গত দুই-আড়াই বছরে কোহলি-বাবর রান করেছেন প্রায় সমানতালে। টি-টোয়েন্টিতে যেমন ২০১৯ থেকে কোহলির রান ৯৯২, বাবরের রান ৯০৯; গড় কোহলির ৬২, বাবরের ৪৩.২৮। কোহলির হাফসেঞ্চুরি ৯টি, বাবরেরও ৯টি, সঙ্গে একটি সেঞ্চুরি। এমন দুজনকে নিয়ে এই বিগ ম্যাচে সমর্থকরা তো মাততেই পারেন। বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখিতে ভারত কখনো হারেনি। টি-টোয়েন্টির পাঁচে পাঁচ জয় তাদের। কিন্তু সব ম্যাচই ভারত জিতেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির অধীনে। বাবর-কোহলির এই মুখোমুখিটা তাই নতুন। দুজন এ ব্যাপারে একমতও যে পেছনের ইতিহাস এ ম্যাচে কোনো কাজে আসবে না। বাবর যেমন বলেছেন, ‘পেছনে যা হয়েছে তা আমরা বদলাতে পারব না। তবে এ ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে একটা ভালো ফল পেতে পারি।’ কোহলির কথা, ‘ওই সব পরিসংখ্যান বরং আমাদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। আমরা এটা নিয়ে তাই আলোচনাই করছি না। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই নির্দিষ্ট ম্যাচটার জন্য আমরা কিভাবে তৈরি হচ্ছি এবং তা কাজে লাগাচ্ছি।’

এ ম্যাচের সবচেয়ে বড় দুই তারকায় মনোযোগটা রাখলেও তাই শেষ পর্যন্ত নায়ক হয়ে যেতে পারেন যে কেউই। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল যেমন তারকার ভিড় থেকে নিজের করে নিয়েছিলেন ফখর জামান। এ ম্যাচেও তাই নায়ক হয়ে যেতে পারেন সূর্য কুমার যাদব, আবার শাহিন শাহ আফ্রিদি তাঁর আগুনে পেসে জয়ের পথটা খুলে দিতে পারেন পাকিস্তানের। কিংবা মোহাম্মদ শামিই হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথবা মোহাম্মদ রিজওয়ান। বাবর জানেন এ ম্যাচে যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে, ‘মনোযোগ হারানো যাবে না এক মুহূর্তের জন্যও। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—সব বিভাগেই আমাদের সেরাটা দিতে হবে।’ কোহলির কথা, ‘ওদের পারফরমারের অভাব নেই। যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমাদের তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তই সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’

এত কিছুর পরও শুধু একটা বলও আবার এই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। চেতন শর্মার শেষ বলে জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ছক্কার কথা কি কেউ ভুলতে পারে। এই ম্যাচ তাই নায়ক বানাতে পারে যেমন, তেমনি ভিলেন। বাবর-কোহলি কার দিন হবে আজ? এই চ্যালেঞ্জটা নতুন। ব্যাট হাতে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেও যে দায়িত্ব শেষ হবে না। অধিনায়ক হিসেবে পুরো দলের কাছ থেকেই যে বের করে আনতে হবে সেরাটা । এরপর যেই জেতান জয়টা হবে এই দুজনেরই কারও এএফপি



সাতদিনের সেরা