kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বকাপের ডায়েরি

স্মৃতির মিউজিয়াম

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্মৃতির মিউজিয়াম

শাহজা ক্রিকেট মাঠ

সবচেয়ে পুরনো গাড়িটা ১৯১৫ সালের। এর কাছাকাছি সময়ের পুরনো চার চাকার বাহন আছে আরো শখানেক। এক ছাদের নিচে এনে জড়ো করা এসব বাহনে ধরা আছে হারিয়ে যাওয়া দিনও। ফেলে আসা সেই সব দিনে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যেতেও নেই মানা। সে জন্যই তো শারজা ক্লাসিক কার মিউজিয়ামের দরজা খোলা হয় প্রতিদিন। যেখানে ঝকঝকে-তকতকে হয়ে হারানো সময়কে ধরে রেখেছে পুরনো দিনের রোলস রয়েস, মার্সিডিস, বেন্টলির মতো হাইএন্ড সব গাড়ি!

শুধু এটিই নয়, ঐহিত্য আর সময়কে ধরে রাখা আরো কিছু মিউজিয়ামও আছে শারজায়। তবে ক্লাসিক কার মিউজিয়াম থেকে মিনিট ত্রিশেকের দূরত্বের মিউজিয়ামটি একেবারেই আলাদা। যেখানে না আছে কোনো প্রদর্শনীর ব্যবস্থা, না আছে খালি চোখে দেখে হারানো দিনকে জানার কোনো উপকরণ। যা আছে, তা শুধুই অন্যান্য মিউজিয়াম থেকে একেবারে আলাদা হয়ে থাকার। এখানে কিছু দেখা যায় না, তবে অনুভব করা যায়। এখানে এসে পা রাখলেই স্মৃতির সরণি ধরে অবলীলায় ফিরে যাওয়া যায় অন্তত ৩৫ বছর পেছনে। বিশেষ করে ক্রিকেট রোমান্টিকদের স্মৃতির অ্যালবাম এখানে দাঁড়িয়ে খুলে যেতে বাধ্য। না থাকা কিছুর মধ্যেও ঘটে যাওয়া অনেক কীর্তি ধরে রাখা মিউজিয়ামটির নাম শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এখানে রচিত ক্রিকেট কীর্তির গল্প শুনে বড় হওয়া প্রজন্মের একাধিক প্রতিনিধিরও দেখা মিলল গতকাল। তাঁদেরই একজন তরুণ ক্রীড়া সাংবাদিক নাঈম শিহাবের যেমন শারজা স্টেডিয়ামে পা রাখতে পারার ঘোর কাটতেই সময় লেগে গেল অনেক, ‘এই মাঠে ক্রিকেট ক্লাসিকের অভাব নেই কোনো। সেই ছোটবেলা থেকেই সেসবের গল্প শুনে আসছি। এখানে আসতে পারার রোমাঞ্চও তাই অনেক বেশি।’ সময়ে এই স্টেডিয়ামের বহিরাঙ্গেও বদল এসেছে অনেক। একসময়ের মাত্র কয়েক হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে এখন ১৭ হাজার লোককেও দিব্যি ঠাঁই দেওয়া যায়।

চোখের দেখায় আরো আধুনিক শারজা স্টেডিয়ামের বর্তমানেও খুলে যায় পুরনো স্মৃতির অ্যালবামই। যে অ্যালবামের সবচেয়ে ঝকঝকে ছবিটা জাভেদ মিয়াঁদাদের। ১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলেশিয়া কাপের ফাইনালে জেতার জন্য শেষ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৬ রান। চেতন শর্মার বলে ম্যাচ জেতানো ছক্কা মেরে মিয়াঁদাদও জায়গা করে নেন ক্রিকেট বীরত্বের চিরকালীন গল্পে। যেমন সর্বকালীন গল্পে জায়গা নিয়ে আছে শচীন টেন্ডুলকারের সেই ‘মরুঝড়’ও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩১ বলে ১৪৩ রানের ইনিংসে ভারতের হার রুখতে না পারাও হয়ে আছে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডি। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডে মাঝে কিছু বছর শারজা স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট নির্বাসনে যাওয়ার পরেও যে ইনিংস দুটি ছিল অমলিন। এখনো তা-ই আছে। থাকার কথা ভবিষ্যতেও। ক্রিকেট স্মৃতির মিউজিয়ামে এলে সেগুলোর কথা মনে পড়বেই পড়বে।



সাতদিনের সেরা