kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ক্রিকেট নিয়ে যত আবেগ

সাইদুজ্জামান   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃহস্পতিবার রাতটা উদযাপনের হওয়ার কথা ছিল মাহমুদ উল্লাহদের। অনিশ্চয়তার মেঘ সরিয়ে সুপার টুয়েলভের টিকিট মুঠোয় পাওয়ার রাতেও বিষন্ন দেখিয়েছে মাহমুদ উল্লাহকে। চাপা ক্ষোভ আর অভিমানের কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অভিমানাহত তিনি একা নন, পুরো ড্রেসিংরুমই বিষাদগ্রস্ত।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট মহলে আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা হয় খুব রেখেঢেকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মাহমুদের এমন প্রতিক্রিয়া সাধুবাদযোগ্য, অন্তত মনের কথা বলেছেন। যুক্তিগ্রাহ্যও কারণ, যেকোনো ইস্যু নিয়েই এ দেশের সর্বমহলে লাগামহীন মন্তব্য করার প্রবণতা আছে।

দায়িত্বশীল জায়গায় বসে দায়িত্বহীন মন্তব্য কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে নির্মম ট্রলিং হরহামেশাই হচ্ছে। পিএনজি ম্যাচের পর বাংলাদেশ অধিনায়কের প্রতিক্রিয়ায় মনে হলো, বিশ্বকাপ শুরুর ব্যর্থতায় কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটারদের সমালোচনা আহত করেছে দলের প্রত্যেক সদস্যকে।

যদিও সমালোচনায় আপত্তি নেই মাহমুদের। তবে সেসব সমালোচনা যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়—এই অনুরোধ করেছেন তিনি। কিন্তু ক্রীড়া সাংবাদিকতায় দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতায় একবারও এমন কাউকে পাইনি, যিনি সমালোচনা সহজভাবে নিয়েছেন। শূন্য রানে আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে ব্যর্থ বললে তিনি যুক্তি দেন, ‘সেট হওয়ার আগেই আউট হয়ে গেছি!’ আবার সেট ব্যাটসম্যান দলকে অকূল দরিয়ায় ছেড়ে চলে যাওয়ার সমালোচনায় তেড়ে এসেছেন, ‘আমি তো তবু রান করেছি!’ বোলার কিংবা ফিল্ডারদের ব্যর্থতার কথা লিখেও দূরে দূরে থাকতে হয়েছে কত! আসলে সমালোচনা কারোরই ভালো লাগে না, বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাও না।

বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান একাদশ নির্বাচন এবং তিন সিনিয়র ক্রিকেটারের স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংবাদমাধ্যমে। শুনে অভিমান করেছেন মাহমুদ। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে নেমে চেষ্টায় কমতি যে নেই, অভিমানাহত মাহমুদ জানিয়েছেন।

এখানে দুটি বিষয় আছে। প্রথমত, এ দেশের ক্রিকেট মহলের দেশপ্রেম নিয়ে একটা উন্নাসিকতা আছে। বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে প্রায়শ আবির্ভূত হওয়ার সুবাদেই কিনা, ক্রিকেটারদের মুখে দেশপ্রেমের কথা বেশি শোনা যায়। তবে কি এ কারণেই তাঁদের দেশপ্রেমও ঘন ঘন প্রশ্নবিদ্ধ হয়?

দ্বিতীয়ত, বোর্ড সভাপতি তো হরহামেশাই জাতীয় দলের একাদশ নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটীয় জটিল সব বিশ্লেষণ করেন। বিশ্বের আর কোনো দেশের ক্রিকেট প্রধানকে এতটা সরব দেখা যায় না। এ নিয়ে মিডিয়ায় সমালোচনাও হয়েছে। কিন্তু দলের মহাতারকারাও ‘তিনি ক্রিকেট অন্তপ্রাণ’, ‘ক্রিকেটটা ভালো বোঝেন’—এসব বলে বোর্ড সভাপতির বিশ্লেষণকে অনুমোদন দিয়েছেন। আরো অবাক করা ব্যাপার হলো, নাজমুল হাসানের এমন ‘এপিসোডে’র পর বেশির ভাগ সময়ই ভালো ফল হয়েছে মাঠে। এই রহস্য নিয়ে কি কখনো গভীরভাবে ভেবেছেন মাহমুদ?

সাম্প্রতিককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বেশি চোখ পড়ছে ক্রিকেটারদের। জাতীয় দলের সবারই নিজস্ব ফেসবুক, টুইটার অ্যাকাউন্ট আছে। অনুসারীর সংখ্যার ওপর ক্রিকেটারের ব্র্যান্ড ভ্যালু নির্ভরশীল। এই প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজ করার জন্য বেতনভুক অ্যাডমিন আছেন। আছে ফ্যান ক্লাব। এসব ক্লাবে শুধু তারকার সুখ্যাতি বাড়ানোর চেষ্টাই হয় না, অন্য তারকার সুনামহানির অপচেষ্টাও চলে সুকৌশলে। সাকিব এবং তামিমের অনুসারীদের একটি অংশের কার্যক্রম দেখলে মনে হয় তাঁরা বুঝি মেসি ও রোনালদো—ভিন্ন দুই দেশের প্রতিনিধি!

মাহমুদরা কি কখনো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন বিষয়টি নিয়ে? নিজেদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কখনো কি ভক্তদের অনুরোধ করেছেন বিপণনের বাজারে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ কোনো সতীর্থের সমালোচনা না করতে? 

এসব ভাবার সময় এটা নয়। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে আরো বড় প্রাপ্তির লক্ষ্যে মাঠেই মন থাকুক বাংলাদেশ দলের। জবাব দেওয়ার ওটাই সেরা মঞ্চ। স্রেফ আবেগ দিয়ে খুব বেশি মন জয় করা যায় না। সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক তাঁর অভিমানের কথা কি বলতেন যদি ফল উল্টো হতো?



সাতদিনের সেরা