kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ম্যাচ রিপোর্ট

নামিবিয়ার রূপকথা

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নামিবিয়ার রূপকথা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচ শেষ। হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়েছেন আয়ারল্যান্ডের বোলার ক্রেগ ইয়াং আর ব্যাট হাতে নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমুস। ইয়াংয়ের বিশ্বাস হচ্ছিল না বিদায় নিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এরাসমুসের চোখেও অবিশ্বাস, রূপকথা গড়ে তাঁর দল যে সুপার টুয়েলভে! প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এসে আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে পরের রাউন্ডে আফ্রিকার এই দল। অথচ এবার অংশ নেওয়া ১৬ দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে নামিবিয়াই। ম্যাচ শেষে চোখের পানি তাই ধরে রাখতে পারেননি খেলোয়াড়রা। আবেগী কণ্ঠে এরাসমুস বলছিলেন, ‘খুব ছোট্ট দেশ আমরা। দেশজুড়ে ক্রিকেটারও অল্প কজন। নিজেদের নিয়ে গর্বিত হতেই পারি আমরা।’

২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিল আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে নামিবিয়ার প্রথম অংশগ্রহণ। সেবার সব ম্যাচ হারে তারা। ১৮ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার এসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেয়েছিল দাপুটে জয়। সুপার টুয়েলভের স্বপ্ন উঁকি দেয় তখনই। গতকাল টেস্ট খেলুড়ে দল আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে পূরণ হলো সেটা। শারজায় শুরুতে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড একটা পর্যায়ে বিনা উইকেটে করেছিল ৬২। নামিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেখান থেকে ৮ উইকেটে করতে পারে মাত্র ১২৫। অধিনায়ক এরাসমুসের ৪৯ বলে ৫৩* ও ডেভিড ওয়াইজের ১৪ বলে ২৮*-এ ৯ বল হাতে রেখে ঐতিহাসিক জয় নামিবিয়ার।

দুই বছর আগে বাছাই পর্বে এই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেই ফিফটি করেছিলেন এরাসমুস। দল হেরেছিল তবু। গতকালের ফিফটিতে দলের জয়ের নায়ক এরাসমুসই। ফিফটিটা গ্যালারিতে বেশি উদযাপন করেছেন তাঁর বাবা। পারলে পিটিয়ে চেয়ার ভাঙেন ভদ্রলোক! তবে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা ডেভিড ওয়াইজের। বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। এরপর ব্যাটিংয়ে ছোটখাটো ঝড় তুলে ১৪ বলে অপরাজিত ২৮ রানে। পুরস্কার হাতে সেটা দিতে চাইলেন এরাসমুসকেই, ‘এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা এরাসমুসের পাওনা। শুরু থেকে দলকে টেনেছে ও।’

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬ ওয়ানডে, ২০ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ওয়াইজ। প্রোটিয়াদের জার্সিতে খেলেন ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পরের বছরই কলপাগ আইনে যোগ দেন সাসেক্সে। বাবার নাগরিকত্বের সুবাদে হয়ে যান নামিবিয়ার খেলোয়াড়। ছোট্ট এই দেশ তাঁর কাঁধে চেপে এখন সুপার টুয়েলভের মঞ্চে। ম্যাচ শেষে আলবি মরকেলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নাচছিলেন ওয়াইজ। মরকেলের সঙ্গে একটা সময় খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলে। সেই মরকেল এখন নামিবিয়ার সহকারী কোচ। ওয়াইজ-মরকেল জুটি এভাবে নাচতে চাইবেন সুপার টুয়েলভে বড় কোনো দলের ঘাড় মটকে।



সাতদিনের সেরা