kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বড় মঞ্চের চ্যালেঞ্জও অনেক বড়

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় মঞ্চের চ্যালেঞ্জও অনেক বড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওমানের মাসকাটে কোয়ালিফায়ারের বাধা টপকে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের ওঠাটা ছিল প্রত্যাশিত। গত পরশু পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৮৪ রানের রেকর্ড জয়ে প্রত্যাশা পূরণও করেছেন মাহমুদ উল্লাহরা। তবে নিস্তরঙ্গ এই নদী পার হতে গিয়েও ডুবতে বসেছিল বাংলাদেশ দল। সেটি আর হয়নি সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে। দলের সবচেয়ে বড় তারকার সঙ্গে বাছাইয়ের বৈতরণি পার হতে সহযোগীর ভূমিকায় দেখা গেছে আরো কয়েকজনকে।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে এখনো মানিয়ে ওঠা হয়নি বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পেছনেও তাই মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে স্কটল্যান্ডের কাছে হার এবং পরের ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ঘাম ঝরিয়ে জয়ের পরও সেই আলোচনা থামেনি। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে বড় জয়ের পর অবশ্য আলোচনা গতিপথ সামান্য বদলেছে। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য না হলেও এই ফরম্যাটে নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে বলে যে আওয়াজ উঠেছে, সেখানে মাহমুদ উল্লাহদের ঘিরে সম্ভাবনাও উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। তবে সুপার টুয়েলভের চ্যালেঞ্জ যে কোয়ালিফায়ারের চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে, সেটি অবধারিত।

সেই চ্যালেঞ্জ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হতে হবে। সাকিব আল হাসান যেমন। কোয়ালিফায়ারের তিন ম্যাচে ক্রমোন্নতি দেখা গেছে তাঁর। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিংয়ে যথেষ্টই সফল ছিলেন সাকিব, ৪ ওভারে ১৭ রানে ২ উইকেট। কিন্তু ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ বলে ২০ রান—ব্যাটিং পজিশন ও সাকিবের প্রফাইল, কোনোটির সঙ্গেই মানানসই নয়। সেই তিনি ওমানের বিপক্ষে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত। ২৮ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার আগে নাঈম শেখের সঙ্গে সাকিবের ৮০ রানের জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। আর সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করা ম্যাচে অনবদ্য সাকিব। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৩৭ বলে ৪৬ ও ৯ রানে ৪ উইকেট দলের অন্যদের সঙ্গে আরেকবার আলাদা আসন দিয়েছে সাকিবকে। সুপার টুয়েলভের মঞ্চেও এই সাকিব আল হাসানকেই চাইবে বাংলাদেশ। তবে কে না জানে, সুপার টুয়েলভ সামর্থ্যের কঠিনতম পরীক্ষা নেবে।

বড় মঞ্চে মাহমুদ উল্লাহর কাছে অধিনায়কোচিত নৈপুণ্য প্রত্যাশা করবে দল। কোয়ালিফায়ারের প্রথম ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি মাহমুদ। তবে পরের দুই ম্যাচে তাঁর দ্রুত রান তোলার সুফল পেয়েছে দল। তিন ম্যাচে অন্তত ৫০ রান করা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাহমুদের স্ট্রাইকরেটই সবচেয়ে বেশি, ১৫০। পিঠের ব্যথার কারণে কোয়ালিফায়ারে বোলিং করেননি তিনি। সুপার টুয়েলভে করবেন, সেরকম কিছু এখনো শোনা যায়নি।

টিম ম্যানেজমেন্ট হঠাৎই বছরজুড়ে খেলা নাঈম শেখের ওপর থেকে আসরের প্রথম ম্যাচে আস্থা তুলে নিয়েছিল। তাই কোয়ালিফায়ারে একটি ম্যাচ কম খেলেছেন বাঁহাতি ওপেনার। প্রত্যাবর্তন ম্যাচে নাঈমের ৬৪ রানের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টিসুলভ না হলেও ওমানের বাধা টপকাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

 

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও ব্যাটে-বলে অবদান রেখেছেন বাংলাদেশ দলের সুপার টুয়েলভে উত্তরণে। তিন ম্যাচে ৫.৫৮ ইকোনমি রেটে রান দিয়েছেন, সঙ্গে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ব্যাটে মাত্র ২৪ রান করলেও স্ট্রাইকরেটে সবার চেয়ে ওপরে, ২৬৬.৬৬। পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৬ বলে ১৯ রান—৯ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানের কাছে এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

তবে মেহেদী হাসান সেভাবে আলোচনায় আসেননি। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলের রানের চাকা আটকানোয় মূল ভূমিকা পালন করেছেন এই অফ স্পিনার। সেটি তিন ম্যাচে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পরিসংখ্যানেই উল্লেখ আছে। মেহেদীর উইকেট ৫টি, তবে বেশি আকর্ষক তাঁর ওভারপিছু রান দেওয়ার হিসাব—৪.৪১!

এখন দেখার সুপার টুয়েলভের মতো বড় মঞ্চের চ্যালেঞ্জ তাঁরা কিভাবে সামাল দেন। নাকি অন্য কেউ দখল নেবেন বড় মঞ্চের?

 



সাতদিনের সেরা