kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ভারত-পাকিস্তান রোমাঞ্চ

দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা বাড়ছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা কেউ এগিয়ে রাখছেন ভারতকে, কারো আবার ফেভারিট পাকিস্তান। ২৪ অক্টোবরের মহারণকে বিশ্লেষণ করেছেন তেমনই কয়েকজন

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত-পাকিস্তান রোমাঞ্চ

কপিল দেব

উপভোগ করাই জয়ের মন্ত্র

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মূল বিষয় হচ্ছে চাপ আর চাপ। সব কিছু নির্ভর করছে চাপ সামলানোর ওপর। আপনি খেলাটি উপভোগ করছেন নাকি চাপে পড়ে গেছেন, এটা গড়ে দেবে ম্যাচের ভাগ্য। যে দল বেশি খেলাটি উপভোগ করবে, জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাদের। এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের ওপর আলোটা বেশি পড়ে। কোনো তরুণ এই ম্যাচে ভালো করলে প্রশংসা পায় বিশ্বব্যাপী। আমি এবার ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। লোকেশ রাহুল খুব ভালো করছে। ওপেনিংয়ে ওকে রাখা উচিত। হার্দিক পাণ্ডের বোলিং করতে পারা না পারার ওপর নির্ভর করছে দলের ভারসাম্য। হার্দিকের পুরো ফিট হয়ে খেলাটা বাড়তি পাওনা হবে দলের জন্য।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক

 

ফাইনালের আগে ফাইনাল

সুপার টুয়েলভে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ফাইনালের আগে ফাইনাল। এত বেশি আলোচনা হয় না কোনো ম্যাচ ঘিরে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম ম্যাচের পর ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। ফাইনালের চেয়ে কম উত্তেজনার ছিল না প্রথম ম্যাচটি। বিশ্বকাপে এবারের ম্যাচটি যারা জিতবে, মানসিকভাবে এগিয়ে যাবে তারা। পুরো টুর্নামেন্টের জন্য চাপ কমে যাবে ৫০ শতাংশ। কোন টুর্নামেন্ট কারা জিতবে, সেটা আগে থেকে বলা যায় না। শুধু জয়ের সম্ভাবনা কার কতটা, এটা অনুমান করা যেতে পারে। আমার মনে হয় ভারতের শিরোপা জয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে। দলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে ওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওরা ১৫৫ রান তুলেছে কোহলিকে ছাড়াই।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক

 

সব কিছু ছাড়িয়ে ভারত-পাকিস্তান

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো দুটি দল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। এই দুই দলের ম্যাচে উত্তেজনা থাকে অন্য রকম। অ্যাশেজ খেলেছি বলে সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যে উন্মাদনা আর কোনো দ্বৈরথই এর সমান হতে পারে না। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে যথেষ্ট চাপ থাকলেও সব কিছু ছাড়িয়ে ভারত-পাকিস্তানের লড়াই। আমি এখন পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ। ম্যাচটা নিয়ে ছেলেরা কিভাবে টগবগিয়ে ফুটছে, কাছ থেকেই দেখছি। প্রথম ম্যাচে ভালো করার ব্যাপারে সবাই আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে লোকেশ রাহুলকে আটকানো। ঋষভ পান্টও ভয়ংকর। তেমনি ওরা লক্ষ্য বানাবে বাবর আজমকে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দারুণ করেছে পাকিস্তান। জিতেছে দুটিতেই। এখন মূল মঞ্চে ছন্দটা ধরে রাখতে হবে আমাদের।

 অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার

 

ষষ্ঠ বোলারের প্রয়োজন

হার্দিক পাণ্ডে পুরোপুরি ফিট নয়। তবে ও সুস্থ হওয়ার পথে। এখনো বোলিং শুরু করেনি। আমাদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে হার্দিক বল করার মতো জায়গায় চলে আসবে। আমাদের পাঁচজন বোলার খুব ভালো জায়গায় আছে। তবে দলে ষষ্ঠ বোলাদের প্রয়োজন। পাঁঁচ বোলারের সবাই ম্যাচে ভালো করবে—এমন কথা নেই। কোনো একজনের ওপর প্রতিপক্ষ চড়াও হতে পারে। তখন ত্রাতা হয়ে আসে ষষ্ঠ বোলার। হার্দিক বল করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এর পরও আমরা ষষ্ঠ বোলারের ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছি। পাশাপাশি ব্যাটিং অর্ডার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাচ্ছি। আমাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ওপেন করেছিল ঈশান কিষান। ভালো ব্যাট করেছে ও। আর লোকেশ রাহুলের সামর্থ্য নিয়ে বলার কিছু নেই।

ভারতের সহ-অধিনায়ক

 

বিশ্বকাপের ফেভারিট ভারত

ভারত দুর্দান্ত একটি দল। সব পজিশনে সেরা সব ক্রিকেটার আছে ওদের। এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট ভারত। ভারতের ক্রিকেটাররা আরব আমিরাতে আইপিএল খেলেছে। কন্ডিশন আর উইকেটের সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিয়েছে নিশ্চিতভাবেই । এই অভিজ্ঞতা ওরা কাজে লাগাবে। ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১৫২ রান করেও অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে হেরেছে। বিরাট কোহলিকে দরকারই হয়নি ম্যাচে! তাহলে বুঝুন দলটির গভীরতা কতটা। এ ধরনের কন্ডিশনে ওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে একমাত্র পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়া অনেক দিন পর একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলছে। ওয়ার্নার রান পাচ্ছে না। ফিঞ্চও মাত্রই ফিট হয়ে ফিরেছে। তবে ম্যাক্সওয়েল, স্টোয়নিসরা ফর্মে আছে। আশা করছি বিশ্বকাপের আগে ছন্দে ফিরবে দলের সবাই।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার

 



সাতদিনের সেরা