kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পিএনজি ক্রিকেটের সর্বাঙ্গে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের স্টেট রাগবি লিগে এই দলটিকে খেলারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর জনপ্রিয়তার দিক থেকে আছে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল, ফুটবল, ভলিবল, সফটবল...। ‘বারামান্ডি’রা সেখানে অনেক পেছনে। পিএনজির জাতীয় ক্রিকেট দলের ডাকনাম যে সামুদ্রিক এই মাছের নামেই। তাদের ক্রিকেটটা মূলত দাঁড়িয়েই আছে অস্ট্রেলিয়ার পৃষ্ঠপোষকতার ওপর।

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পিএনজি ক্রিকেটের সর্বাঙ্গে অস্ট্রেলিয়া

একসময় তাদের সঙ্গে নিয়মিতই দেখা হতো বাংলাদেশের। এর মধ্যে সর্বশেষটি ১৯৯৬ সালের এসিসি ট্রফিতে। মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে সেমিফাইনালের একটি ঘটনা মনে করে এত দিন পরেও হেসেই খুন আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক স্মৃতিচারণা করছিলেন, ‘‘আকরাম ছিল অধিনায়ক। ও শেখ সালাউদ্দিনকে (প্রয়াত অফ স্পিনার) বোলিংয়ে নিয়ে এসে চাচ্ছিল লং অন আর লং অফের ফিল্ডারকে সীমানায় পাঠাতে, কিন্তু বোলার রাজিই না। ওর কথা ছিল, ‘আরে দূর! ওরা আমার বল মারতে পারবে নাকি?’ প্রথম ওভারেই টানা দুই ছক্কা খেয়ে অবশ্য হুঁশ হয়েছিল ওর!’’

ওরকম বিক্ষিপ্ত কিছু মুহূর্ত ছাড়া অবশ্য ২৫ বছর আগের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য ভীতির কারণ হয়ে উঠতে পারেনি পিএনজি। বরং ৩৭.১ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানে তাদের গুটিয়ে দিয়ে জেতার পথে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন আমিনুল। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের পাশাপাশি অফ স্পিনে নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট। পরে ৩০ ওভারেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেওয়ার সময়ও আমিনুল অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। এত বছর পর বাংলাদেশের পাশাপাশি পিএনজির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ হচ্ছে সেই ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪৫ রানের ইনিংস খেলা হাবিবুল বাশারের। মাসকাটে তো দলের সঙ্গেই আছেন এই নির্বাচক। ১৯৯৬-এর এসিসি ট্রফিজয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম খানও আছেন এখানেই।

সর্বশেষ ম্যাচে সহজেই জিতলেও প্রথম দেখায় বাংলাদেশের পরিণতি ছিল উল্টো। ১৯৮২ সালের আইসিসি ট্রফিতে ৬০ ওভারের ম্যাচে ১৮ বল বাকি থাকতে ৩ উইকেটে জিতেছিল পিএনজি। যে কারণে ওপেনার ইউসুফ রহমানের সেঞ্চুরির আনন্দও পরিণত হয়েছিল বিষাদে। অন্য ওপেনার নাজিম সিরাজীকে (৫২) নিয়ে ১৭০ রানের সূচনায় গড়ে দিয়েছিলেন বড় সংগ্রহের দুর্দান্ত এক ভিতও। তবে পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৫৭.৫ ওভারে মাত্র ২২৪ রানেই গুটিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

সেই ম্যাচ দিয়ে শুরুর পর আইসিসি ও এসিসি ট্রফি পর্যায়ে নিয়মিত বিরতিতেই দেখা হতো বাংলাদেশ ও পিএনজির। ১৯৯৬-এর পর আর নয়। কারণ ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে ১৯৯৯-এর বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ পরের ধাপগুলো পেরোয় খুব দ্রুতই। ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়া ও বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পথ ধরে ২০০০ সালে মুঠোয় আসে টেস্ট মর্যাদাও। এরপর আর তাদের পেছন ফিরে তাকাতে না হলেও পিএনজি পড়ে আছে সেই পেছনেই। এখনো তারা আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশই। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের আসরে অংশ নিয়ে এলেও পিএনজি আসলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশই। ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড তাদের পরম প্রতিবেশী।

এমনই যে স্বাস্থ্য-শিক্ষা থেকে শুরু করে ক্রীড়া খাতেও বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় ধন্য পিএনজিতে প্রধান ও জনপ্রিয়তম খেলা রাগবি। তাদের জাতীয় দলের ডাকনাম ‘কুমুলস’ বা ‘স্বর্গের পাখি’। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের স্টেট রাগবি লিগে এই দলটিকে খেলারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর জনপ্রিয়তার দিক থেকে আছে অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল, ফুটবল, ভলিবল, সফটবল...। ‘বারামান্ডি’রা সেখানে অনেক পেছনে। পিএনজির জাতীয় ক্রিকেট দলের ডাকনাম যে সামুদ্রিক এই মাছের নামেই। তাদের ক্রিকেটটা মূলত দাঁড়িয়েই আছে অস্ট্রেলিয়ার পৃষ্ঠপোষকতার ওপর।

কখনো কখনো নিউজিল্যান্ডকেও পাশে পায় তারা। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যেমন কিউইরা পিএনজি দলের ‘মেন্টর’ হিসেবে পাঠিয়েছে রস টেলরকে। অস্ট্রেলিয়ার জেসন গিলেস্পিকেও একসময় দেখা গেছে এই দলটির প্রধান কোচের ভূমিকায়। পিএনজির অনুশীলন শিবিরও হয় কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিল মাঠে। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার গ্রেগ ক্যাম্পবেল। অবশ্য এত কিছুর পরও ক্রিকেট সেখানে সাধারণ জনতাকে খুব একটা আকৃষ্ট করতে পারেনি। রসিকতা করে এমনি এমনিই তো আর বলা হয় না যে পিএনজিতে এয়ারপোর্টের সমানসংখ্যক ক্রিকেটার আছে তো?

সেখানে এয়ারপোর্টের সংখ্যা কত জানেন? ৫৬২টি!



সাতদিনের সেরা