kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

ডমিঙ্গোকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না এক বছর

মাসুদ পারভেজ, মাসকাট থেকে   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডমিঙ্গোকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না এক বছর

সব কিছুই ঠিক হয়ে আছে। তবে রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে যখন চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি, তখন স্কটল্যান্ডের কাছে হারের পর হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মেসেঞ্জারে ভেসে শুধু এ রকম কৌতূহলী জিজ্ঞাসাই আসছে, ‘আচ্ছা, বাংলাদেশ যদি বাছাই পর্ব পার হতে না পারে, তাহলে কি ডমিঙ্গোকে রাখা হবে?’

এ প্রশ্নের কোনো উত্তর সত্যিই নেই। ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাকছে তা। আপাতত তাই প্রথম পর্বে বাংলাদেশের শেষ দুই ম্যাচের ফল জানার অপেক্ষা। তবে এর আগে এখন পর্যন্ত যা খবর, তাতে ডমিঙ্গোর অফার লেটারে সই করে ফেলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও। ফাঁকা আছে শুধু ডমিঙ্গোর অংশটিই। অর্থাৎ এখান থেকে অন্য রকম কিছু হওয়ার সুযোগ কমই। আর ডমিঙ্গো সই করে ফেললে নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাঁকে সহসা বিদায় করার সুযোগও একদমই থাকবে না।

অফার লেটারে উল্লিখিত আছে যে দুই বছরের নতুন চুক্তির প্রথম এক বছর পুরোপুরি ‘গ্যারান্টিড’। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে এ দক্ষিণ আফ্রিকান কোচকে কোনোভাবেই চাকরিচ্যুত করার সুযোগ নেই বিসিবির। দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনও চুক্তিতে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করে নিয়েছে। তারা যেমন ডমিঙ্গোকে প্রথম এক বছরের মধ্যে বিদায় না করার চুক্তিতে একমত হয়েছে, তেমনি এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচও এই সময়ের মধ্যে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারবেন না।

দ্বিপক্ষীয় এই বিধি-নিষেধের সময়কাল চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। দুই বছরের নতুন চুক্তির মেয়াদ অবশ্য ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। চুক্তির দ্বিতীয় বছরে অবশ্য চাকরিচ্যুতি কিংবা চাকরি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সে ক্ষেত্রে দুই পক্ষেরই সুযোগ থাকবে তিন মাসের নোটিশ দিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করার। আর প্রথম বছরের ‘গ্যারান্টিড পিরিয়ড’-এ কোনো পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করতে চাইলে চড়া মূল্যের ক্ষতিপূরণ গুনে যাওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিবিরই শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

সে ডমিঙ্গোই হন বা বিসিবি, ১২ মাসের আগে চলে যেতে চাইলে কিংবা চাকরিচ্যুত করলে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে অবশিষ্ট সময়ের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে যাবে। যেমন ধরা যাক, প্রথম বছরের সাত মাস পার হওয়ার পর বিসিবির মনে হলো ডমিঙ্গোকে আর রাখার যুক্তি নেই, তখন এই প্রোটিয়া কোচকে বাকি পাঁচ মাসের বেতন দিয়ে বিদায় করতে হবে। আর ডমিঙ্গো যদি নিজে চলে যেতে চান, সে ক্ষেত্রে তাঁকেও অবশিষ্ট পাঁচ মাসের বেতন বিসিবির কোষাগারে জমা দিয়ে যেতে হবে।

বিশাল অঙ্ক বলেই চুক্তি সইয়ের পর কোনো পক্ষেরই ওই পথ মাড়ানোর কথা নয়। কারণ অফার লেটার অনুযায়ী নতুন চুক্তিতে ডমিঙ্গো বেতন পাবেন প্রতি মাসে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার। আগের চুক্তিতে তাঁর বেতন থেকে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কর কেটে নেওয়া হতো। তবে এবারের চুক্তিতে তাঁর কর পরিশোধ করবে বিসিবিই। ১৭ হাজার ডলার থেকে কাটা যাবে না একটি পয়সাও। আর নতুন চুক্তিতে শুধু জাতীয় দলই নয়, বিসিবি চাইলে ‘এ’ দল কিংবা অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের কোচ হিসেবেও জাতীয় দলের হেড কোচকে কাজে লাগাতে পারবে। ডমিঙ্গো নিজেও এর সঙ্গে একমত হয়েছেন বলেই তো অফার লেটার তৈরি হয়েছে সেভাবেই। এখন শুধু তাঁর নিজের সই দেওয়াটাই বাকি।

সেটি তিনি দিতে পারবেন তো?



সাতদিনের সেরা