kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘ডেলিভারিম্যান’ থেকে বাংলাদেশ বধের নায়ক

কদিন আগেও ছিলেন ই-কমার্স অ্যামাজনের ‘ডেলিভারিম্যান’। গ্রাহকের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দিতেন নানা পণ্য। বিশ্বকাপের দলে থাকলেও চুক্তি নেই বোর্ডের সঙ্গে। সেই তিনিই কিনা বাংলাদেশ বধের নায়ক!

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ডেলিভারিম্যান’ থেকে বাংলাদেশ বধের নায়ক

রেলওয়েতে টিকিট কালেক্টর ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই তিনিই ভারতের সফলতম অধিনায়ক। ধোনির মতো অন্য পেশা থেকে এসে ক্রিকেটে বাজিমাত করা খেলোয়াড়ের তালিকাটা ছোট নয়। তবে ক্রিস গ্রিভসের গল্পটা অন্য রকম। ত্রিশ পেরিয়ে স্কটল্যান্ডের হয়ে তাঁর অভিষেক। কদিন আগেও ছিলেন ই-কমার্স অ্যামাজনের ‘ডেলিভারিম্যান’। গ্রাহকের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দিতেন নানা পণ্য। বিশ্বকাপের দলে থাকলেও চুক্তি নেই বোর্ডের সঙ্গে। সেই তিনিই কিনা বাংলাদেশ বধের নায়ক!

৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর গ্রিভস ব্যাটিংয়ের হালটা ধরেছিলেন শক্ত হাতে। তাঁর ২৮ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড। এরপর লেগ স্পিনের মায়ায় ফেরান মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানকে। স্কটিশ অধিনায়ক কাইল কোয়ের্টজার গর্বিত প্রিয় সতীর্থকে নিয়ে, ‘গ্রিভসকে নিয়ে সত্যি গর্বিত আমি। কদিন আগে ও অ্যামাজনের পার্সেল বিতরণ করেছে আর এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাচ্ছে। জানি না, এটা ফাঁস করার জন্য আমার ওপর গ্রিভস খুশি হবে কি না!’

শুধু একটিই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন গ্রিভস। ৮ অক্টোবর দুবাইয়ে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১৭ রানে নেন ১ উইকেট। এরপর নজর কাড়েন প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ৪ উইকেট নেওয়ার পরই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর একাদশে থাকাটা। গ্রিভসের এত দূর পৌঁছানোর পথটা যে সহজ ছিল না স্মরণ করিয়ে দেন কোয়ের্টজার, ‘স্কটল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় নয় গ্রিভস। আলোচনার বাইরে ছিল ও। এক মাস আগে এমন ম্যাচে একাদশে থাকার কথা ছিল না। অথচ কঠোর পরিশ্রম আর অনেক ত্যাগ স্বীকারের পর এই জায়গায় এসেছে ও। এটা প্রমাণ করে, আইসিসির সহযোগী দেশগুলোতে অনেক খেলোয়াড় আছে। সামর্থ্য দেখানোর জন্য শুধু একটা মঞ্চ দরকার। ওকে বাংলাদেশের বোলারদের পেটাতে দেখে দারুণ লেগেছে। দিনটা ওর জন্য ছিল রোমাঞ্চকর।’

ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে গ্রিভস নিজেও ছিলেন রোমাঞ্চিত। আবেগী কণ্ঠে জানালেন, ‘৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। ইনিংসটা গড়ে তুলতে হতো। এর অংশ হতে পারাটা আমার জন্য অবিশ্বাস্য ব্যাপার।’ আজ পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে জিতলে আরো একটা স্বপ্ন পূরণ হবে স্কটল্যান্ডের। সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হয়ে যাবে একপ্রকার। প্রতিপক্ষ পিএনজি বলে আশাবাদী তারা। কারণ এর আগে দুইবারের দেখায় দুটিতেই জিতেছে স্কটল্যান্ড। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর দুবাইয়ে পিএনজির ১৫৪ রানের চ্যালেঞ্জ ১৩ বল হাতে রেখে জিতেছে ৮ উইকেটে। সেই ছন্দটা আজ ধরে রাখতে চাইবে কোয়ের্টজারের দল। এএফপি



সাতদিনের সেরা