kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বকাপের ডায়েরি

গুপ্তচর পেছনে লেগে আছে তাই...

কোথায় বাঁধা, আমরাত স্টেডিয়ামের বাংলাদেশি মাঠকর্মীদের দু-একজনের সঙ্গে আলাপে যেতেই বেরিয়ে এলো সেটিও। তাঁরা জানালেন হাত-পা বাঁধাই নয় শুধু, তাঁদের মুখও বন্ধ রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে ওমান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে মুখ বন্ধ রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের কারো সঙ্গে। সেটি মাহমুদ উল্লাহর দলের সদস্য থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্বিশেষে।

মাসুদ পারভেজ, মাসকাট থেকে   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গুপ্তচর পেছনে লেগে আছে তাই...

নিজের সন্তান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশে তিনি দ্বিধাহীন, তবে চালচলন নিয়ে ধারণা দেওয়ায় আবার ভীষণ অপারগ। ভারতের কেরালা থেকে আসা মাঝবয়সী এই ভদ্রলোকের নাম অনুপ কান্ডি। মাসকাটের আল আমরাত স্টেডিয়ামের উইকেট যাঁর পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে সেই শুরু থেকেই। এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সেগুলোর যত্নআত্তিও বাড়িয়েছেন বহুগুণ। দীর্ঘ সময় থাকতে থাকতে এখানকার উইকেটগুলোও তাঁর কাছে এমন আপন হয়ে উঠেছে যে বলেই ফেললেন, ‘এগুলো আমার কাছে নিজের সন্তানের মতোই।’

বাংলাদেশ ম্যাচের আগের দিন ‘সন্তানের মতো’ উইকেটের সম্ভাব্য আচরণ নিয়ে ধারণা চাইতেই যেন কিছুটা পিছিয়ে গেলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘কিছুই বলা সম্ভব নয়। কারণ আমার হাত-পা বাঁধা।’ কোথায় বাঁধা, আমরাত স্টেডিয়ামের বাংলাদেশি মাঠকর্মীদের দু-একজনের সঙ্গে আলাপে যেতেই বেরিয়ে এলো সেটিও। তাঁরা জানালেন হাত-পা বাঁধাই নয় শুধু, তাঁদের মুখও বন্ধ রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে ওমান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে মুখ বন্ধ রাখতে বলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের কারো সঙ্গে। সেটি মাহমুদ উল্লাহর দলের সদস্য থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্বিশেষে।

কেন? অনুপের নির্দেশনা মেনে এই বাংলাদেশি মাঠকর্মীদের অনেকেই সরাসরি উইকেট পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত। উইকেট নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে বাংলাদেশ দলও যে সবার আগে একই ভাষায় কথা বলা লোকের শরণাপন্ন হতে পারে, সে অনুমানও অমূলক নয়। তাই আগে থেকেই বাংলাদেশি মাঠকর্মীদের দেওয়া হয়েছে দেশের কারো সঙ্গে কথা না বলার কঠোর নির্দেশনাই। যা ভঙ্গ করে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে চান না বলে এমনকি সৌজন্য বিনিময়েও সংকোচ তাঁদের। সেই সঙ্গে তাঁদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধেও ছাপ বাড়তি সতর্কতার।

সৌজন্য বিনিময়ের মতো নিরীহ আর নির্বিরোধ বিষয়েও এত সংযত হওয়াটা যে অকারণে নয়, সেটিও বোঝা গেল একজনের কথায়। নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না, অলক্ষ্যে নাকি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে সেটিও, ‘আমাদের পেছনে স্পাই লাগিয়ে রাখা হয়েছে। তাই দেশের কারো সঙ্গেই কথা বলে বিপদ বাড়াতে চাই না।’ যা থেকে স্পষ্ট যে ১৯ অক্টোবরের ম্যাচে বাংলাদেশকে উইকেট দিয়ে ভড়কে দেওয়ার কথাও নিশ্চয়ই ভাবছে ওমান। এ ক্ষেত্রে যোগ থাকার কথা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের কালজয়ী চরিত্র দুলীপ মেন্ডিসেরও। ওমান ক্রিকেটের ডিরেক্টর অব ডেভেলপমেন্ট হলেও জাতীয় দলের রণপরিকল্পনার পুরোটাই সাজায় তাঁর মস্তিষ্ক। বাংলাদেশ ম্যাচ সামনে রেখে তাঁর বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আঁচ করা তাই কঠিন নয়।

গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর সুবিধা হলো এই মাঠ তাদের খুব চেনা নয়। আগেভাগে চলে এসে ওমানে কয়েক দিনের শিবির করলেও মাহমুদ উল্লাহরা এই মাঠে অনুশীলন করতে পেরেছিলেন এক দিনই। পাশের ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠেই বেশির ভাগ সময় পার করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য দুই দল স্কটল্যান্ড আর পাপুয়া নিউ গিনি এখানে আছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এর মধ্যে পরের দলকে উদ্বোধনী ম্যাচে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে শুরু করা স্বাগতিকরা নিশ্চয়ই ‘পাখির চোখ’ করেছে বাংলাদেশ ম্যাচকেই। না হলে গুপ্তচর লাগিয়ে একই ভাষায় কথা বলা লোকদের মুখ বন্ধ রাখবে কেন!

 



সাতদিনের সেরা