kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

প্রথম দিনেই বাংলাদেশ

‘স্কিল’ দিয়েই ‘হ্যাক’ করতে চায় বাংলাদেশ

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘স্কিল’ দিয়েই ‘হ্যাক’ করতে চায় বাংলাদেশ

একসময় গলফ খেলতেন বলে এমনিতেই অনেক দূরে বল পাঠানোর ব্যাপারটি তাঁর রপ্ত করা। ক্রিকেট ব্যাট হাতে এর চেয়েও বেশি দূরে বল পাঠানোর সুনাম আছে জর্জ মানসির। বিগ হিটিং সামর্থ্যের পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ শটে দিব্যি রান চুরি করতে জানেন বলেই হয়তো একটি নামও জুটে গেছে এই স্কটিশ ব্যাটসম্যানের—হ্যাকার। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাঁর ‘হ্যাক’ করার সামর্থ্যের প্রকাশ দেখতে চাইবে স্কটিশরা।

সত্যিই তাই দেখা গেলে বিপদে পড়ার কথা বাংলাদেশেরও। সাম্প্রতিক অতীত অন্তত তা-ই বলছে। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংই শেষ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। যদি স্কটল্যান্ডের কেউও তেমন কোনো ইনিংস খেলে ফেলেন? মানসির স্ট্রাইক রেটই যেমন ১৫৩-র বেশি। এমন বেধড়ক পেটাতে জানা ব্যাটসম্যানও তো বাংলাদেশের নেই যে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে রানের গতিতে দম দেবেন। এ নিয়ে চর্চা অবশ্য নতুন নয়। ম্যাচের আগের দিনও হল সেই চর্চা।

মাহমুদ উল্লাহ শুনলেন কিন্তু একমত হলেন না। বরং ‘স্কিল’ দিয়েই ‘হ্যাক’ করার উপায়ও দেখিয়ে রাখলেন। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে এলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকেও, ‘আপনি যদি পাওয়ার হিটার চিন্তা করেন, কাকে বলবেন? ক্রিস গেইল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল—এঁদেরই বলা যায় পাওয়ার হিটার। কেন উইলিয়ামসনকে কি আপনি পাওয়ার হিটার বলবেন? সে স্কিলফুল হিটার ও স্কিলফুল ব্যাটসম্যান। ঠিক না?’

নিজের দলের ব্যাটসম্যানদের মাঝেও উইলিয়ামসনেরই ছায়া দেখতে পান মাহমুদ, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি স্কিল হিটিং পারফরম্যান্স। আমার মনে হয়, দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তাই পাওয়ারফুল হিটার না হয়ে আমরা স্কিলফুল হিটার হলেই ভালো। এটি নিয়ে কমবেশি সবাই কথা বলেছি। মাঠে কাজে লাগাতে পারলে ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো কিছুই আশা করতে পারি।’

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক আশা করছেন স্পোর্টিং উইকেটও। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড সিরিজ মিলিয়ে ১০ ম্যাচের শেষটিতেই শুধু এ রকম উইকেট বেছে নিয়েছিল বাংলাদেশ। তাতে তেমন সুবিধা করে উঠতে না পারলেও এবার মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার কথাই বললেন মাহমুদ। চোটের জন্য একটিও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হয়নি তাঁর। এমনকি মাসকাটে অনুশীলন শিবিরের সময় ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচটিও নয়।

তবে মাঠে ছিলেন, সতীর্থদের কাছ থেকেও জেনেছেন। সেই জানাশোনা থেকে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলে রাখলেন, ‘ওমানে যে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলেছিলাম, সেই ম্যাচে ব্যাটসম্যান-বোলারদের সঙ্গে যতটা আলাপ-আলোচনা করেছি, সবাই বলেছে—উইকেটের কন্ডিশন ভালো ছিল, স্পোর্টিং উইকেট ছিল। আশা করি কন্ডিশন ও রকমই থাকবে। আমাদের যেকোনো কন্ডিশনের জন্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। তাহলে উইকেট স্লো হোক, বাউন্সি হোক বা স্পোর্টিং হোক—আমরা মানিয়ে নিতে পারব। আশা করছি, ভালো উইকেটই হবে এবং প্রথম বল থেকেই ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

প্রথম বল থেকেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাটিংয়ের সূচনাটাও খুব ভালো হওয়া চাই। যদিও এর কোনো নিশ্চয়তা হয়ে উঠতে পারছে না গত কিছুদিনে লিটন কুমার দাস ও নাঈম শেখের ব্যাটিং। ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুজনই ফিফটি করেছিলেন যদিও, তবে তাঁদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব। আর বিশ্বকাপের অফিশিয়াল দুই প্রস্তুতি ম্যাচে দল হারলেও অল্পবিস্তর রান যা করার করেছেন সৌম্য সরকারই। দুই ম্যাচে তাঁর রান ৩৪ ও ৩৭, যা ওপেনিংয়ের বিবেচনায় তাঁকে বেশ ভালোভাবেই ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে হলো মাহমুদের কথায়, ‘সৌম্য দারুণ ব্যাটিং করছে। এই দুটি ম্যাচে (শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে) সে ব্যাটিং ভালো করেছে, বোলিংও খারাপ করেনি। এখন টিম কম্বিনেশন কিভাবে সাজাচ্ছি, এর ওপর নির্ভর করছে। তবে সৌম্য ওপেনিংয়ের বিবেচনায় আছে, অথবা ওকে দেখা যেতে পারে তিন নম্বরেও।’

লিটন আর নাঈমকে দিয়ে ওপেন করিয়ে সৌম্যকে তিনে খেলালে সাকিবকে সরে যেতে হবে চার নম্বরে। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহরাও পেছাবেন। আবার স্পিনের বিপক্ষে স্কটিশ ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা বিবেচনায় সাকিবকে ধরে তিনজন স্পিনার খেলানোর ভাবনাও আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। সে ক্ষেত্রে লিটন-নাঈম-সৌম্য—তিনজনই একাদশে থাকলে হয় একজন পেসার কমাতে হয়, নয়তো একজন স্পিনার। এর কোনোটিই করার ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্ট অপারগ হলে লিটনের সঙ্গে সৌম্যকে ওপেন করতে দেখা গেলেও যেতে পারে। স্পিন দিয়েই স্কটিশদের ‘হ্যাক’ করার ভাবনা প্রাধান্য পেলে তো হওয়ার কথা এ রকমই।



সাতদিনের সেরা