kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

ক্রিকেট সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে ভিনদেশে

মাসুদ পারভেজ, মাসকাট থেকে   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রিকেট সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে ভিনদেশে

ডাকনাম নিপুণ হলেও তাঁর স্বপ্নটি ঠিক নিপুণভাবে ডানা মেলেনি। বরং মাঝপথেই দুর্ভাগ্য সেই স্বপ্নের ডানা ছেঁটে দেয়। অল্প কয়েকটি ম্যাচ খেলেই তাই যুব বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে। কাঁধের চোটে ছিটকে পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে আকবর আলীদের বিশ্বজয়ের উৎসবে সঙ্গী হতে না পারার দুঃখ এই বাঁহাতি পেসারকে তাড়িয়ে বেড়াবে আজীবনই।

তবু ভালো যে মৃত্যুঞ্জয় বড় মঞ্চে অন্তত পা রাখতে পেরেছিলেন। কারো কারো ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায় আরো অনেক আগেই। তেমনই একজনকে পাওয়া গেল এই মাসকাটে এসে, যিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ের সতীর্থ। দেশের বাইরে খেলতে গিয়েছেন একসঙ্গে। যুব বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নের নাগাল পেতে একসঙ্গেই খেটেছেন হাড়ভাঙা খাটুনি। নাঈম হাসান রাশেদ নামের তরুণ ক্রিকেটার শোনাচ্ছিলেন সেই গল্পই, ‘২০১৮ সালে আমি আর মৃত্যুঞ্জয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে পাকিস্তান সফর করি। আমরা দুজনই বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। ওর স্বপ্ন পূরণ হলেও আমার হয়নি।’

না হওয়ার কারণ চোট, ‘বোলিংয়ে ফলো থ্রুর সময় ব্যাটারের শটে বল এসে লাগে ডান পায়ে। ভীষণ ব্যথা পাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার জানিয়ে দেন অন্তত এক বছর খেলতেই পারব না। এই বিরতিতেই মূলস্রোত থেকে হারিয়ে যাই একরকম।’ তবে এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের জন্য একটি দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও খুলে যায় আরেকটি। ওমানপ্রবাসী বড় ভাইয়ের সূত্রে পরিচয় হয় সে দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার অর্জুন রাজেশের সঙ্গে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাট করতে করতে সম্পর্ক গড়ায় বন্ধুত্বে। এর সুবাদেই খেলার সুযোগ এসে যায় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ওসিএলে (ওমান ক্রিকেট লিগে)।

সুবাদে ভিনদেশেই খুলে যায় ক্রিকেট সম্ভাবনার নতুন এক দুয়ার। স্যাম রয়ালসের হয়ে আগের মৌসুমে পারফরম করার পুরস্কার হিসেবে এবার ডাক পান আরো কয়েকটি দল থেকেও। তবে দল না বদলে এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ও বাঁহাতি স্পিনার রয়ে গেছেন পুরনো দলেই। এবারের ওসিএলেও দারুণ কিছু করে নতুন স্বপ্নের নাগাল পাওয়ার দাবি জানিয়ে রাখতে চান। তাঁর মতো আরো কয়েকজন বাংলাদেশিও এই লিগে খেলেন। এঁদের মধ্যে রুবেল নামের একজন মাসকাটে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন শিবিরে নেটেও বল করে গেছেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একবার চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির নেটে বল করার সুযোগ পাওয়া রাশেদ অবশ্য তাঁর স্বপ্নের পরিধি বিস্তৃত করেছেন জাতীয় দলে খেলা পর্যন্ত। যদিও সেটা ওমানের জার্সিতে।

নিজের দেশের চেয়ে ওমানের জাতীয় দলে খেলার পথ তাঁর জন্য অনেক মসৃণ বলেই মনে করেন চট্টগ্রামের এই তরুণ, ‘ওমানের স্থানীয়রা ক্রিকেট তেমন খেলেই না, যা খেলার খেলে এখানে থাকা ভারতীয়, পাকিস্তানি ও শ্রীলঙ্কানরা। ওরা যদি জায়গা করে নিতে পারে, তাহলে আমরা কেন নই? এখানে এক মৌসুমে পারফরম করে যেভাবে একাধিক দল থেকে ডাক পেয়েছি, তাতে মনে করি আমি পথেই আছি।’

পথ দেখাতে আছেন ভিনদেশের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া হুমায়ুন কবীর। এখন সুইডেনের কোচ, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ক্রিকেটার জন্টি রোডসের সঙ্গে যাঁর ছবি ভাইরালও হয়েছে। সেই দেশে পড়তে গিয়ে চাকরির পাশাপাশি ক্রিকেট খেলতে খেলতে সুইডেনের জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান দূরের বিদেশে অলক্ষ্যে উড়িয়েছেন দেশের পতাকা।



সাতদিনের সেরা