kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বকাপের ডায়েরি

বিনা বেতনে ছুটির ক্রিকেটাররা

মাসুদ পারভেজ, মাসকাট থেকে   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনা বেতনে ছুটির ক্রিকেটাররা

একসময় তেল বিক্রির টাকায় ফুলে-ফেঁপে ওঠা অর্থনীতি ছিল না মধ্যপ্রাচ্যের। ওমানও এর ব্যতিক্রম নয়। আর্থিক টানাপড়েনেও পড়ে যেতে হতো দেশটির সুলতানকে। আপৎকাল পার করার জন্য হাত পাতার মতো একটি ব্যাংকও ছিল তাঁর হাতের কাছেই।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকের নাম কানাক্ষী খিমজি।

ওমানের সুলতানকে প্রায়ই অর্থ ধার দিতেন ভারতীয় এই ব্যবসায়ী। তাঁর পূর্ব পুরুষ বহুকাল আগেই থিতু হয়েছিল দেশটিতে। ব্যবসার প্রসারও ছিল বেশ। সেই থেকে বংশপরম্পরায় তাঁদের ব্যাবসায়িক বিস্তৃতিও বাড়তে থাকে। একসময় পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরা কানাক্ষী সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ধরেও রাখেন। অর্থ-বিত্তও বাড়তে থাকে। যে অর্থ ধার নিয়ে কাজে লাগাতেন সুলতানও। দেশের অর্থনীতিতে এভাবে অবদান রাখার পুরস্কার হিসেবে সুলতানের তরফ থেকে পান পৃথিবীর একমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী ‘শেখ’-এর উপাধিও।   

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে এসে এই ‘শেখ’কে নিয়ে পড়ে থাকার কারণ ক্রিকেটই। কানাক্ষী খিমজির ছেলে পঙ্কজ খিমজিই যে এখন ওমান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। বাবার পথ ধরে ছেলেও এই দেশে জ্বালিয়ে রেখেছেন ক্রিকেটের আলো। তাঁদের পূর্ব পুরুষদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল ব্রিটিশদের। সেই সূত্রে মাঝেমধ্যেই ওমানে আয়োজিত হতো প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। এভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ক্রিকেট চালু হয়। যদিও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এখনো সেভাবে ঢুকে পড়তে পারেনি। মূলত ওমানে এসে থিতু হওয়া ভারতীয়, পাকিস্তানি আর শ্রীলঙ্কানরাই ক্রিকেটটা এখানে খেলে থাকেন। তাঁদের নিয়ে বংশপরম্পরায় পঙ্কজ খিমজিদের পারিবারিক কাঠামোতে ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে আছে ওমানের ক্রিকেট।

তাঁর পরিবারের সঙ্গে এই দেশের ক্রিকেট যেমন যুক্ত, তেমনি এর ক্রিকেটাররাও। যদিও এখনো ক্রিকেটটা পুরোপুরি পেশাদার কাঠামোর মধ্যে আসেনি। এমনকি ওমানের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও এখন পর্যন্ত ‘সেমি প্রফেশনাল’ পর্যায় পার করতে পারেননি। অধিনায়ক জিশান মাকসুদ থেকে শুরু করে সবাই কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। খেলা না থাকলে তাঁদের অনেককে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসও করতে হয়। খেলার সময়ে ছুটিও পান, তবে বিনা বেতনে। খেলতে এলে অবশ্য তাঁদের পুষিয়েও যায়। ওই সময়ে অফিস থেকে না পাওয়া বেতনটা দেয় ওমান ক্রিকেট বোর্ডই। খেলা শেষে আবার তাঁরা ফিরে যান নিজ নিজ অফিসে, ডুবে যান কাজে।

কোথায় চাকরি করেন তাঁরা? সেটিই জানাচ্ছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে ওমানেও কাজ করা বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম, ‘ওমান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পঙ্কজ ভাইদের অনেক পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেগুলোতেই ক্রিকেটারদের চাকরি দিয়ে রাখা হয়। ওমানে জমজমাট করপোরেট ক্রিকেট লিগও হয়। সেখানে ওরা খেলে। আর জাতীয় দল বা ওমানের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোনো দলের হয়ে খেলার সময় এলে ওরা ছুটি পায়। ’ বিনা বেতনের ছুটি হলেও টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হয় না। কারণ ক্রিকেটেও তো ‘বস’ সেই পঙ্কজ খিমজিই।

যিনি নিজেও এখন স্বপ্ন পূরণের দুয়ারে। ওমানের আল আমরাত স্টেডিয়ামে যে এখন চোখ ক্রিকেট বিশ্বের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই অবশ্য ব্যবস্থাপনায় পুরো মার্কস তুলে নিয়েছে এই ভেন্যুটি। না হলে কী আর প্রস্তুতি শিবির করতে ইংল্যান্ডও এখানে চলে আসে নাকি?



সাতদিনের সেরা