kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

টি-টোয়েন্টি শুধু ছক্কার খেলা নয়

টি-টোয়েন্টি মানেই কি পাওয়ার হিটিং? বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসনরা কিন্তু ক্লাসিক ব্যাটিংয়ে মাত করছেন এই ফরম্যাটে। পাকিস্তানি সাবেক অধিনায়ক ও কোচ জাভেদ মিয়াঁদাদেরও বিশ্বাস, টি-টোয়েন্টি শুধু ছক্কার খেলা নয়। ‘জিও টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কিংবদন্তি জানালেন খেলাটায় সফল হওয়ার মূলমন্ত্রও।

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টি-টোয়েন্টি শুধু ছক্কার খেলা নয়

ভারত দারুণ শক্তিশালী। দলে অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে ওদের। তবে আমরা যদি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারি আর অযথা চাপ না নিই তাহলে হারাতে পারি ওদের।

প্রশ্ন : পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচটি প্রবল চাপের হয়ে গেল কি?

জাভেদ মিয়াঁদাদ : বিশ্বকাপে এগিয়ে যাওয়ার ছন্দ খুঁজে পেতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত দারুণ শক্তিশালী। দলে অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে ওদের। তবে আমরা যদি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারি আর অযথা চাপ না নিই তাহলে হারাতে পারি ওদের।

প্রশ্ন : ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি কোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপে কিন্তু ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান।

মিয়াঁদাদ : তাতে কী হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের কোনো মানে নেই। প্রতিটি টুর্নামেন্ট নতুন আর খেলা হবে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টির ফাইনালটা মনে আছে আমার। সেবার জয়ের খুব কাছে ছিল পাকিস্তান। শেষ ওভারে মিসবাহ ওই শটটা (স্কুপ) না খেললে সহজেই জিতত পাকিস্তান।

 

প্রশ্ন : গেইল, কোহলি, ওয়ার্নারদের মতো খেলোয়াড়রা একাই ম্যাচ জেতাতে পারেন। পাকিস্তানে এমন কেউ কি আছেন?

মিয়াঁদাদ : টি-টোয়েন্টি এমন একটি ফরম্যাট যেখানে অনেকে মনে করে, কেউ একাই জেতাতে পারে দলকে। আমি সেটা মানি না। আমার মনে হয় এই ফরম্যাটে সবাইকে অবদান রাখতে হবে।

প্রশ্ন : কিভাবে?

মিয়াঁদাদ : এই ফরম্যাটে অনেক সময় ২০ রানের ছোট্ট একটা ইনিংসও ম্যাচ জেতাতে পারে। কিংবা অসাধারণ একটি ক্যাচ বা কোনো বোলারের একটি ওভারে ঘুরে যায় পুরো ম্যাচ। ধরুন, একজন ৩০ বলে ৬০ রান করে আউট হলো। কিন্তু শেষ ওভারে তাঁর দল ৬ বলে ৮ রান নিয়ে জিততে পারল না। তাহলে লাভটা কী? এ জন্যই সবাইকে অবদান রাখতে হবে।

প্রশ্ন : তার পরও পাওয়ার হিটারদের বিশেষ কদর আছে টি-টোয়েন্টিতে। বলা হয় এটা ছক্কার খেলা?

মিয়াঁদাদ : টি-টোয়েন্টি শুধু ছক্কার খেলা নয়। আপনি সব সময় ছক্কার নেশায় থাকতে পারেন না। খারাপ বলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে আর খেলতে হবে পরিকল্পনামতো। সব বলে বড় শট নিতে পারেন না আপনি। তবে ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেলদের কথা আলাদা। এ রকম বিরল প্রতিভা বিশ্ব ক্রিকেটেই কটা আছে? তাই বেসিক মেনে ব্যাট করলে সাফল্য আসতে বাধ্য।

প্রশ্ন : পাকিস্তান দলটা নতুনভাবে গড়ে উঠছে। এই দলের পক্ষে বিশ্বকাপে কত দূর যাওয়া সম্ভব?

মিয়াঁদাদ : প্রথমত ক্রিকেটে পুনর্গঠন, নতুনভাবে গড়ে ওঠা—বহুল চর্চিত এই কথাগুলোর কোনো অর্থ খুঁজে পাই না আমি। দেখুন, আপনি যখন জাতীয় দলে, তখন বুঝতে হবে আপনি ওই পজিশনে দেশের সেরা খেলোয়াড়। আর সেরা হলে পারফরম করতে হবে, সহজ ব্যাপার। পাকিস্তানের বর্তমান দলটিতেও দুর্দান্ত সব পারফরমার আছে। এটা ঠিক, বাবর আজম আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। তাই বলে বাবরের ওপর পাকিস্তান নির্ভরশীল হলে ডুববে। ভালো কিছু করতে হলে, সবাই মিলে ভালো খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস পাকিস্তানের এই দল সেটা পারবে।



সাতদিনের সেরা