kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ব্রুজোন বলছেন ষড়যন্ত্র

শাহজাহান কবির, মালদ্বীপ থেকে

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রুজোন বলছেন ষড়যন্ত্র

সংবাদ সম্মেলনে এলেন অস্কার ব্রুজোন, মুখ কালো মেঘের মতো থমথমে। চুল উসকো-খুসকো, যেন ঝড় বয়ে গেছে তাঁর ওপর দিয়ে। মোহনবাগানের বিপক্ষে এএফসি কাপ ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘মুখ খুললে আমি ২৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়ব।’ কাল সেই নিষেধাজ্ঞার খড়্গ মাথায় নিয়েও চুপ থাকতে পারলেন না, ‘ভারতের বিপক্ষ ড্রয়ের পর থেকেই আমাদের পেছনে যেন কোনো অশুভ শক্তি লেগেছে। বাংলাদেশকে তারা উঠতে দিতে চায় না। আজ সে জন্যই এমন পেনাল্টি দেওয়া হলো। আমরা সবাই ভেবেছিলাম রেফারি গোল কিকের বাঁশি বাজিয়েছেন, অথবা ডাইভিংয়ের, সেখানে এই সিদ্ধান্ত! আমরা হতবাক।’

সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন রাকিব হোসেনকে। কার্ডের কারণে আগের ম্যাচ খেলতে না পারা রাকিব এদিন আক্রমণে ধার বাড়িয়েছিলেন। আনিসুরের লাল কার্ডে যদিও তাঁরই অনেকখানি দায়। এর পরও বাংলাদেশ ম্যাচে ছিল। কিন্তু ৮৮ মিনিটে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশের লড়াইয়ের শেষ শক্তিটুকুও যেন কেড়ে নেয়। ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন খেলোয়াড়রা। শেষটায় মুষড়ে পড়েছেন হতাশায়, রাকিবই জানালেন, ‘ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অসহনীয়। সবাই পাগলের মতো হয়ে গেছে, কেউ কান্নাকাটি করছে। এত কাছে এসে জিততে না পারা... তবু মানতে পারতাম সিদ্ধান্তটা যদি সঠিক হতো। এমন ভুল একটা সিদ্ধান্তে আমাদের বিদায় নিতে হচ্ছে—এটা একেবারেই মানতে পারছি না।’ হতাশাটুকু একপাশে সরিয়ে রেখে ব্রুজোন কিন্তু পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন শিষ্যদের, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের সেরা না হলেও অন্যতম সেরা দল ছিলাম। আমার খেলোয়াড়রা মাঠে সেটা দেখিয়েছে। ভারত ম্যাচের পরই বলেছিলাম, বাংলাদেশের ফুটবল এখনো মরেনি। কিন্তু অদৃশ্য কোনো একটা শক্তি যেন আমাদের উঠতে দিতে চাইছে না।’ এএফসি কাপের প্রসঙ্গেও ফিরেছেন ব্রুজোন, ‘এএফসি কাপেও একই ঘটনা ঘটেছে। যখনই ম্যাচ আমাদের পুরো নিয়ন্ত্রণে তখনই সুশান্তকে লাল কার্ড দেখিয়ে ১০ জন করে দেওয়া হলো।’

সেই আসরেও ব্রুজোনের বসুন্ধরা কিংস হারেনি, কিন্তু ১-১ ড্র নিয়েই মোহনবাগান পৌঁছে গিয়েছিল পরের রাউন্ডে। কাল মালদ্বীপে তারই পুনরাবৃত্তি হলো। নেপাল কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরিকেও প্রশ্ন করা হয়েছে এই পেনাল্টি নিয়ে। নেপাল কোচের জবাব, ‘হ্যাঁ অথবা না— আমার কোনো উত্তরই এখানে সঠিক হবে না। কারণ এই সিদ্ধান্ত দুই দলের কাছে দুই রকম মনে হতে পারে। আমার মনে হয়েছে এটা পেনাল্টি। তবে আমি নিশ্চিত নই।’ ব্রুজোন পরিষ্কারই বলেছেন, ‘নেপাল এই ম্যাচ থেকে কিছুতেই ফাইনালে ওঠার দাবি রাখে না। সেটা বাংলাদেশেরই প্রাপ্য ছিল।’

টানা চারটি সাফে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর বাংলাদেশ এই আসরে শিরোপা জয় নয়, ফাইনালে ওঠার কথাই ভাবছিল। সেই ফাইনালের খুব কাছে এসে এভাবে ফেরা বাংলাদেশের উন্নতিটাকে মুছতে পারবে না বলেই মনে করেন স্প্যানিশ এই কোচ। বসুন্ধরা কিংস থেকে তাঁকে শুধু এই সাফের জন্যই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর পরও কাজ চালিয়ে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি এই কোচ, ‘আমার ক্লাব সভাপতি ও বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এই মুহূর্তে আমি হয়তো ছুটিতে যাব। লিগ, এএফসি কাপের পর এই সাফ—আমারও কিছুটা দমবন্ধ লাগছে এই মুহূর্তে। ছুটিতে নিজেকে একটু সতেজ করতে চাই।’ এদিকে গতকাল মালদ্বীপকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফেভারিট ভারত।



সাতদিনের সেরা