kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মুশফিকের ব্যাটে জয়

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুশফিকের ব্যাটে জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নিউজিল্যান্ড সিরিজে একদমই ছন্দে ছিলেন না মুশফিকুর রহিম। তবে তিনি একা নন, সৌম্য সরকারের মতো কেউ কেউ ছন্দহীন এর আগের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ছন্দ ফিরে পেতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বিপক্ষে এক দিনের ম্যাচ খেলার কথা ছিল এই বাঁহাতি ওপেনারেরও। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সৌম্যর সরে যাওয়াটা সংশ্লিষ্টদের মাঝে অসন্তোষই ছড়িয়েছে। তুলনায় উজ্জ্বল ব্যতিক্রম মুশফিক নিজের তাগিদে দেশ ছাড়ার আগে ছুটি বিসর্জন দিয়ে যে উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম উড়ে গেছেন, সেটি দারুণ সফল। রানে না থাকা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপের আগে পেয়েছেন মহামূল্য রানের দেখা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দুই দলের মধ্যে সিরিজের প্রথম ম্যাচই শুধু খেলেননি, ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছেন অপরাজিত ৭০ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসও। এমন নয় যে এই এক ম্যাচ খেলেই ছন্দ ধরে ফেলেছেন তিনি। ৪৮.৫ ওভারে অলআউট এইচপির ২৪৭ রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকও শুরুর জড়তায় ভুগেছেন। প্রথম ৫ রান করতেই খেলেছেন ২১ বল। এর পরও যে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে এগিয়েছে তাঁর ইনিংস, এমনও নয়। পদে পদে বরং বিপদও ডেকে এনেছেন। দুইবার সুযোগ দিয়েও বেঁচে যাওয়া মুশফিকের ফিফটি ছুঁতেও লেগে যায় ৭৭ বল। তাঁর ইনিংসে স্ট্রোকের ফুলঝুরিও ছিল না কোনো। বরং সময় নিয়ে থিতু হওয়ার চেষ্টায় সফল মুশফিক উইকেটে লম্বা সময় পার করার স্বস্তি নিয়ে অন্তত কাল ম্যাচ শেষ করতে পেরেছেন। ৯১ বলের ইনিংসে ছয়টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কার মারে ১৩ বল বাকি থাকতেই দলকে এনে দিয়েছেন ৬ উইকেটের দারুণ এক জয়ও।

ম্যাচের সর্বোচ্চ ইনিংসটি অবশ্য এইচপির ওপেনার তানজিদ হাসানের (৮১)। দ্বিতীয় উইকেটে তিনি মাহমুদুল হাসানকে (৩৮) নিয়ে গড়েছেন ১৩০ রানের পার্টনারশিপও। এরপর ফিফটি করেছেন শাহাদাত হোসেনও (৫১)। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া ‘এ’ দলের মোসাদ্দেক হোসেনের (৪/৩১) অফস্পিনে পরে আর প্রত্যাশিত গতি পায়নি এইচপির ইনিংস। বিশ্বকাপ দলের শামীম পাটোয়ারীও (১২ বলে ৮) পারেননি দলের সংগ্রহে অবদান রাখতে। তবে তিনটি চার ও দুই ছক্কায় ১৮ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে ফেরানো শামীম ‘এ’ দলের শুরুর গতি রোধ করেন। ওপেন করা অধিনায়ক মমিনুল হক (২৯) ও ইমরুল কায়েস মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ফিফটি পেরোনো পার্টনারশিপ। দীর্ঘদিন পর ম্যাচ খেলতে নেমেই ফিফটি করা ইমরুল (৮১ বলে ৬০) তৃতীয় উইকেটেও মুশফিকের সঙ্গে যোগ করেন আরো ৫৯ রান। এরপর মোসাদ্দেক (২৪) ও মোহাম্মদ মিঠুনকে (২৮*) নিয়ে বাকিটা পথ পাড়ি দেন মুশফিক। ফিফটির আগে দুটি সুযোগ দিয়েও বেঁচে যাওয়া এই ব্যাটসম্যান আর পিছু ফিরে তাকাননি। ৩৫ ও ৪২ রানে দুইবার জীবন পাওয়া মুশফিক নিউজিল্যান্ড সিরিজের পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৩৯ রান। তাই নিজে থেকে খেলার সিদ্ধান্ত নেন এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে। খুব স্বচ্ছন্দ না হলেও এর প্রথমটি তাঁকে রানের দেখা অন্তত পাইয়ে দিল।



সাতদিনের সেরা