kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রত্যাশাই চাপে ফেলবে ফুটবলারদের

সনৎ বাবলা   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রত্যাশাই চাপে ফেলবে ফুটবলারদের

ফাইনালের রব তুলে তারা মালদ্বীপ রওনা হলেও বাস্তবে ২০০৫ সাফের ছায়া নেই এই বাংলাদেশ দলে। সেবছর শেষবার সাফের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। আর এখনকার দলটি হারতে হারতে জয়ের পথ যেন ভুলেই গেছে! দলটাকে পথে ফেরানোর ব্রত নিয়ে অস্কার ব্রুজোন ফুটবলারদের বুকে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন বোনার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ সর্বশেষ সাফের ফাইনাল খেলেছে ২০০৫ সালে। পাকিস্তানে সেই আসরে তারা গিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে। দুই বছর আগে অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের দলটি ঢাকায় প্রথম সাফ শিরোপা জেতে। সেই আসরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ভারতকে সেমিফাইনালে হারিয়ে তারা ফাইনালে ওঠে, এরপর মালদ্বীপকে হারিয়ে জেতে শিরোপা। সুবাদে দুই বছর বাদে প্রায় একই দল যায় পাকিস্তানে, সঙ্গে অবশ্যই পরাশক্তির হুংকার ও বিশ্বাস। তবে সেই দলের কাণ্ডারি ছিলেন আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি, তাঁর পূর্বসূরি কোটান ‘পাওয়ার ফুটবলের’ চর্চা করলেও এই আর্জেন্টাইন কোচ দলে পাসিং ফুটবলের মাধুরী যোগ করে অপরূপ করে তুলেছিলেন। গ্রুপ থেকে শুরু করে ফাইনালের আগে তারা হারেনি কোনো ম্যাচ। গ্রুপে যে ভারতের সঙ্গে ড্র করেছিল শেষ পর্যন্ত তাদের কাছেই আত্মসমর্পণ করে তারা ফাইনালে।

সেই দলে গোলখরার হাহাকার ছিল না। ফরোয়ার্ড লাইনে পাঁচজনের মধ্যে নিয়মিত খেলেছেন চারজন এবং তিনজনেরই গোল আছে। আরিফুল কবির ফরহাদ ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই করেন জোড়া গোল। এ ছাড়া জাহিদ হাসান এমিলিরও দুই গোল এবং রোকনুজ্জামান কাঞ্চন ও ডিফেন্ডার সুজন করেন একটি করে গোল। কিন্তু এই দলের ফরোয়ার্ডদের পায়ে নেই গোলের সেই ধার। মাহবুবুর রহমান, ইব্রাহিম, মতিন মিয়ারা কখনো সেই ভরসার জায়গা তৈরি করতে পারেননি। ঝোড়ো গতির মতিনকে নিয়ে আশা তৈরি হলেও গত লিগে গোলশূন্য থাকা এই স্ট্রাইকারের আত্মবিশ্বাস নিরাশার সমুদ্রের তলদেশে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারতের সঙ্গে ড্র ম্যাচের পর সেই বিস্ফোরক ইব্রাহিমকে আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ কিরগিজস্তান সফরে তরুণ সুমন রেজার পায়ে দুই গোলে আশার ঝিলিক দেখা গেছে। তবে আশা নয়, জরুরি হলো গোলের নিশ্চয়তা। তাই সাফের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠিত ফরোয়ার্ড লাইন লাগবেই। নইলে আক্রমণাত্মক ফুটবলও কখনো সুফলা হবে না।  

গোল করায় আক্রান্ত ফরোয়ার্ড লাইনের মতো মাঝমাঠও ভুগছে সৃষ্টিশীলতার অভাবে। দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক খেলায় দলে ভিড় বেড়েছে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের, অথচ খেলা তৈরি করার মতো কেউ নেই। ২০০৫ সালে খেলা তৈরির কারিগর ছিলেন আরমান মিয়া, পরে সেই উত্তরাধিকারের ধারা বইয়ে নিয়ে গেছেন মামুনুল ইসলাম। কিন্তু এই দলে তো সেরকম কোনো মাঝমাঠের শিল্পী নেই, তাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করাও যায় না। বল পায়ে রেখে খেলা, আক্রমণ তৈরি করা ও গোলের আয়োজন করে দিতে না পারলে সেই মাঝমাঠ নখদন্তহীন। এই দলে বল পায়ে রাখতে পারেন কেবল একজনই—সোহেল রানা, কিন্তু মাঝেমধ্যে অকারণে ড্রিবল করতে গিয়ে অনেক সময় নিয়ে ফেলেন তিনি।

সেই তুলনায় রক্ষণভাগ আপাতভাবে সুরক্ষিত মনে হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক ফুটবলের চর্চায় তৈরি এই রক্ষণভাগ। কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝুঁকি হলো, কাউন্টারে রক্ষণ সংগঠন ঠিকঠাক রাখা। এসব কিছু জেনে-বুঝেই অস্কার ব্রুজোন আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন স্প্যানিশ কোচ জাতীয় দলে ইতিবাচক ফুটবলের ধারা তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর এই ফুটবল কী উপহার দেবে, তা অজানা। তবে ফাইনালের রবটা যে ঠিক মানাচ্ছে না, ২০০৫-এর দলের তুলনায় যে এই দল গুণে-মানে পিছিয়ে। তা ছাড়া বারবার ফাইনালের উচ্চারণে অকারণ চাপ সৃষ্টি হয় খেলোয়াড়দের ওপর। সেই কথা ভুলে বরং জামাল ভুঁইয়াদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মন্ত্রই পড়াচ্ছেন অস্কার ব্রুজোন।



সাতদিনের সেরা