kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আক্রমণাত্মক ফুটবলের ব্রত নিয়েই সাফে

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আক্রমণাত্মক ফুটবলের ব্রত নিয়েই সাফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাড়ে তিন বছরের রক্ষণাত্মক পরম্পরা ভুলে আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়ে অস্কার ব্রুজোনের নতুন বাংলাদেশ যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। জেমির রক্ষণাত্মক ফুটবল থেকে বেরিয়ে দলকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারায় ফেরানোর কাজ করেছেন এই স্প্যানিশ কোচ। আর এই স্টাইলে নাকি খুলতে পারে লাল-সবুজের সাফের গেরো।

গেরোটা হলো, গত চার আসরে সেমিফাইনালের আগেই ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ। এবার সেমিফাইনাল নেই, লক্ষ্যও তাই ফাইনাল। এই লক্ষ্যে ২৩ সদস্যের দল আজ মালদ্বীপ রওনা হচ্ছে। যাওয়ার আগে কোচ-অধিনায়কের কণ্ঠে শোনা গেছে দলের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা। ঘরোয়া ফুটবলে সেরা বসুন্ধরা কিংস থেকে গিয়ে অস্কার ব্রুজোন জাতীয় দলকে আক্রমণের ধারায় ফেরাতে কাজ করেছেন এই কদিন, ‘ফুটবল কঠিন খেলা। একটা নতুন স্টাইলে খেলতে এবং তৈরি হতে আমরা কাজ করছি। আক্রমণাত্মক ফুটবলের খেলাটা ছেলেদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তখন তারা কিভাবে রক্ষণ সামালাবে, সে নিয়েও কাজ হয়েছে। তিন দিনের ট্রেনিংয়ে আমরা এ নিয়ে কাজ করেছি, কিছু কঠিন কাজ এখনো বাকি আছে। তবে আমি কথা দিতে পারি, ছেলেরা এখন নতুন স্টাইলে খেলতে শুরু করেছে।’

ম্যাচ জয়ের সহজ উপায় হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল। কিন্তু এটা খেলতে গেলে খেলোয়াড়দের পায়ে-মাথায় ফুটবল থাকতে হয়। নিজেদের পায়ে বল রেখে খেলতে জানতে হয়। এই জানা, বোঝা এবং খেলার সামর্থ্য দেশের ফুটবলারদের আছে বলেই বিশ্বাস করেন অস্কার, ‘এখানকার ফুটবলাররা পাস দিতে পারে না, গোল করতে পারে না, রক্ষণ করতে পারে না—এই কথাগুলো আমি বিশ্বাস করি না। সত্য হলো, আমাদের ভালো বক্সের খেলোয়াড় অর্থাৎ নাম্বার নাইন আছে। কিন্তু আমি তো লিগে বিদেশিদের ওপর গোলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। তাহলে আমরা কিভাবে গোল করব? আগের ম্যাচগুলো দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায়, বাংলাদেশ রক্ষণে বেশি মনোযোগী থাকত এবং আক্রমণের দায়িত্ব থাকত গুটিকয়েকের ওপর। এটা পরিবর্তনের সময় হয়ে গেছে। আমি মনে করি, এই দলের আক্রমণের দ্বিতীয় লাইনটা খুব ভালো এবং এটা ইতিবাচক। আর গোল করার কাজটা সবাইকে করতে হবে, এমনকি ডিফেন্ডারদেরও।’

অর্থাৎ এই দল ড্রয়ের জন্য নামবে না। ১ অক্টোবর শুরু সাফে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু হবে তাদের জয়ের মিশন। শুরুর ম্যাচ জিতলে দলের চেহারা বদলে যাবে, সামনে এগোনোর মনোবল তৈরি হবে। কাল সংবাদ সম্মেলনে হাওয়ায় বোঝা গেল, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় নিয়ে কারো কোনো দ্বিধা নেই। কারণ হতে পারে, বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে থাকা একমাত্র দল শ্রীলঙ্কা (২০৫)। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও ভাবতে শুরু করেছেন পরের ম্যাচগুলো নিয়ে, ‘প্রথম প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা জিতলে পরের ম্যাচে ভারত। তারা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে এবং ফেভারিটও। তবে আমাদের ভালো দল আছে। আমাদের গ্রুপটা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছে, সুবাদে বোঝাপড়া ভালো। আমারও বিশ্বাস আছে, এই দলটা কিছু করতে পারবে।’ এবার পাঁচ দলের টুর্নামেন্ট হবে রাউন্ড রবিন লিগের। র‌্যাংকিংয়ে ১০৭ নম্বরে থাকা ভারত সবাইকে ছাড়িয়ে, এরপর মালদ্বীপ (১৬০) ও নেপালের (১৬৮) পেছনে বাংলাদেশ (১৮৯)।

র‌্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান যা-ই হোক, বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখ শিরোপায়, ‘আমাদের লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। শেষ সময়ের অনুশীলনে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে, নিজেদের সেরাটা দিতে চায় তারা। কিছু একটা করে দেখাতে চায় তারা। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ ফাইনাল খেলার লক্ষ্য থেকে এবার আরো এক ধাপ ওপরে উঠে গেছেন জামাল! তবে অস্কারের কথায় দোলাচল আছে, ‘ম্যাচের ফল কিংবা ট্রফি নিয়ে আমি কথা দিতে পারছি না। তবে আমরা চাই এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় তুলে নিতে।’ মাঠের পারফরম্যান্স তাদের শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ব্রত নিয়েই অস্কারের বাংলাদেশ যাচ্ছে সাফে।

২৩ জনের বাংলাদেশ দল

গোলরক্ষক : আনিসুর রহমান, শহীদুল আলম, আশরাফুল ইসলাম।

ডিফেন্ডার : বিশ্বনাথ ঘোষ, তপু বর্মন, তারিক কাজী, টুটুল হোসেন, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ হৃদয়।

মিডফিল্ডার : আতিকুর রহমান, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন, জামাল ভুঁইয়া, রাকিব হোসেন।

ফরোয়ার্ড : মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মতিন মিয়া, জুয়েল রানা, সুমন রেজা, বিপলু আহমেদ।



সাতদিনের সেরা