kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রেখে গেছেন লোকগাথা

পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকদের এই সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ চৌধুরী ২১ সেপ্টেম্বর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তবে তিনি রেখে গেছেন শুদ্ধ ক্রিকেট জগতের অগুনতি গুণগ্রাহী। গতকাল তাঁর স্মরণসভায় কীর্তিমানের আত্মার শুদ্ধতার কথাই আলোচিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেখে গেছেন লোকগাথা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘জালাল ভাই চলে গেছেন। তবে বহুমুখী গুণ নিয়ে তিনি আমাদের মধ্যে সব সময় বেঁচে থাকবেন’, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর এই কথাই সদ্যঃপ্রয়াত জালাল আহমেদ চৌধুরীর স্মরণসভায় ঘুরে বেরিয়েছে সবার মুখে মুখে। গতকাল সাবেক ক্রিকেটার, কোচ, সাংবাদিক ও অসাধারণ ক্রিকেট লেখক জালাল আহমেদের স্মরণসভা আয়োজন করে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ)।

পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকদের এই সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ চৌধুরী ২১ সেপ্টেম্বর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। তবে তিনি রেখে গেছেন শুদ্ধ ক্রিকেট জগতের অগুনতি গুণগ্রাহী। গতকাল তাঁর স্মরণসভায় কীর্তিমানের আত্মার শুদ্ধতার কথাই আলোচিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

কবি এবং ক্রীড়া লেখক সানাউল হক খানের সঙ্গে জালাল আহমেদ চৌধুরীর সখ্যের বয়স প্রায় ৪৪ বছর। পারিবারিক পর্যায়েও যোগাযোগ ছিল তাঁদের। বন্ধুর স্মরণসভায় আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন সানাউল হক, ‘এখানে আমরা যারা আছি, তাদের কারোরই তাঁকে (জালাল আহমেদ) বোঝার ক্ষমতা নেই। এত বিশাল তাঁর হৃদয়, ব্যাপ্তি।’ বিএসজেএর সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হকের ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাংবাদিক জালাল আহমেদ চৌধুরীকে পেয়েছেন।

কালের কণ্ঠ’র উপসম্পাদক মোস্তফা মামুন তুলে ধরেন জালাল আহমেদ চৌধুরীর কালজয়ী লেখনীকে, ‘আমরা জালাল ভাই দ্বারা অনুপ্রাণিত। তবে এখনো তাঁর মানে পৌঁছাতে পারিনি, মনে হয় না আমরা কেউ কখনো তা পারব।’ কিন্তু জীবনের শেষ ভাগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাকিত্ব গ্রাস করেছিল জালাল আহমেদ চৌধুরীকে। তাঁর মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন মামুন, ‘খেলাধুলায় যাঁদের অবদান আছে, শেষ বয়সে তাঁদের কিভাবে দেখভাল করা যায়, সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনের আয়োজনে স্বভাবতই লেখক জালাল আহমেদ চৌধুরীর অনন্য লেখনী নিয়েই স্মৃতিচারণা হয়েছে বেশি। নিজের পালায় প্রয়াতের দীর্ঘদিনের বন্ধু বিসিবি পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির আক্ষেপ, ‘জালাল ভাই এত সুলেখক ছিলেন, কিন্তু তাঁর কোনো বই নেই। এই প্রজন্মের অনেকেরই তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচয় নেই। আমি বিএসজেএকে অনুরোধ করব, যদি সম্ভব হয় তারা যেন জালাল ভাইয়ের সব লেখার একটি সংকলন করে।’

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম অনুপ্রেরণাই ছিলেন জালাল আহমেদ চৌধুরী, ‘গল্পটা আমি আগেও বলেছি। একটা ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছি। এরপর একজন আমার হাতে একটা খাম তুলে দিয়ে বলেন যে, এটা জালাল ভাই আমার জন্য রেখে গেছেন। খুলে দেখি অভিনন্দন আর শুভ কামনা জানিয়ে তাঁর একটি চিঠি। সঙ্গে এক শ টাকা। সে আমলে এক শ টাকা অনেক টাকা। আর আমার কাছে এখনো সেই এক শ টাকার নোটটা অসম্ভব দামি। অনুপ্রেরণার আধার। জালাল ভাই শুধু আমার বেলাতেই নন, যেকোনো শিষ্যকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারতেন।’

জালাল আহমেদ চৌধুরীর অনুপ্রেরণাদায়ী হয়ে ওঠার শক্তির উৎস তাঁর সহনশীল চরিত্র। ‘তর্কের টেবিলেও সে কম কথা বলত। কাউকে আঘাত করে কিছু বলেনি। কিছু বলার থাকলে পরিশীলিত ভাষায় পরোক্ষে বুঝিয়েছে’, কবি সানাউল হক খানের কণ্ঠ তখন প্রায় বুজে এসেছে।



সাতদিনের সেরা