kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তিন ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়তে হবে

সনৎ বাবলা   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়তে হবে

ছবি : কালের কণ্ঠ

সাফের ফাইনাল হঠাৎ যেন খেলো হয়ে গেছে! সামনে-পেছনে না ভেবে সবাই বলছে ফাইনালের কথা। সেখানে পৌঁছাতে হলে রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে। এই টুর্নামেন্টে গত এক দশকে যত ম্যাচ জিতেছে, এবার মালদ্বীপে জিততে হবে সেই তিন ম্যাচ।

এক টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ জয় কি খুব বেশি! সাদা চোখে দেখলে মোটেও বেশি নয়। শিরোপাপ্রত্যাশী হলে তিন ম্যাচের বেশি লাগবে। কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের স্লোগান হয়ে গেছে সাফে ফাইনাল খেলার। ফুটবলারদের মনে এ স্বপ্নটা এঁকে দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন। খেলোয়াড়রাও এখন এই বুলি আওড়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার মুখেও শোনা গেছে একই কথা, ‘আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটি জয় ও এক ড্র হলেই হয়ে যাবে।’ কিন্তু এই স্বপ্ন যে বারবার হোঁচট খাচ্ছে এক দশকের কঠিন বাস্তবতায়। সাফে সর্বশেষ চার আসরে লাল-সবুজের দল সাকল্যে জিতেছেই তিন ম্যাচ। একটি ড্র আছে আর হেরেছে বাকি আট ম্যাচ। এই নিস্তরঙ্গ ফুটবলসমুদ্রে হঠাৎ যে স্রোতোধারা বইতে শুরু করেছে, তা নয়। সদ্য কিরগিজস্তান গিয়েও তিন ম্যাচ হারের লজ্জা নিয়ে ফিরেছে। এর পরও আমাদের অবুঝ মনে অকারণে উঁকি দিচ্ছে ফাইনালের স্বপ্ন।

২০১১ সালের আসর থেকেই বাংলাদেশের দুর্গতি শুরু। তার আগ পর্যন্ত তারা এই অঞ্চলের পরাশক্তি। ২০০৩ সালে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথম সাফ শিরোপা জেতে। দুই বছর বাদে পাকিস্তানে গিয়ে ফাইনাল হারলেও ক্রুসিয়ানির অধীনে সেই দলটি বিল্ডআপ ফুটবলের দুর্দান্ত প্রদর্শনী করে। ২০০৯ সালে দেশের মাটিতে সেমিফাইনাল খেলে তারা। সেটাই হলো শেষ সেমিফাইনাল, এর পর থেকে দেশের ফুটবল পেছাতে থাকে এবং খসে পড়ে পরাশক্তির মর্যাদাটুকুও। ২০১১ সালে তিনটি ম্যাচ হেরে তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। দুই বছর বাদে কাঠমাণ্ডুতেও একই দুর্দশা, নেপাল ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের মাঝে আছে ভারতের সঙ্গে একটি ড্র। ২০১৫ সালে পরের আসরে আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের কাছে গোলবন্যায় ভেসে যাওয়া দলটি শেষ ম্যাচ ৩-০ গোলে জেতে ভুটানের বিপক্ষে। তিন আসর মিলিয়ে এটিই ছিল বাংলাদেশের একমাত্র জয়!

সেই তুলনায় গত আসরটি অনেক ভালো। ঢাকায় ২০১৮ সাফে জেমি ডে’র দলটি ভুটান ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের চৌকাঠে গিয়েও পারেনি। শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে হারে আর সেমিফাইনালের গেরো খোলা হয়নি। এবার পাঁচ দলের রাউন্ড রবিন লিগে সেমিফাইনাল নেই, সরাসরি শীর্ষ দুই দলের ফাইনাল। তা-ও জিততে হবে তিন ম্যাচ। লিগের অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলে অঙ্কটা আরো সহজও হতে পারে। আপাতভাবে ফাইনালের অঙ্কটা তিন ম্যাচ জয়ের। গত চার আসরে ১২ ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচ জয়ীদের পক্ষে এই অঙ্ক কঠিনই বটে। আবার গত আসরে যাদের সঙ্গে জিতেছে, সেই ভুটান ও পাকিস্তান এবার খেলছে না।

এর পরও বাফুফে সভাপতি বলছেন, ‘দল এবার ভালো করবে।’ প্রত্যাশার পেছনে আছেন নতুন কোচ অস্কার ব্রুজোন, যিনি অ্যাটাকিং ফুটবল খেলান এবং এ দেশের ফুটবলটা বোঝেন। তাঁর হাতে তিন বছর ধরে বেড়ে উঠছে জাতীয় দলের বেশির ভাগ ফুটবলার। এই স্প্যানিশ তিন ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ে ফাইনাল খেলার চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন!



সাতদিনের সেরা