kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

জন্মদিনের চাওয়া বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করছে তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সাবেক ক্রিকেট তারকা মিনহাজুল আবেদীন-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জন্মদিনের চাওয়া বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল

জন্ম : ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫

ছিলেন প্রজন্মের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। খেলা ছাড়ার পরও আছেন ক্রিকেটের সঙ্গে। কখনো কোচ হিসেবে, কখনো আবার নির্বাচক হিসেবে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এখন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক। আজ ৫৬তম জন্মদিনে পরিবারের আগে বেশি করে মনে করছেন জাতীয় দলকেই, ‘সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবারের জন্মদিনের চাওয়া সেমিফাইনালে খেলা। এটা ঠিক, কখনোই এত বেশি পথ পাড়ি দিতে পারিনি। তবে এই দলটার সে সামর্থ্য আছে।’

চট্টগ্রামে আবেদীন কলোনি ক্লাব ও টাউন ক্লাব নামে পারিবারিক দুটি ক্লাব ছিল মিনহাজুল আবেদীনদের। চট্টগ্রামের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট-ফুটবলে অংশ নিত দল দুটি। আর্থ-সামাজিক দিক থেকেও চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ আবেদীন পরিবার। মিনহাজুলের দাদা জয়নাল আবেদীন ছিলেন জমিদার। মূলত তাঁর নামেই বিখ্যাত সেই আবেদীন কলোনি। এম এ আজিজ স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠায়ও অবদান ছিল তাঁর দাদার। পরিবারের সবাই ক্রীড়াপ্রেমী হওয়ায় শৈশবেই খেলাধুলায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন মিনহাজুল। চট্টগ্রামে ফুটবল-ক্রিকেট দুটিই খেলেছেন দাপিয়ে। ফুটবলে ফরোয়ার্ড, ক্রিকেটে অলরাউন্ডার। ঢাকার ফুটবলে এক মৌসুম খেলেছেন মুক্তিযোদ্ধার মতো ক্লাবের হয়েও। তবে মায়ের পরামর্শে ফুটবলের স্বর্ণযুগে বেছে নেন ক্রিকেট। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ডাক পান জাতীয় দলে। বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডেটা খেলেছেন ২০ বছর বয়সে। তাঁর ভাই নূরুল আবেদীন নোবেলও খেলেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলে।

অভিষেকের পর থেকেই মিনহাজুল ছিলেন আস্থার অপর নাম। নিজেকে প্রমাণ করে পেয়েছিলেন নেতৃত্বও। তবে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন অপ্রত্যাশিতভাবে। পরে মিডিয়ার সমালোচনায় দলে ফিরে আরো একবার প্রমাণ করেন নিজেকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তাঁরই। হার না মানা ৬৮ রানের ইনিংসের পর নিয়েছিলেন ১ উইকেট। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন অপরাজিত ৫৩ রান। এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচেও ১৪ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৭ ওভারে মাত্র ২৯ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই শেষ ম্যাচ মিনহাজুলের। বাংলাদেশ এরপর টেস্ট মর্যাদা পেলেও খেলতে না পারার আফসোস করলেন এখনো, ‘টেস্টের সেই শুরুর সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে তিন মৌসুম খেলেছি, প্রতিটিতে ছিলাম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। মৌসুমে হাজার রান করেছি, ম্যাচের দুই ইনিংসে করেছি ডাবল সেঞ্চুরি। এত কিছু করার পরও টেস্ট খেলতে পারিনি। এই কষ্ট আমার কোনো দিন যাবে না।’

আবাহনী-মোহামেডানের নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই দামাল সামারের ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন মিনহাজুল। তাঁর দাদা খেলাটি দেখতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা চলে এসেছিলেন। এরপর ক্যারিয়ারে তিনি ১৬ বছর কাটান মোহামেডানে, এর মধ্যে ১৪ বছর করেছেন অধিনায়কত্ব। আর ছয় বছর খেলেন আবাহনীতে। প্রতি মৌসুমের আগেই তাঁর লক্ষ্য থাকত অন্তত পাঁচ শ রান করা। সে জন্য বড় ক্লাব পেতে কখনো সমস্যা হয়নি। তরুণদের তাঁর পরামর্শ, ‘একটা বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে খেলতে হবে। সেটা পূরণ হলে সাফল্য ধরা দেবে এমনিতেই।’



সাতদিনের সেরা