kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

স্থানীয়দের সাহস ও আত্মবিশ্বাসের অভাব

ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসের জায়গায় আসেন রবসন রোবিনহো। কিন্তু শঙ্কা ছিল, এ ব্রাজিলিয়ান কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের মতো মাঠ মাতাতে পারবেন কি না। প্রথম মৌসুমে সব শঙ্কা উড়িয়ে রোবিনহো হয়ে উঠেছেন বসুন্ধরা কিংসের নতুন ব্র্যান্ড। তাই ক্লাবও তাঁকে ছাড়ছে না। আগামী মৌসুমে খেলার সব আয়োজন সেরে ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে এখানে প্রথম মৌসুমের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র সনৎ বাবলাকে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্থানীয়দের সাহস ও আত্মবিশ্বাসের অভাব

ছবি : মীর ফরিদ

প্রশ্ন : একটা মৌসুম বাংলাদেশে কাটানোর অভিজ্ঞতা কেমন?

রোবিনহো : খুব ভালো কেটেছে বাংলাদেশে। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে একটি ফেডারেশন কাপ জিতেছি, লিগ জিতেছি। লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছি, সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেয়েছি। প্রতিটি ম্যাচে আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের বাইরে এসে খেলাটা চ্যালেঞ্জিং ছিল; কিন্তু আমি উপভোগ করেছি।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারে প্রথম ব্রাজিলের বাইরে খেলতে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া কি কঠিন ছিল?

রোবিনহো : সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। কারণ এ দেশ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এখানকার মানুষ ও ফুটবল সম্পর্কে ধারণা ছিল না। তবে সাও পাওলোয় আমি যেখানে থাকি (ব্রাস), সেখানে বেশ কিছু বাংলাদেশি থাকে। তাদের কাছ থেকে খানিকটা ধারণা পেয়েছিলাম আগে। এখানে আসার পর আস্তে আস্তে ভয়টা কেটে গেছে। বসুন্ধরা কিংস সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। আমার স্ত্রীও মানিয়ে নিয়েছে, ছোট বাচ্চাকে নিয়ে এখানে থাকতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না আমাদের। তা ছাড়া আমি নিজেও ভালো খেলতে পেরেছি। সব মিলিয়ে বসুন্ধরা কিংসে প্রথম মৌসুমটা আমার দারুণ কেটেছে।

প্রশ্ন : কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের বড় স্বপ্ন ছিল এএফসি কাপ নিয়ে। সেটা তো অপূর্ণ থেকে গেল।

রোবিনহো : আমরা একটি ম্যাচ জিতেছি, দুটি ড্র করেছি। প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া কোনো দলের জন্য এটি মোটেও খারাপ ফল নয়। তবে আরো ভালো করার চেষ্টা ছিল আমাদের। ব্যক্তিগতভাবে আমিও চেয়েছিলাম এ রকম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আরো ভালো করতে। সত্যি বললে, এএফসি কাপের লেভেলটি একটু ওপরে, ঢাকায় সে রকম শক্তিশালী দলের সঙ্গে আমরা খেলি না।

প্রশ্ন : তাহলে কি শক্তি আরো বাড়াতে হবে?

রোবিনহো : বসুন্ধরা কিংসের শক্তি ও সামর্থ্য বেশি। প্রতিপক্ষও শক্তিশালী হলে ঘরোয়া ফুটবল থেকেই ‘টাফ-ম্যাচ’ খেলার অভ্যাস গড়ে ওঠে। আর স্ট্রাইকার হিসেবে রাউল (অস্কার বেসেরা) খারাপ নয়, সে লিগে ভালো করেছে। ক্লাব চাইলে তাকে রাখতে পারে কিংবা নতুন কোনো ভালো স্ট্রাইকার নিতে পারে পরের মৌসুমে। এএফসি কাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারিনি। যদিও মোহনবাগানের সঙ্গে আমাদের দলের খুব পার্থক্য নেই, দুই দলই প্রায় সমশক্তির। তবে আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়দের সাহস ও আত্মবিশ্বাস আরো বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ফুটবলারদের সাহস ও আত্মবিশ্বাসে কি ঘাটতি আছে বলছেন?

রোবিনহো : বিষয়টি নেতিবাচকভাবে নেবেন না। জাতীয় দলের অনেক ফুটবলার খেলেছে বসুন্ধরা কিংসে। তারা ভালো খেলেছে এবং ক্লাবের সাফল্যে তাদের বড় ভূমিকা আছে। এ ছাড়া আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ও চট্টগ্রাম আবাহনীতে বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় দেখেছি। তাদের আরো ভালো করার সুযোগ আছে। আমি ট্রেনিংয়ে দেখেছি, স্থানীয় খেলোয়াড়রা খুব ভালো এবং আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু ম্যাচে তাদের মধ্যে সেই বিশ্বাসটা দেখি না। এটা কেন হয়, আমি জানি না। এএফসি কাপের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ভারতীয় ফুটবলাররা যদি ভালো খেলতে পারে, এখানকার ফুটবলারদের না পারার কোনো কারণ দেখি না।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের ফুটবলাররা কি টেকনিক্যালি পিছিয়ে?

রোবিনহো : সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আত্মবিশ্বাস ও সাহস সঞ্চয়ের জন্য ফুটবলে প্র্যাকটিসের বিকল্প নেই। রোজকার প্র্যাকটিস ও পরিশ্রমের পেছনে তাদের বড় স্বপ্ন থাকতে হবে।

প্রশ্ন : যা-ই হোক, আগামী মৌসুমেও বসুন্ধরা কিংসের এএফসি কাপে সুযোগ আছে...

রোবিনহো : অবশ্যই। আমিও কিংসে খেলব আগামী মৌসুম, ব্রাজিলে গিয়ে এক মাস পর ঢাকায় ফিরব। খালিদ শাফিও ক্লাব বদলাচ্ছে না, অন্যদের কথা বলতে পারছি না। আশা করি, আগামী মৌসুমে দল আরো শক্তিশালী হবে। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা আরো ভালো হবে এবং অবশ্যই ক্লাবের এএফসি কাপের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।

প্রশ্ন : একটু পেছনে ফিরি। বসুন্ধরা কিংসের আগের ‘ব্র্যান্ড’ ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস, তাঁর জায়গায় এসেছেন আপনি। এই কোস্টারিকান বিশ্বকাপারকে কি ভোলাতে পেরেছেন?

রোবিনহো : কলিনদ্রেসকে ভোলাতে পেরেছি কি না, সেটা বিশ্লেষণ করবে মানুষ। তবে প্রতি ম্যাচে নিজেকে আরেকটু উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি খেলতেন পাওয়ার ফুটবল, আর আমি ভালোবাসি স্কিল ও ড্রিবল করতে। এটা আমার সহজাত, এ দিয়েই গোল করি। এ ছাড়া দূরপাল্লার শটেও গোল আছে। বেশ কিছু অ্যাসিস্টও আছে। আসলে প্রতিদিনই আমি বাড়তি পরিশ্রম করি নিজেকে শাণিত করতে, উন্নতি করতে। আমি বুঝি, আরো ভালো খেলার সুযোগ আছে আমার।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। ব্রাজিল আর ঢাকার ক্লাবের মধ্যে পেশাদারির তফাৎ দেখেন কী রকম?

রোবিনহো : ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করাটা ঠিক হবে না। তবে আমার ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে পেশাদারির কোনো ঘাটতি দেখিনি। ক্লাবের ফুটবল প্যাশন, ম্যানেজমেন্ট, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি ও আর্থিক ব্যাপারগুলো খুব ভালো।



সাতদিনের সেরা