kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

গড়ে তুলছেন যুবাদের

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করছে তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সাবেক ক্রিকেট তারকা মেহরাব হোসেন অপি-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গড়ে তুলছেন যুবাদের

জন্ম : ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮

১৯৯৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় বাংলাদেশ। শুরুর টুর্নামেন্টেই প্লেট চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা জিতে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান সেই দলের ওপেনার মেহরাব হোসেন অপি। ১৯৯৮ থেকে ২০২১—এই ২৩ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়েছে অনেকটাই। একসময় প্লেট চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল গত আসরে আকবর আলীদের হাত ধরে জিতেছে মূল টুর্নামেন্টের শিরোপাই। যুব থেকে জাতীয় দলে খেলা মেহরাব হোসেনও গড়েছেন অনেক প্রথমের কীর্তি। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবসরের পর সেই মেহরাব এখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচ। গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

ং ৪৩তম জন্মদিনেও মেহরাব ছিলেন যুবাদের সঙ্গে। সিলেটে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল সিরিজ খেলছে আফগানিস্তানের যুবাদের সঙ্গে। তরুণদের সঙ্গেই জন্মদিনের আনন্দটা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেহরাব, ‘পরিবারের সঙ্গে সব সময় হৈ-হুল্লোড় করে জন্মদিন পালন করি। এবার সিলেটে আছি শিষ্যদের সঙ্গে। ওদের সঙ্গেই কাটবে জন্মদিনটা।’

বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় ত্রিদেশীয় মেরিল ইন্টারন্যাশনাল কাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেন ১১৬ বলে ১০১ রানের ঐতিহাসিক সেই ইনিংস। তাঁর চাচা আজহার হোসেন শান্টু আবার করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি। সেটা ১৯৯০ সালে শারজায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ফিফটি আবার মেহরাব হোসেনেরই। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। এরপর টেস্টেও বাংলাদেশের প্রথম রানটি আসে তাঁর ব্যাট থেকে। সম্ভাবনা থাকলেও মাত্র ৯ টেস্ট আর ১৮ ওয়ানডেতে থামে তাঁর ক্যারিয়ার। নিজের ভুলের কারণে এ নিয়ে আফসোস করেন এত দিন পরও, ‘অবশ্যই আরো চার-পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতেই পারতাম। কিছু ভুল করেছিলাম। একই ভুল আমার দলের তরুণদের করতে দিতে চাই না। ওদের গড়েও তুলছি সেভাবে।’

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোহামেডানের জার্সিতে প্রথমবার আবাহনীর বিপক্ষে খেলেছিলেন মেহরাব হোসেন। সেই ম্যাচে বাঁহাতি স্পিনার সাইফুল্লাহ জেমের বলে নেওয়া তাঁর একটি শট লাগে শর্ট লেগে থাকা ভারতীয় তারকা রমন লাম্বার মাথায়। সেই আঘাতে হাসপাতালে মারা যান তিনি, যা অন্যতম ট্র্যাজেডি হয়ে আছে মেহরাবের ক্যারিয়ারে।

অবসরের পর পারিবারিক গার্মেন্ট ব্যবসায় মন দিয়েছিলেন মেহরাব। স্পট ফেইম অ্যাপারেলসে অবশ্য মন বসেনি তাঁর। ২০১১ সালে শুরু করেন কোচিং কোর্স। কোচিং নিয়ে তাঁর স্বপ্ন, ‘এসিসির উদ্যোগে লেভেল টু করেছি। ছিলাম মোহামেডানের ব্যাটিং কোচ। আমার স্বপ্ন একদিন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হওয়া।’ মেহরাবের সংসারে স্ত্রী ফারজানা মেহরাব ও তিন ছেলে। বড় ছেলে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে। মেজ ও ছোট ছেলে পড়াশোনা করছে দেশেই।



সাতদিনের সেরা