kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

তূর্য থেকে বাংলাদেশ ফুটবলের সূর্য

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করছে তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ফুটবল কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তূর্য থেকে বাংলাদেশ ফুটবলের সূর্য

জন্ম : ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৪

বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের প্রথম মহাতারকা কাজী সালাউদ্দিন। অনেকের চোখেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার। অন্যতম সফল কোচ। টানা চারবারের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিও। এই পরিচয়গুলোর আড়ালে হারিয়ে যায় তূর্য ডাকনামটা। অথচ পরিবার, বন্ধু, ঘনিষ্ঠমহলের সবাই জানেন এই নাম।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার উত্তাল সময়টায় স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলে তূর্য হাজরা নামেই খেলেছিলেন সালাউদ্দিন। আজ এই কিংবদন্তির ৬৭তম জন্মদিন। অর্জনের ঝুলিতে অনেক মণিমুক্তা থাকলেও আজকের বিশেষ দিনটিতে স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলে খেলাটাকে রাখলেন সবার ওপরে, ‘আমি স্বাধীনবাংলা দলের খেলোয়াড়, এটা জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার। জানতাম আমাদের খেলা প্রচার করবে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র। নাম শুনে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা যেন বিপদে না পড়েন তাই সালাউদ্দিনের বদলে তূর্য নামে খেলেছি।’

সেই তূর্যই হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ ফুটবলের সূর্য। তাঁর ঝাঁকড়া লম্বা চুল, ক্ষিপ্রগতি, ফুটবলশৈলী আর মেজাজ মাঠে ছড়াত অন্য রকম দ্যুতি। ১৯৬৯ সালে ওয়ারীর হয়ে লিগে ১৮ গোল করা সালাউদ্দিনকে পরের বছর লুফে নেয় মোহামেডান। স্বাধীনতার পর যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শেখ কামালের গড়া ক্লাব আবাহনীতে। এর পর থেকেই আবাহনী ও সালাউদ্দিন একে অপরের পরিপূরক। ১৯৭৩ সালে ২৪ গোল করে হন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সেবার দিলকুশার বিপক্ষে করেছিলেন সাত গোল। ১৯৭৭, ১৯৭৯ আর ১৯৮০ সালের লিগেও সর্বোচ্চ গোল তাঁর।

১৯৭৫ সালে মালেশিয়ায় হওয়া মারদেকা কাপে বাংলাদেশ কিছু করতে না পারলেও আলো ছড়ান সালাউদ্দিন। এরপরই আমন্ত্রণ পান হংকংয়ের ক্যারোলিন হিল ক্লাবে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হংকংয়ের পেশাদার লিগে খেলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এই কিংবদন্তি। অবসরের পর ১৯৮৫ সালে আবাহনীর কোচের দায়িত্ব নেন সালাউদ্দিন। প্রথম মৌসুমেই জেতেন লিগ ও ফেডারেশন কাপ। সেটা ছিল আবাহনীর ট্রেবল জয়ের বছর। তিনি কোচ ছিলেন জাতীয় দলেরও।

১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া সালাউদ্দিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা শুরু করে ঝিমিয়ে পড়া ফুটবল। কিন্তু টানা চার মেয়াদে সভাপতি থাকলেও এ সময়ে ফুটবল শুধু পিছিয়েছে। ১৩ বছরে জাতীয় দলে কোচই নিয়োগ দিয়েছেন ১৯ জন! তার পরও বাংলাদেশ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৮৯ নম্বরে। এই তলানি থেকে উত্তরণ হোক বাংলাদেশের ফুটবলের, এটাই জন্মদিনের প্রত্যাশা সালাউদ্দিনের।



সাতদিনের সেরা