kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সব্যসাচীর অশ্রুসজল বিদায়

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : বয়স ৭৪ পেরিয়ে সবে ৭৫-এ পা রেখেছিলেন। ৭৫-কে সবে বলার কারণ, বার্ধক্যকে বরাবরই তারুণ্যের মোড়কে আড়াল করে রাখতেন জালাল আহমেদ চৌধুরী, যিনি একাধারে ক্রিকেট খেলোয়াড়, কোচ এবং লেখক। ক্রিকেটের এই ‘সব্যসাচী’ ফুসফুসের সংক্রমণে গতকাল রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। রেখে গেছেন অনবদ্য সব ক্রিকেট রোমান্টিকতা, তাঁর লেখা ও চিন্তায় যা ফুটে থাকবে অনন্তকাল।

এ মাসের শুরুতে প্রচণ্ড কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সদ্যঃপ্রয়াত জালাল আহমেদ চৌধুরী। কয়েক দিনের চিকিৎসায় সেরে ওঠায় হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। এবার অবস্থা এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে জালাল আহমেদ চৌধুরীকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের এই ব্যবস্থা থেকে আর ফেরানো যায়নি তাঁকে।

তরুণ থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ক্রিকেটে লতার মতো জড়িয়ে থাকা জালাল আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণায় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে পড়ে। একসঙ্গে খেলেছেন দুজনে, খেলা ছাড়ার পর ক্রিকেট প্রশাসনেও যুগলবন্দি ছিলেন তাঁরা। তাই প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যামে শেষবিদায় জানানোর সুযোগ না আবার হাতছাড়া হয়ে যায়—এই দুশ্চিন্তায় শান্তিনগরে নিজের গাড়ি রেখে হেঁটে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গেছেন গাজী আশরাফ। তিনি সময়মতোই পৌঁছেছেন জানাজাস্থলে। জালাল আহমেদ চৌধুরীর মরদেহ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তখন প্রয়াতের আত্মীয়, বন্ধু, সহকর্মী আর অনুরাগীদের ভিড়।

স্মৃতিময় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের জানাজা শেষে জালাল আহমেদ চৌধুরীর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দেওয়া আজিমপুরে। ইট ছোড়া দূরত্বের আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বাদ আসর।

বিপত্নীক জালাল আহমেদ চৌধুরীর আত্মার শান্তির জন্য সবার দোয়া প্রার্থনা করেছে তাঁর নিকটাত্মীয়, বন্ধু, গুণগ্রাহী, বিভিন্ন ফেডারেশন ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন। সবার ভালোবাসায় সিক্ত জালাল আহমেদ চৌধুরীর চিরবিদায় যেন নতুন মন্ত্রে দীক্ষাও। সেই দীক্ষা শুদ্ধতার। জীবনভর শুদ্ধতারই চর্চা যে করেছেন জালাল আহমেদ চৌধুরী।



সাতদিনের সেরা