kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তবু কাঠমাণ্ডু যাচ্ছেন তামিম

মূলত ম্যাচ প্র্যাকটিসের জন্যই ইপিএলে খেলতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু ওরা এত আগ্রহ প্রকাশ করেছে যে আর না করতে পারিনি।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তবু কাঠমাণ্ডু যাচ্ছেন তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট কোনো তারকাকে আকর্ষণ করার মতো কোনো টুর্নামেন্ট নয়। তবু ক্রিস গেইলের মতো তারকা অতীতে দেশটির ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) নাম লিখিয়েছিলেন। এবার এই আসরে খেলতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। অচেনা লিগ তারকাদের টানে মূলত অর্থের কারণে। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক এমন বড় কোনো অঙ্ক পাচ্ছেন না, তবু ভাইরাহাওয়া গ্ল্যাডিয়েটর্সে খেলার বিপুল আগ্রহে মিরপুরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তামিম।

যত দূর জানা গেছে, ম্যাচপিছু হাজার পাঁচেক ডলার করে পেতে পারেন তামিম ইকবাল। নেপালের মতো ‘দুর্গম’ ক্রিকেটভূমিতে এই অর্থের প্রলোভনে পা দেওয়াটা তামিমের জীবনদর্শনের সঙ্গে মেলে না। নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর নাম লেখানোর প্রেক্ষাপট ছিল মূলত অক্টোবরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ম্যাচ প্র্যাকটিস। সেখানে যাওয়ার আগে পুরো ইপিএলে গোটা ছয়েক ম্যাচে এই ফরম্যাটে ব্যাটটা সড়গড় করে নেওয়াই ছিল তামিমের মূল উদ্দেশ্য। গতকাল ফিল্ডিং-ক্যাচিংও অনুশীলন করেছেন তিনি।

অর্থ বাদ দিন, নেপাল কখনোই তামিমের ভ্রমণ তালিকায়ও ছিল না। ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট নিয়ে অন্য অনেকের মতো তাঁর মনেও ভীতি আছে। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা থেকে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যেত কাঠমাণ্ডু। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এটুকু পথই তামিমকে পাড়ি দিতে হবে কাতার ঘুরে। কাঠমাণ্ডুর পরিবেশ কিংবা হিমালয় দর্শন, তামিমের ‘বাকেট লিস্টে’ ছিল বলে কখনো শোনা যায়নি। সব মিলিয়ে অর্থ কিংবা ভ্রমণের আনন্দ-নেপালের জলবায়ুতে কোনোটিই তামিমের কাছে আকর্ষক নয়। সর্বশেষ নানা ঘটনায় অক্টোবরের বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ইপিএল থেকেও না সরে দাঁড়ান তিনি—এমন একটি সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেরকম কোনো সংশয় তাঁর মনে কখনোই ছিল না। তাই কাঠমাণ্ডু যাবেন তামিম ইকবাল।

সব প্রতিকূলতা আর অনাগ্রহের বাধা পেরিয়ে কাঠমাণ্ডু যাওয়ার কারণ নিজেই গতকাল ব্যাখ্যা করেছেন তামিম ইকবাল, ‘মূলত ম্যাচ প্র্যাকটিসের জন্যই ইপিএলে খেলতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু ওরা (ইপিএল আয়োজক) এত আগ্রহ প্রকাশ করেছে যে আর না করতে পারিনি। এখন নাম প্রত্যাহার করারও কোনো ইচ্ছা নেই। আমি না গেলে ওরা খুব মন খারাপ করে, এত আশা করে আমার নাম লিখিয়েছে।’ তার মানে কি দায়বদ্ধতাই তামিমকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাঠমাণ্ডুতে? তামিমের কথায় সেরকমই ইঙ্গিত, ‘যেখানেই খেলি না কেন, ম্যাচ প্র্যাকটিস তো হবেই। নেপালেও সেই সুযোগটা পাব। তবে এ ধরনের আসরের প্রচারণাও খুব জরুরি। আমি খেললে হয়তো এখানে (বাংলাদেশ) নিউজ হবে, ইপিএল নামটা আরো কিছু মানুষ জানবে। এখন আমি না গেলে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না।’

অনেকেই মনে করেন ‘ভালো দেখাবে না’ বলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। নিজের জায়গা পেতে একজন তরুণ ক্রিকেটার বাদ পড়বে—দলের অভ্যন্তরে এই আলোচনার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দৌড় থেকে স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তামিম। একজন তরুণের পথ আটকে বিশ্বকাপে যাওয়াটা ‘ভালো দেখাবে না’ বলেই ২৪ তারিখ রাতে দোহা হয়ে কাঠমাণ্ডুর ফ্লাইট ধরছেন তামিম ইকবাল।



সাতদিনের সেরা