kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

জাতীয় দলের কোচ হতে চান আবারও

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করছে তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ কোচ মারুফুল হক-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জাতীয় দলের কোচ হতে চান আবারও

জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮

২০০৬ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে কুয়ালালামপুরে নিজেদের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে পাঠায় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনস (এএফসি)। বাফুফে তখন মহা বিপদে। কারণ এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কাউকে অথচ এ জন্য বাংলাদেশকে চার হাজার ডলার অনুদান দিত এএফসি! কাউকে পাঠাতে না পারলে আর পাওয়া যেত না টাকাটা। বাফুফে কর্তারা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পাঠান মারুফুল হককে। মারফুল তখন চাকরি করেন বুয়েটের শারীরিক শিক্ষা বিভাগে। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের ‘সাজানো’ এই প্রতিনিধির প্রেজেন্টেশনে মুগ্ধ হয়ে যান এশিয়ান দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।

বাফুফের চার হাজার ডলার বাঁচানো সেই মারুফুলই বাংলাদেশ তো বটেই দক্ষিণ এশিয়ারই একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ। অথচ তাঁকে কাজে লাগায়নি ফুটবল ফেডারেশন। ২০১৫ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হঠাৎ করে কোচ বানিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। সাধারণ মানের খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রথম রাউন্ডের গণ্ডি পার হতে না পারায় নিজেই সরে দাঁড়ান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই কোচ। গতকাল ছিল মারুফুলের ৫৩তম জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে তাঁর চাওয়া, ‘সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার। আমিও চাই। তবে অবশ্যই দীর্ঘ মেয়াদে।’

শীর্ষ পর্যায়ে ২০০৮ সালে কোচিং শুরু করেন মারুফুল। ল্যাপটপ নিয়ে আধুনিকতার মিশেলে কোচিং করানোয় শুরুতে টিপ্পনী কেটেছেন অনেকে। কিন্তু টানা তিন মৌসুম তাঁর দল লিগে রানার্স আপ হওয়ায় বন্ধ হয় সমালোচনা। ২০১৩ সালে শেখ রাসেলের দায়িত্ব নিয়ে জেতেন লিগ, ফেডারেশন কাপ আর স্বাধীনতা কাপ। এমন ট্রেবল জয়ের কীর্তি কম কোচেরই আছে দেশের ফুটবলে। আরামবাগের দায়িত্ব নিয়ে দেশের ফুটবলে প্রথমবার গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তি নিয়ে আসেন মারুফুলই। এর সাহায্যে অনুশীলনে পরিমাপ করা যায় ফুটবলারদের গতি ও ফিটনেস। এমন আধুনিক চিন্তাধারার বলেই চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ হয়ে তিনবার হারিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের মতো প্রবল শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।

মারুফুলরা ছয় ভাই। দুই ভাই কর্নেল, একজন অ্যাডিশনাল আইজি, বড় ভাই ফাওয়ের কনসালট্যান্ট, সবার ছোটজন এমবিএ করে ময়মনসিংহে শিক্ষকতার পাশাপাশি পেট্রল পাম্প দেখাশোনা করেন। মারুফুলের বাবা অবশ্য গর্ব করতেন তাঁকে নিয়েই, ‘ভাইয়েরা বড় বড় অফিসার হলেও বাবা সবার কাছে গল্প করতেন আমাকে নিয়ে। এটাই আমার সেরা পাওয়া।’



সাতদিনের সেরা