kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

চলার শক্তিও হারিয়েছেন মোশাররফ

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করছে তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সাবেক বক্সার মোশাররফ হোসেন-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলার শক্তিও হারিয়েছেন মোশাররফ

জন্ম : ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯

১৯৮৬, সিউল এশিয়ান গেমস। প্রথমবার মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জয়ের গৌরবে বাংলাদেশ গৌরবান্বিত হতে পেরেছিল মোশাররফ হোসেনের কল্যাণে। বক্সিংয়ে ৮১ কেজি লাইট হেভিওয়েট বিভাগে নেপালি প্রতিপক্ষকে সেমিফাইনালে নক আউট করেছিলেন ৩৮ সেকেন্ডে। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রোঞ্জ। মোশাররফের সেই কীর্তির ৩৫ বছর পরও এশিয়ান গেমসে আর কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জিততে পারেননি বাংলাদেশের কেউ।

১০ বারের জাতীয় এই চ্যাম্পিয়ন সোনা জিতেছেন ১৯৮৫ সাফ গেমসেও। তাঁর ৬২তম জন্মদিন ছিল গতকাল। অথচ রাজশাহী শহরের উপকণ্ঠ তালাইমারির বাড়িতে নিশ্চল শুয়ে থাকা মোশাররফের মুখটা শুকনো। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায়ই সেই ২০১৮ সালের মার্চের পর। নিঃসঙ্গ হয়ে লড়ছেন একা। চরম দুর্দশাতেও খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। গভীর কণ্ঠে ভেসে এলো হাহাকারের সুর, ‘চলার শক্তিটুকু নেই আমার। ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহনের সামর্থ্যও নেই। এভাবেই হয়তো কোনো একদিন চলে যাব না-ফেরার দেশে।’

যুব গেমসের ম্যাচ পরিচালনা করতে ২০১৮ সালের ৯ মার্চ ঢাকা এসেছিলেন মোশাররফ হোসেন। পরদিন শেষ রাতে হঠাৎ আক্রান্ত হন হৃদরোগে। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। আট দিন সেখানে থাকলেও ফেডারেশনের কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করেনি তারা। অর্থাভাবে অ্যাম্বুল্যান্সের বদলে পঙ্গু শরীর নিয়ে বাসে বাড়ি ফিরেছেন বহু কষ্টে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জেতায় একমাত্র ছেলের নামই রেখেছিলেন সিউল। বক্সার তৈরি করতে চেয়েছিলেন তাকে। কিন্তু ছেলে হয়েছে প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকে হাঁটাচলা করতে না পারা সিউলের জীবন কাটছে হুইলচেয়ারে। দুই মেয়ের একজন হয়েছেন ডাক্তার। এই ডাক্তার মেয়েই বহন করছেন বাবার ফিজিওথেরাপি ও সংসারের খরচ। কিন্তু ট্র্যাজেডি তাঁর জীবনেও। মোশাররফ জানালেন, ‘মেয়ের জামাইও ডাক্তার ছিল। করোনায় গত মে মাসে মারা যায় সে। মেয়েটার বাচ্চা এতিম হয়ে জন্মেছে দুই মাস আগে।’

সিউল থেকে ফেরার পর তখনকার রাষ্ট্রপতি জেনারেল এইচ এম এরশাদ পর্যন্ত ফুলের মালা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বিমানবন্দরে! প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সরকারের পক্ষ থেকে বাড়ি আর গাড়ি দেওয়ার। সেই আশার গুড়ে বালি। রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুও একটা দোকান বরাদ্দ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কবির সুরেই মোশাররফ জানালেন, ‘কেউ কথা রাখেনি।’



সাতদিনের সেরা