kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বড় কমিটিই কি ফুটবল উন্নয়নে বাধা!

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় কমিটিই কি ফুটবল উন্নয়নে বাধা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশের ফুটবল মান পেছাচ্ছে, কিন্তু এ নিয়ে কোনো আলাপ নেই। আক্ষেপও নেই কর্মকর্তাদের। ফিফা হয়তো মাঠের খারাপ পারফরম্যান্সের জবাব চেয়ে চিঠি পাঠায় না! ফিফা যেমন বাফুফের কমিটি ছোট করতে বলায় ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন আলাপ। নতুন হুজুগও।

বাফুফের নির্বাহী কমিটির আয়তন ছোট করার নির্দেশনা দিয়েছে ফিফা। ২১ সদস্যের কমিটির আয়তন প্রায় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। তাহলে বড় কমিটিই কি দেশের ফুটবল উন্নয়নে বড় বাধা! সেটা স্পষ্ট না করলেও ফুটবল ফেডারেশন মেতেছে এই হুজুগে। একই সঙ্গে অনেক কর্মকর্তার চেয়ার হারানোর টেনশনও শুরু হয়েছে। তাই ফিফার নির্দেশনাকে সামনে রেখে কাল সভায় বসেছে নির্বাহী কমিটি। সভা শেষে সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন, ‘ফিফা আমাদের তরফ থেকে একটা প্রতিবেদন চেয়েছে। এ জন্য একটা উপকমিটি গঠন করা হবে, তারা সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে একটা প্রতিবেদন তৈরি করবে। পাশাপাশি আমরাও এ নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলব।’ তাঁর কথায় বোঝা যায়, ফিফার সঙ্গে কথা ও চিঠি চালাচালি হবে অনেক। এরপর হয়তো একটা সিদ্ধান্ত হবে, যা কার্যকর হবে আরো তিন বছর পর বাফুফে নির্বাচনে। যাই হোক, নিজেদের পদ-পদবির ব্যাপার বলেই হয়তো খুব সিরিয়াস বাফুফে কর্তারা। সেটা আরো স্পষ্ট হবে আগামী ৩০ অক্টোবর বার্ষিক সাধারণ সভায়।

দেশের ফুটবল উন্নয়নের ব্যাপারে তাঁরা সে রকম আন্তরিক হলে খুব ভালো হতো। আরেকটি ফুটবল মৌসুম প্রায় শেষ, কিন্তু মাঠের খেলার কোনো পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা নেই। মৌসুম কেমন হলো, ঢাকার বাইরে থেকে কতজন ফুটবলার যোগ হয়েছেন এবং তাঁদের পারফরম্যান্স কী, নতুন প্রতিভা দেখা গেল কি না ইত্যাদি নানা ধরনের টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ হতে পারে। তার ভিত্তিতে নতুন মৌসুমে কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জনও হতে পারে। কিন্তু পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী কখনো এ লাইনে হাঁটেন না। তাঁর তৃপ্তি শুধু লিগ আয়োজন করতে পারায়, সেটা ভালো নাকি মন্দ—এই আলোচনায় যেতে নারাজ। বরং প্রতিবার তোতা পাখির মতো বলেই খুশি থাকেন। গতকাল যেমন আগামী মৌসুমের দলবদলের কথা বাদ দিয়ে তিনি প্রিমিয়ার লিগ পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন। দলবদল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও তাঁর কথা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাধীনতা কাপ ও ফেডারেশন কাপ শেষ হবে। এরপর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু করতে চান প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এসবই কথার কথা, এরপর কতবার যে সূচি বদল হবে তার ইয়ত্তা নেই। তা ছাড়া খেলা কোথায় হবে, তার কোনো ঠিক নেই। চেয়ারম্যানের ভাষ্য মতে, আলোচনায় আছে ১৯টি ভেন্যু! এ ছাড়া মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটির অধীনে থাকা তিনটি লিগের একটি বিলুপ্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিভাগের শীর্ষ দলগুলোকে প্রথম বিভাগের সঙ্গে যোগ করা হবে। দ্বিতীয় বিভাগের বাকি দলগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে তৃতীয় বিভাগের দলগুলোকে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগ।



সাতদিনের সেরা