kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

ফুটবলকে দেখতে চান আরো উঁচুতে

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটবলকে দেখতে চান আরো উঁচুতে

জনি। বাড়ির বাইরে থেকে কেউ ডাক দিলে সাড়া দিতেন দুজন! একজন ইমতিয়াজ সুলতান জনি, আরেকজন ইমরান সুলতান জনি। দুজন যমজ ভাই। জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ইমতিয়াজ সুলতান বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইমরান সুলতান ফুটবল খেললেও আটকে ছিলেন দ্বিতীয় বিভাগের গন্ডিতে। তাঁদের আরেক ভাই এহতেশাম সুলতান আজাদ হকিতে আলো ছড়িয়ে পেয়েছেন জাতীয় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। তবে ৫৮তম জন্মদিনে যমজ ভাইকেই সবার আগে স্মরণ করলেন ইমতিয়াজ সুলতান, ‘নতুন প্রজন্ম তো বটেই, সমসাময়িক অনেকের জানা নেই আমরা যমজ ভাই। আমার জন্মদিন মানে ওরও জন্মদিন। দুজনের নামই জনি। সম্ভাবনা থাকলেও ফুটবলে খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। এটাই যা আফসোস।’

আশির দশকের সেই ‘ফুটবল গ্যালাকটিকো’ যুগের সদস্য ইমতিয়াজ সুলতান জনি। তখন খুব কম খেলোয়াড়ের ভাগ্যে জুটত আবাহনী-মোহামেডানে খেলার স্বাদ। সেই সৌভাগ্যের অধিকারী এই লেফটব্যাক আবাহনীতে ছয় বছর কাটিয়ে মোহামেডানে ক্যারিয়ারের ইতি টেনে হয়েছেন ‘সাদা-কালো’র জনি। সামলেছেন দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও। এখন ব্যবসায় মনোযোগ দিলেও ‘ফুটবলার জনি’ পরিচয়টা আজও তাঁর কাছে সবচেয়ে গৌরবের। এ জন্য জন্মদিনের চাওয়া, ‘বাংলাদেশের ফুটবলকে আরো উঁচুতে দেখতে চাই। আমাদের যে জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল সেখানে যেতে পারিনি।’

১৯৭৮ সালে জগন্নাথ কলেজের হয়ে শিক্ষা বোর্ডের টুর্নামেন্টে খেলা দেখে জনিকে প্রস্তাব দেয় রহমতগঞ্জ। ১৯৭৯ থেকে ’৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন রহমতগঞ্জে। এরপর ১৯৮২ সাল থেকে তিনি আবাহনীর লেফটব্যাক। ওই সময় আবাহনী দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। দলটাকে শক্তিশালী করার জন্য প্রতিবছরই কিছু পরিবর্তন আসত বিভিন্ন পজিশনে। তবে কোনো ম্যাচে বসে থাকতে হয়নি জনিকে। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ’৮৫-তে দলের অধিনায়কের দায়িত্বটাও পেয়েছিলেন তিনি। হয়েছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়কও।

আবাহনী ছেড়ে অবশ্য ১৯৮৮ সালে জনি যোগ দেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানে। জনির আর দেওয়ার কিছু নেই—এই গুঞ্জন কানে আসাতেই ছেড়ে চলে আসেন প্রিয় ক্লাব। সাদা-কালো সমর্থকদের মনও জয় করতে পেরেছিলেন সহজে। ১৯৮৮ সালে মোহামেডান জেতে হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা। দুই জনপ্রিয় দলের হয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতাটা জনির কাছে বিরল সম্মানের, ‘মোহামেডানে অনেকটা অভিমানেই যোগ দিয়েছিলাম। কোচ হেজাজি খুব পছন্দ করতেন আমাকে। আবাহনীর মতো মোহামেডানেও হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতাটা বিরল সম্মানের আমার কাছে।’

শেষ পর্যন্ত জনির গায়ে মোহামেডানের ট্যাগই লেগে গেছে। ১৯৯৪ সালে অবসর নেওয়ার পর হন মোহামেডানের ম্যানেজার। ২০২১ সালে এসেও মোহামেডানের ভালো-মন্দের অংশীদার তিনি। ক্যাসিনো-কাণ্ডে ক্লাব যখন ধুঁকছিল, তখন পুরনো সতীর্থদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ক্লাব পুনর্গঠনে। এখনো ব্যবসার পাশাপাশি মোহামেডানে আড্ডা দিয়ে সময় কাটে তাঁর। একমাত্র ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে স্থায়ী হয়েছেন কানাডায়। তবে মেয়ের পড়াশোনা শেষ হয়নি। পরিবার, মোহামেডান আর ব্যবসা নিয়ে জানালেন, ‘সুখেই আছি।’



সাতদিনের সেরা