kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

যে পুরস্কারের মর্যাদা অন্য রকম

শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে পুরস্কারের মর্যাদা অন্য রকম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যেকোনো বোনের জন্য তাঁর প্রয়াত ছোট ভাইকে স্মরণ করা খুব কঠিন। প্রতিবছর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন কাজটি করে আসছেন। এবার শেখ কামাল স্মরণ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সে আমার চেয়ে ছোট হলেও তার নিত্য-নতুন উদ্যোগ ও সংগঠন করার ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি।’ তা কতটা বেশি সেটা আমাদের পক্ষে আন্দাজ করাও বোধ হয় কঠিন। শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, আবাহনী গড়েছেন, স্পন্দন শিল্পগোষ্ঠী গড়ে শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হয়েছেন, খেলাধুলা ও রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে থেকেছেন। মাত্র ২৬ বছরের জীবনে যিনি এত মণি-মুক্তা ছড়াতে পারেন, তিনি আর ২০-২৫টি বছর বাঁচলে কী হতে পারতেন! সেটা কল্পনায় মেলানো কঠিন, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কামালে সুরভিত দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই চেহারা হতো না। হতো অনেক আকর্ষণীয়।

এই ক্রীড়াঙ্গন অবশেষে তাঁর ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান সংগঠকের নামে একটি ক্রীড়া পুরস্কার প্রচলন করেছে—শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার। তাঁর ৭২তম জন্মদিনে ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে গতকাল সাত ক্যাটাগরিতে ১০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই পুরস্কার। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার বিতরণীর প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেন। আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে শেখ কামালের বন্ধু কাজী সালাউদ্দিনকে। দেশের ফুটবল প্রধান এই সম্মাননাকে অন্য সব পুরস্কার থেকে আলাদা করে দেখেন, ‘এই পুরস্কারের মাহাত্য আমার কাছে অন্য রকম। অন্য সব পুরস্কারের চেয়ে এটির গুরুত্ব আলাদা। কামাল বেঁচে থাকলে ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা হতো অন্য রকম। ফুটবলে আমরা এশিয়ান পর্যায়ে খেলতাম।’

কৃতী খেলোয়াড় পুরস্কার পেয়েছেন ২০১৬ এসএ গেমসের দুটি সোনাজীয় মাহফুজা আক্তার শীলা, টানা দুই এসএ গেমসে সোনাজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও টোকিও অলিম্পিকফেরত আর্চার রোমান সানা। তাঁরাই এখন দেশের ক্ষয়ে যাওয়া ক্রীড়াঙ্গনের আলোকবর্তিকা। কিন্তু দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বড় ‘বাতিঘর’ শেখ কামালকে সেভাবে জানার সুযোগ হয়নি তাঁদের। অবশ্য জানানোরও চেষ্টা হয়নি। তাঁর কীর্তি হিসেবে শুধু আবাহনীকেই চেনে মানুষ। অমন সব্যসাচী ক্রীড়া সংগঠককে কুর্নিশ জানিয়ে মাহফুজা আক্তার শীলাও বলেছেন, ‘এটা অন্য অনেক পুরস্কারের মতো নয়। শেখ কামালের নামে পুরস্কার, তিনি বেঁচে থাকলে এই ক্রীড়াঙ্গন অন্য রকম হতো। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা।’

ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদের ও কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্য শৈ হ্লা। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় প্রবীণ সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান পেয়েছেন এই পুরস্কার। উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটার আকবর আলী, দাবাড়ু ফাহাদ রহমান ও ফুটবলার উন্নতি খাতুন পেয়েছেন এই পুরস্কার। ক্রীড়া ফেডারেশন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দেওয়া হয়েছে এই পুরস্কার। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সেরার সম্মান হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত, ‘আমাদের দেশে অনেক বড় বড় পুরস্কার আছে। আমি মনে করি, ক্রীড়াঙ্গনে শহীদ শেখ কামাল ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারের চেয়ে বড় অর্জন কিছু হতে পারে না। এমন এক মানুষের নামে পুরস্কার, যিনি ছিলেন ক্রিকেটার এবং এই ক্রীড়াঙ্গনকে পথ দেখিয়েছেন। তাই আমার কাছে এটাই সেরা।’ এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের ‘বড় বন্ধু’ ওয়ালটনকে দেওয়া হয়েছে সেরা পৃষ্ঠপোষকের পুরস্কার। পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা স্মারকের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে এক লাখ টাকা অর্থ।



সাতদিনের সেরা