kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

নাসুমের সাফল্যে সাকিবের ছোঁয়া

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাসুমের সাফল্যে সাকিবের ছোঁয়া

প্রথম জয়ের উল্লাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের দিন বিকেল থেকেই ভাবনার দিগন্তে ঘোরাঘুরি শুরু হয়ে গিয়েছিল তাঁর। তখন বোলিং করছিলেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোর লাগোয়া মাঠের নেটে। তখনই বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাঁর ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্বের কথা জানতে পারেন নাসুম আহমেদ, “কাল (গত পরশু) যখন নেটে বল করছিলাম, তখন কোচ এসে বললেন, ‘কাল তুমি খেলবে। তোমার ওপর কিন্তু অনেক দায়িত্ব।’ তখন থেকেই ভাবছিলাম খেললে আমি কী করব?”

ভাবনায় ঘুরে-ফিরে আসছিল জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ ম্যাচটিও। যে ম্যাচে স্বাগতিকদের ৫ উইকেটে করা ১৯৩ রান তাড়া করে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও এই বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন বিবর্ণ। ৩ ওভারে ৩৭ রান দেওয়া নাসুম ভাবছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ বোলিংয়ে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। স্বল্প পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ে নামার আগে এই তরুণকে বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও, “শেষ একটি ম্যাচে (জিম্বাবুয়ে) একটু বাজে বল করেছি। তো আমরা ১৩১ করে (ফিল্ডিংয়ে) নামার আগে রিয়াদ ভাই বলছিলেন, ‘আমরা এই রান নিয়েই লড়াই করব, ডট বল করব। যতটুকু পারি, চেষ্টা করব জেতার জন্য।’ ওই ডট বল করার চিন্তাই করছিলাম আমি।” 

কিন্তু অনেক সময়ই ভাবনা আর বাস্তবতা এক বিন্দুতে মেলে না। শুরুতে মেলেনি নাসুমেরও। ডট বল দিয়ে শুরু করলেও পরের দুই ডেলিভারিতেই চড়াও হন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার জশ ফিলিপ। প্রথমে ছক্কা, পরের বলে দুই রান। একটু হকচকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাই তখন। ওই সময়ই অমূল্য পরামর্শ নিয়ে হাজির সাকিব আল হাসান, “যখন প্রথম দুটি বল ব্যাক অব লেন্থে করলাম, তখন সাকিব ভাই এসে বললেন, ‘এই উইকেটে আস্তে বলটাই ভালো এবং আরো সামনে বল করলে ভালো হয়।’ এরপর ওই চেষ্টাই করেছি। চারটি ওভার যে করেছি, সব সময়ই সাকিব ও রিয়াদ ভাই এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। রিয়াদ ভাই অবশ্য (সাকিবকে) বলছিলেন, ‘ওকে ওর মতো বল করতে দে।’ আমি ডট বল করারই চেষ্টা করে গেছি। ওই চেষ্টাতেই সফল হয়েছি।” 

এমনই সফল যে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের নায়কও। ম্যাচ সেরা নাসুম এ রকম জয়ের প্রার্থনায়ও বুঁদ হয়ে থেকেছেন ম্যাচের আগের দিন থেকে, ‘আমাদের একটিই চিন্তা ছিল, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর। আমিও আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম, (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) আমরা একটি ম্যাচও জিতিনি। এবার যেন জিততে পারি।’ কম পুঁজি নিয়েও জেতার ক্ষেত্রে উইকেট থেকে পাওয়া সহায়তা কাজে লাগানোর ব্যাপারটিও উল্লেখ করতে ভুললেন না নাসুম, ‘আমরা যে রান করেছি, ওটাতে ডিফেন্ড করা সম্ভব ছিল। আমাদের চেষ্টা যেমন ছিল, তেমনি উইকেটেরও সাহায্য ছিল। আমরা সেটিও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’

কম রান করেও জেতার চেষ্টা প্রতিদিন সফল হবে না। তাই জিতেও ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার তাগিদ শোনা গেল মাহমুদ উল্লাহর কথায়, ‘আমার মনে হয়েছে ১০ রান কম করেছি। তাই আমাদের খুব ভালো বোলিং ও ফিল্ডিং করতে হতো। ফিল্ডিং আজ অসাধারণ ছিল। জেতার ক্ষুধাও ছিল। বোলাররা ওদের পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমাদের দ্রুত উইকেট নিতে হতো। সে জন্য যে আগ্রাসী বোলিংটা করা দরকার ছিল, আমরা সেটিই করেছি। তবে আমরা যেসব ভুল আজ করেছি, সেসব আবার করা যাবে না।’