kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

প্রথম জয়ের উল্লাস

ডট বল নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডট বল নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রোগ পুরনো। এর চিকিত্সাও আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চলায় রোগীর অক্ষমতায় রোগ বয়ে বেড়ানোর অস্বস্তি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ যেন সেই পুরনো রোগ আর নিয়ম মানতে না চাওয়া ভুক্তভোগীর প্রতিশব্দই হয়ে থাকল।

রোগটা বেশি ডট বল খেলার। ওয়ানডে ক্রিকেটেও নিয়মিত বিরতিতেই বাড়তি ডট বল খেলার মূল্য চুকাতে হয় বাংলাদেশকে। নিজেদের ইনিংস তাই প্রত্যাশিত গতি পায় না অনেক সময়ই। কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে যেখানে গতিশীলতার দাবি থাকে, সেখানে বলক্ষয়ী ব্যাটিং হলে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল মাহমুদ উল্লাহর দলের ব্যাটিং নিয়ে সে প্রশ্ন উঠলও।

অবশ্য এই মাঠের উইকেটে যে হাই স্কোরিং ম্যাচের দেখা মেলার সম্ভাবনা কম, সিরিজপূর্ব আলোচনায় সে কথাও কম উচ্চারিত হয়নি। ধীরগতির উইকেটে বল থেমে ব্যাটে আসার সেই পুরনো রীতি বজায় থাকল অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ম্যাচেও। সফরকারীদের জন্য এ রকম উইকেট রহস্যের জাল বিছিয়ে রাখবে স্বাভাবিক। স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে তোলা ১৩১ রান তাড়ায় ম্যাথু ওয়েডের দলের অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন তাই ভুগেছেও। কিন্তু নিজেদের ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ খেলে অভ্যস্ত ব্যাটসম্যানদের রান বের করতে এত সংগ্রাম করতে হবে কেন?

কিছুদিন আগেও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) খেলেছেন জাতীয় দলের সবাই। একেকজন মিরপুরে যথেষ্ট ম্যাচও খেলেছেন। যথারীতি দেশের প্রধান ভেন্যুতে ঘরোয়া সেই আসরও বড় স্কোরের ম্যাচ দেখেছে কমই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদ দিলে এই মাঠে আগে ব্যাট করা দল ১৫০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারলেই জেতার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যেত অনেকটাই। এমন উইকেটে কালকের বাংলাদেশ যেতে পারল না দেড় শ পর্যন্তও। অথচ ডট বলের সংখ্যা কমাতে পারলে নিশ্চিতভাবেই আরো চাপে রাখা যেত সফরকারীদের।

কিন্তু ডট বলের সংখ্যা এমন বেশি হলো যে এক পর্যায়ে ১৩০ পর্যন্ত যাওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছিল সংশয়। সেই পরিসংখ্যানই দেখে নেওয়া যাক একে একে। কাল বাংলাদেশ কোনো রানই করেনি, এমন বলের সংখ্যা ৪৭টি! যা ১২০ বলের ইনিংসে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অবশ্য শুধু এটুকু বললেই সব বলা হয় না। পাওয়ার প্লেতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বলই ডট দিয়েছে বাংলাদেশ। ৩৬ বলের মধ্যে ২৩ বলে কোনো রানই হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে তাই ব্যাটিংটা যেন হয়ে উঠেছিল একদম ঢিমে তালের।

যা ভীষণভাবে প্রভাব ফেলেছে রানরেটেও। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে মারকাটারি ক্রিকেটের এই যুগে প্রথম ওভারের পর বাংলাদেশের রানরেট আবার ৬ ছুঁয়েছিল ১৬তম ওভারে গিয়ে। জশ হ্যাজেলউডের করা সেই ওভার থেকে ৭ রান ওঠে। ১৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৫ উইকেটে ৯৬! পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষেও রানরেট ছিল টেনেটুনে ৫-এর একটু বেশি। সেই সময়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৩৩। ইনিংসের ১০ ওভার শেষে অবস্থা করুণই ছিল—২ উইকেটে ৫৮!

নিজেদের ইনিংসের ১৭ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশ শুধু একটি ওভার থেকেই ১০ বা এর বেশি রান তুলতে পেরেছে। সেটি অস্ট্রেলিয়ান লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পার করা নবম ওভার। ওই ওভার থেকে ১১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এরপর এমন আরো দুটো ওভার এসেছে। ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্কের শেষ দুই ওভার (১৮ ও ২০ ওভার) থেকে এসেছে যথাক্রমে ১০ ও ১১ রান! তবু ডট বল খেলার পুরনো রোগ আরেকবার প্রকাশ্য।