kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

আজ শুরু

সুরক্ষা বর্মের জীবনে বিশ্বকাপের হাওয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুরক্ষা বর্মের জীবনে বিশ্বকাপের হাওয়া

ছবি : মীর ফরিদ

হুট করেই টেস্ট খেলার সুযোগ এসে যাওয়ায় সেই ২৮ জুনই দেশ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। এক মাসের জিম্বাবুয়ে সফর থেকে দেশে ফিরলেও এখনো স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি মাহমুদ উল্লাহর। জৈব সুরক্ষা বলয়ের বর্ম পরে থাকা এই একঘেয়ে জীবন অবশ্য বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের একার নয়, দলের বাকি সবারই।

তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের জীবন আরেকটু কঠিন। মাহমুদরা তবু দেশের চেনা জল-হাওয়া গায়ে মাখতে পারছেন, কিন্তু মিচেল স্টার্কদের জীবন বেশ কিছুদিন ধরেই কাটছে দূর পরবাসে। দীর্ঘ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর শেষে সোজা ছুট দিতে হয়েছে বাংলাদেশে। এই জীবন নিশ্চিতভাবেই আনন্দময় নয়। তবু এর নানাবিধ চ্যালেঞ্জ এক পাশে সরিয়ে রেখে ইতিবাচক দিকটিই আপাতত দেখতে চাইলেন মাহমুদ, ‘এর সুবিধার দিকটি হলো আগের চেয়ে একে অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়টা বেশি হয়। ক্রিকেট নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনাও বেশি হয়।’

সেই আলোচনায় যে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাফল্যের নানা ছক কাটা চলছে, আজ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ শুরুর আগের দিন দুই অধিনায়কের বক্তব্যেই তা ফুটে উঠেছে। এই সিরিজ চূড়ান্ত হওয়ার সময় ভারতেই হওয়ার কথা ছিল আসরটি। তবে সেখানে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিলাকার ধারণ করতে থাকায় বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার আলোচনা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) চালিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নয় এখনো। ওই আসর না হলে এই সিরিজ দিয়েই শেষ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি।

মাত্রই ক্যারিবিয়ানে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে আসা অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ সামনে রেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসেছে। এর কিছু দারুণ ফল দিয়েছে তো কিছু দেয়নি। আবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার দাবি জোরালো করারও ব্যাপার আছে কারো কারো। তাই সুরক্ষা বর্মে আঁটসাঁট জীবনেও বিশ্বকাপের জোর হাওয়া লাগছে অস্ট্রেলিয়ানদের গায়ে। অ্যারন ফিঞ্চের চোটে সদ্যই অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া ম্যাথু ওয়েড সিরিজপূর্ব ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বললেন সে কথাই, ‘এই সিরিজ দিয়ে আমরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও নিচ্ছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজেও আমরা তা নিয়েছি।’

প্রস্তুতির জন্য চালানো নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব আবার সফলও হয়নি। তবে আশাব্যঞ্জক ফলও কিছু পেয়েছেন বলে জানালেন, ‘যদিও প্রত্যাশিত ফল আমরা পাইনি। তবে কিছু ব্যাপার ঘটেছে, যা আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। মিচেল মার্শ (৩ নম্বরে দারুণ পারফরম করেছেন) ও অ্যাস্টন টার্নারদের (সুযোগ পেয়ে কাজে লাগিয়েছেন) কাছ থেকে যা চেয়েছি, তা পাওয়া গেছে। আরো কয়েকজন আছে, যারা কি না দেখিয়েছে যে এই পর্যায়ে পারফরম করার সামর্থ্য ওদের আছে।’

টি-টোয়েন্টিতে তারা ভালো দল নয় বলে নিত্য শুনে অভ্যস্ত বাংলাদেশ শিবিরও মনে করে এই সংস্করণে মাত করে দেওয়ার মতো সামর্থ্যবান ক্রিকেটারের অভাব নেই তাদেরও। কিন্তু হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকলে বিশ্বাসও আবার তলানিতে গিয়ে ঠেকে। জিম্বাবুয়ে থেকে সিরিজ জিতে ফেরায় এবার মনোবল একটু চাঙ্গা। তবে জিম্বাবুয়েকে হারানো আর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মধ্যে তফাত নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হয় না।

এমন একটি দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় বিশ্বকাপের আগে বিশ্বাসের গভীরতা অনেক বাড়িয়ে দেবে বলেই সেরা ক্রিকেট খেলার তাড়না আরো বেশি মাহমুদ উল্লাহর, ‘যেহেতু বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটি আমাদের দক্ষতা দেখানোর বড় সুযোগ। এই সিরিজটি জিততে পারলে তা আমাদের মনোবল আরো বাড়িয়ে দেবে। আর বিশ্বের অন্যতম সেরা দলকে হারাতে হলে আমাদের প্রথম বল থেকেই খেলতে হবে সেরা ক্রিকেট।’

তা খেলতে পারলে সুরক্ষা বলয়ের নিস্তরঙ্গ জীবন নিশ্চয়ই তরঙ্গায়িত হবে মাহমুদ উল্লাহদেরও!

 

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচ : ৪

বাংলাদেশের জয় : ০

অস্ট্রেলিয়ার জয় : ৪

সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ

বাংলাদেশ : ১৫৬/৫, ২০১৬

অস্ট্রেলিয়া : ১৫৮/৩, ২০১৪

সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ

বাংলাদেশ : ১১৪, ২০১০

অস্ট্রেলিয়া : ১৪১/৭, ২০১০

সবচেয়ে বেশি রান

বাংলাদেশ : ১৪৩

সাকিব আল হাসান

অস্ট্রেলিয়া : ৮১

ডেভিড ওয়ার্নার

সর্বোচ্চ উইকেট

বাংলাদেশ : ৫

সাকিব আল হাসান

অস্ট্রেলিয়া : ৪, পিটার ন্যান্নেস

সর্বোচ্চ রানের ইনিংস

বাংলাদেশ : ৬৬

সাকিব আল হাসান

অস্ট্রেলিয়া : ৭৩* ম্যাথু হেইডেন

সেরা বোলিং

বাংলাদেশ : ৩/২৭

সাকিব আল হাসান

অস্ট্রেলিয়া : ৪/১৮, পিটার ন্যান্নেস



সাতদিনের সেরা