kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

আমরা বলটাই খেলব, মানুষ নয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা বলটাই খেলব, মানুষ নয়

একেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তেমন একটা খেলা হয় না বাংলাদেশের। তার ওপর গুণে ও মানে পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণ সামলে এসেই এবার দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পড়তে হচ্ছে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডদের মতো ফাস্ট বোলারদের সামনে। সে প্রসঙ্গ ওঠায় অবশ্য বিচলিত হলেন না রাসেল ডমিঙ্গো। গতকাল দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ বরং প্রতিপক্ষের মানবীয় ভুলের দিকটি দেখিয়ে রাখতেই বেশি আগ্রহী হলেন।

যে ভুল স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের হাত থেকেও বের করে আনবে বাজে বল। এই দক্ষিণ আফ্রিকান সেই ভুলের ফায়দা লুটে নেওয়ার বার্তাও নিশ্চিতভাবেই দিয়েছেন শিষ্যদের, ‘স্টার্ক ও হ্যাজেলউডরা উঁচুদরের বোলার অবশ্যই। ওদের কিছু ফুটেজও আমরা দেখেছি। তবে দিনের শেষে আমরা বলটাই খেলব, মানুষ নয়। ওরাও মানুষ এবং বাজে বলও করবে। তাই আমাদের সেসব বাজে বলের পাওনা মেটানোর মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে।’

ডমিঙ্গোকে খেলতে হচ্ছে তাঁর দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে ছাড়াই। চোট-আঘাত নেই, তবু নিজেদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিয়ে ভীষণ স্পর্শকাতর অস্ট্রেলিয়ার কঠোর কোয়ারেন্টিন নীতিমালার কারণেই খেলা হচ্ছে না তাঁর। যা নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে ছড়িয়ে থাকা গোপন অসন্তোষও কাল প্রকাশ্য করে দিলেন ডমিঙ্গো। নিজের বিরক্তি প্রকাশে দ্বিধাহীন এই দক্ষিণ আফ্রিকান বলছিলেন, ‘মুশফিকের সুরক্ষা বলয়ে থাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অনড় অবস্থানে থাকার ব্যাপারটি আমি বুঝতেই পারছি না। আমি মনে করি, ১০ দিন নিশ্চিতভাবেই যথেষ্ট সময় হতো। এটি নিয়ে ওরা যা করেছে, তাতে আমি ভীষণ হতাশ।’

অস্ট্রেলিয়া দল ঢাকায় আসার (২৯ জুলাই) ১০ দিন আগে থেকে সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাধকতা ছিল। তাই আগেই ছুটি নিয়ে রাখা মুশফিক জিম্বাবুয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলতে রাজি ছিলেন। কিন্তু কভিড আক্রান্ত বাবা-মায়ের পাশে থাকতে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগেই দেশে ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর যখন জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢোকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তত দিনে অস্ট্রেলিয়ার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। যদিও মুশফিক ২২ জুলাই সুরক্ষা বলয়ে ঢুকলেও সিরিজ শুরুর (৩ আগস্ট থেকে) দুই দিন আগেই ১০ দিন পার করে ফেলতেন। কিন্তু কোনো অনুরোধেই কান দেয়নি অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য ডমিঙ্গোর হতাশা শুধু অস্ট্রেলিয়ার নীতি নিয়েই নয়, হতাশা আছে সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘যথেষ্ট ভালো টি-টোয়েন্টি দল নয়’ বলা নিয়েও। যদিও পরিসংখ্যান, র্যাংকিংয়ে অবস্থান (১০ নম্বর) এবং বিশ্বকাপে প্রথম পর্ব নামে বাছাই পর্ব খেলার বিষয়টিই দলটির টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য নিয়ে যা বলার বলে দেয়। তবু ডমিঙ্গোর কথা, ‘বাংলাদেশ দল নিয়ে টানা নেতিবাচক লেখালেখি পড়াটা হতাশার। আমি বুঝিই না যে কেন আপনারা আমাদের ভালো দল বলেন না। অথচ দারুণ সব ক্রিকেটারই আছে আমাদের। উন্নতির জায়গা অবশ্যই আছে। তবে ভালো দল হয়ে ওঠার উপকরণও আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের মতো পেশিবহুল ক্রিকেটার হয়তো আমাদের নেই। তবে দক্ষ ব্যাটসম্যান আমাদের অবশ্যই আছে। এটি তাই আমার মনেই হয় না যে আমরা খারাপ টি-টোয়েন্টি দল।’

এই দলে অবশ্য এবার ওপেনারের সংকট রয়েছে। এমনিতে সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ আছেন। কিন্তু এঁদের কেউ চোট পেলে বা অন্য কোনো কারণে খেলতে না পারলে? কারণ তামিম ইকবাল চোটের জন্য ছিটকে গেছেন আগেই। এক নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতায় জিম্বাবুয়ে থেকে আগেই দেশে ফেরা লিটন কুমার দাসও সুরক্ষা বলয়ে ঢুকতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে। এ ক্ষেত্রেও বিকল্প ভেবে রাখা আছে ডমিঙ্গোর। প্রয়োজনে সাকিব আল হাসানকেও ওপেনিংয়ে পাঠাতে চান এই দক্ষিণ আফ্রিকান, ‘এটি নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি। প্রয়োজনে সাকিবও ওপেনিংয়ে উঠে আসতে পারে। মিঠুনও দলে ফিরে এসেছে। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও কোনো ওপেনার চোট পেলে সে-ও ওপেন করতে পারে। আশা করছি, ওপেনারদের কিছুই হবে না। তবে হলেও আমাদের বিকল্প আছে।’