kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

মিরপুরের উইকেট সম্ভাবনার ২২ গজ

এখানকার উইকেটে বল অনেক সময়ই থেমে ব্যাটে আসে বলে টাইমিংয়ের হেরফের হয়। হুট করে আসা অতিথি দলের ব্যাটসম্যান হয় আগে খেলে ফেলতে পারেন, নয়তো পরে। তাতে উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ খুঁজবে মাহমুদ উল্লাহর দলও।

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরপুরের উইকেট সম্ভাবনার ২২ গজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই যাননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। ওই সফরের আগে থেকেই জানা যে তাঁরা আসবেন না বাংলাদেশেও। গতকাল বিকেল সোয়া ৪টায় চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় আসেননি নিয়মিত অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে থাকার সময়ই হাঁটুর চোট বাংলাদেশ সফরের স্কোয়াড থেকে নাম কাটিয়ে নেয় তাঁরও। চোট-আঘাত ও ব্যক্তিগত কারণে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, প্যাট কামিন্স, জাই রিচার্ডসন ও কেন রিচার্ডসনদের মধ্যে কেউ ছিটকে পড়েছেন নয়তো সরে দাঁড়িয়েছেন আগেই। সব মিলিয়ে ৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের বাড়তি সম্ভাবনাও আবিষ্কার করছেন অনেকে। কিন্তু আদৌ কি সেটি বাড়তি কোনো সুবিধা দেবে স্বাগতিকদের?

অনেককে রেখে আসার পরও অস্ট্রেলিয়ার যে স্কোয়াড, তাতেও কিন্তু গোলাবারুদের মজুদ কম নেই। বরং বরাবরের মতোই বাংলাদেশের জন্য মাঠের কাজ কঠিন হয়ে থাকার বার্তাই আছে সফরকারীদের এই দলের খেলোয়াড় তালিকায়। যাঁরা আসেননি, তাঁদের সিংহভাগই অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে অনেক দিন থেকেই। তাদের অনুপস্থিতির প্রভাব কিছুটা পড়তে বাধ্যও। সদ্যঃসমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তা পড়েছেও। তাই বলে তাদের ব্যাটিংকে একদম ছন্নছাড়াও মনে হয়নি। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১-এ হারার পর ওয়ানডে সিরিজে ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

অবশ্য গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিউজিল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও ভালো যায়নি অস্ট্রেলিয়ার। ৩-২-এ হেরে ফেরা দল ক্যারিবিয়ানেও ছিল হারের বৃত্তেই। তবে নিউজিল্যান্ড আর টি-টোয়েন্টির ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তুলনায় এই সংস্করণে যথেষ্টই পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে ভোগাতে বেশ শক্ত বোলিং লাইন নিয়েই এসেছে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ড সফরে না যাওয়া তাদের পেস আক্রমণের প্রাণভোমরা মিচেল স্টার্ক ওয়েস্ট ইন্ডিজেই ফিরেছেন, আছেন বাংলাদেশেও। কামিন্সের অনুপস্থিতি পুষিয়ে দিতে আছেন অভিজ্ঞ জশ হ্যাজলউড। ইয়র্কার এবং বৈচিত্র্যে অ্যান্ড্রু টাইও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কাঁপানোর সামর্থ্য জানান দিয়েছেন এরই মধ্যে। নিয়মিত ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে অভ্যস্ত রাইলি মেরেডিথের সঙ্গে জেসন বেহরেনডর্ফকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং আক্রমণ বেশ জমাট। আর অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে স্কোয়াডে আছেন মাত্র পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলা আরেক লেগস্পিনার মিচেল সোয়েপসনও। এমন স্পিনারদের সামলানোয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যে খুব অভ্যস্ত নন, সেটা অজানা নয় কারোরই।

দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সঙ্গে লেগস্পিন সামলানোর চ্যালেঞ্জ তাই অস্ট্রেলিয়া স্বাগতিকদের ঠিক জানিয়ে রাখছে। তবে সফরকারীদের জন্যও যে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই, বিষয়টি এমনও নয়। বিশেষ করে তাদের অপ্রস্তুত করে দিতে পারে বাংলাদেশের উইকেট। এখানকার উইকেটে বল অনেক সময়ই থেমে ব্যাটে আসে বলে টাইমিংয়ের হেরফের হয়। হুট করে আসা অতিথি দলের ব্যাটসম্যান হয় আগে খেলে ফেলতে পারেন, নয়তো পরে। তাতে উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ খুঁজবে মাহমুদ উল্লাহর দলও। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলার সুবাদে এ রকম উইকেটের চ্যালেঞ্জ সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে ওয়ার্নার-স্মিথদের। তাঁদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মিরপুরের উইকেটের এমন চ্যালেঞ্জ কতটা সামলাতে পারবে, সেটিই এখন দেখার!