kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

অলিম্পিক আসে অলিম্পিক যায়

এই অভিজ্ঞতাকে গৌরবে-সৌরভে ভরিয়ে দেওয়ার চিন্তাটা আসে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ শেষে। আবার কিছুদিন পর সেসব ভাবনা হারিয়ে যায়।

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অলিম্পিক আসে অলিম্পিক যায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দ্বিতীয় রাউন্ডেই চুপসে গেল রোমান সানাকে ঘিরে প্রত্যাশার বেলুন। তার আগে টানা দুই কমনওয়েলথ গেমসের রুপাজয়ী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিদায়টাও ছিল সাদামাটা। প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে টোকিওতে গিয়ে টানা দ্বিতীয় অলিম্পিকে সেরা আটে পৌঁছাতে ব্যর্থ এই শ্যুটার। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য, যুগ যুগ ধরে চলে আসা ব্যর্থতার উত্তরাধিকারের বোঝাই তাঁরা বয়ে বেড়িয়েছেন টোকিওতে।

এটাকে অলিম্পিকে লাল-সবুজের পরম্পরা ভেবে নিলেই গায়ে লাগার কথা নয়। আবার লজ্জা হিসেবে নিলে অন্য কথা। বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন বশির আহমেদ মামুনের কাছে এটা লজ্জার, ‘সত্যি বললে, আমাদের আরো ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এখানে আসা উচিত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, অলিম্পিকের জন্য দীর্ঘ মেয়াদের একটা পরিকল্পনা থাকতে হবে আমাদের। কোন অ্যাথলেটদের নিয়ে আমরা অলিম্পিক ভাবনা ভাবব এবং তাদের কিভাবে তৈরি করব এবং লক্ষ্য কী হবে, সেসব খুব স্পষ্ট করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। নইলে আমাদের অলিম্পিক ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।’

প্রতিবেশী ভারত তাদের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। ক্রিকেটের পাশাপাশি তারা অন্যান্য খেলাগুলোয় বিশ্বমানে পৌঁছানোর জন্য বিনিয়োগ করেছে কোটি কোটি টাকা। উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভালো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অ্যাথলেটদের সামনে এগোনোর পথ প্রশস্ত করে রেখেছে। 

বাংলাদেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে সেই ছোঁয়া লাগেনি। বাংলাদেশ যুগ যুগ ধরে অলিম্পিকে যাচ্ছে এবং হারছে। বিমানবন্দরে সেলফি তুলে যাচ্ছেন, আবার ব্যর্থ হলেও ফিরছেন তাঁরা হাসিমুখে। বিশ্বের বৃহৎ ক্রীড়ামঞ্চে হাজির হয়ে নিজেদের অক্ষমতার ছবিটা বারবার তুলে ধরছেন, সে নিয়ে কারো কোনো বিকার নেই। এই নির্বিকার ছবিটার বদল চান বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বশির আহমেদ মামুন, ‘আমরা হুট করে পদক জিততে পারব না, তার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল-সেমিফাইনালে ওঠার মতো যোগ্য করে তুলতে হবে অ্যাথলেটদের। রোমান-বাকীদের দেখে মনে হয়েছে তারা এখানে এসে চাপে পড়ে যায়। নিজেদের সেরাটাও তাই দিতে পারে না। এ রকম চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেটদের জন্য আসলে আলাদা করে ভাবতে হবে। তাদের জন্য ভালো কোচ কিংবা ইউরোপে ভালো ট্রেনিং সেন্টারে পাঠিয়ে আলাদা করে তৈরি করতে হবে অলিম্পিয়ানদের।’

রোমান সানা তো সেই চাপের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রথম রাউন্ডে ইংলিশ আর্চারের বিপক্ষে ছয়টি ‘পারফেক্ট টেন’ আর দ্বিতীয় রাউন্ডে মাত্র একটি ‘বুলস আই’ শট থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়। চাপের প্রশ্নে বাংলাদেশ আর্চারির জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘যারা বিশ্ব আর্চারির সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়বে, তাদের সারা বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। বিশ্বসেরাদের সঙ্গে নিয়মিত খেললেই সাহস বাড়বে ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা তৈরি হবে। তাই ফেডারেশনের পরিকল্পনাটা এখানে জরুরি।’

শ্যুটিংয়ে যিনি টোকিও অলিম্পিকের স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিলেন, সেই ড্যানিশ কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনকে তাড়িয়ে দেয় শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। তার ফল হয়েছে, দেশি কোচের অধীনেই বাকীর অলিম্পিকযাত্রা। আসলে অলিম্পিক নিয়ে অতশত ভাবনা নেই এ দেশে। পদকের চেয়ে চার বছর পর পর এই ক্রীড়াযজ্ঞে হাজির হওয়ার দিকেই লক্ষ্য থাকে সবার। তাঁদের মুখে সেটা হলো অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাকে গৌরবে-সৌরভে ভরিয়ে দেওয়ার চিন্তাটা আসে অলিম্পিকে অংশগ্রহণ শেষে। আবার কিছুদিন পর সেসব ভাবনা হারিয়ে যায়। আবার ফিরে আসে আরেকটি অলিম্পিক ব্যর্থতার পর!



সাতদিনের সেরা