kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

মনের সঙ্গে লড়াইয়ে অচেনা বাইলস

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনের সঙ্গে লড়াইয়ে অচেনা বাইলস

তিনি জিমন্যাস্টিকসের রানি। গত অলিম্পিকে চারটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে সিমোন বাইলস নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য উচ্চতায়। উসাইন বোল্ট, মাইকেল ফেলপসদের অবসরে টোকিও অলিম্পিকের সবটুকু আলোও ছিল তাঁর ওপর। কিন্তু উদ্ভাসিত হওয়া হলো না বাইলসের। সরে দাঁড়ান টিম ফাইনালে প্রথম ইভেন্টের পরই, যা দেখে হতভম্ব হয়ে যান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাঁর ভক্তরা। ভল্টে স্কোর করেছিলেন মাত্র ১৩.৭৬৬, অলিম্পিকে এটাই তাঁর সবচেয়ে কম স্কোর। বাইলসের এমন ভুলের মাসুল দিয়েই মেয়েদের টিম ফাইনালে সোনা হাতছাড়া করল যুক্তরাষ্ট্র। ১৬৯.৫২৮ পয়েন্ট নিয়ে সোনা রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির। ডোপ টেস্টে রাশিয়া নিষিদ্ধ হওয়ায় টোকিওতে খেলছে অলিম্পিক কমিটির পতাকায়। বাজিমাত করল তারাই। আগের দিন ছেলেদের টিম ফাইনালের সোনাও জিতেছিল তারা। ১৬৬.০৯৬ পয়েন্টে রুপা যুক্তরাষ্ট্রের। লন্ডন, রিও অলিম্পিকের পর মর্যাদার ইভেন্টটির সোনা হাতছাড়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের। আর ১৬৪.০৯৬ পয়েন্টে ব্রোঞ্জ যুক্তরাজ্যের।

নিখুঁত পারফরম্যান্সের জন্যই বিখ্যাত বাইলস। তবে টোকিওতে বাছাই পর্বেই ঘটে দুর্ঘটনা। কখনো ল্যান্ডিংয়ে সমস্যা তো কখনো পারফরম্যান্সে দুর্বলতা ফুটে উঠছিল প্রকটভাবে। এ জন্য রাশান অলিম্পিক কমিটি দলের কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল অল অ্যারাউন্ড ফাইনালের প্রথম ইভেন্ট ভল্টেও দেখা গেল নড়বড়ে বাইলসকে। আড়াইবার রোটেট করার বদলে দেড়বার ঘুরেই পা রাখেন মাটিতে। থেমেছেন অনেক দূরে এগিয়ে। ল্যান্ডিংয়ে যে পরিকল্পনা ছিল না, সেটার বদলে বেছে নিয়েছিলেন সহজতর পথ। এর পরই ছেড়ে যান ফ্লোর। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, চোটের জন্য এবারের অলিম্পিকে হয়তো আর খেলা হবে না এই জিমন্যাস্টিকস কিংবদন্তির। কিছুক্ষণ পরই শুশ্রূষা নিয়ে বাইলস ফেরেন ফ্লোরে আর নাম প্রত্যাহার করে নেন ফাইনাল থেকে। তাঁর জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র পাঠায় জর্ডান চিলেসকে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বাইলস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে গোটা পৃথিবীর ওজন আমার কাঁধে। আমি অবশ্য চাপে ভেঙে পড়ি না কখনো। আর এটা তো অলিম্পিক, মজা করার জায়গা না।’ এ জন্যই কিনা তাঁর কোচ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘এটা চোট নয় মানসিক সমস্যা!’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে—চোটেই পড়েছেন বাইলস, ‘টিম ফাইনাল থেকে বাইলস নাম প্রত্যাহার করেছে শারীরিক সমস্যার জন্য। বাকি প্রাতযোগিতায় অংশ নিতে পারবে কিনা সেটা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যাবে।’ এরই মধ্যে ব্যক্তিগত পাঁচ ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছেন বাইলস। সেখানে তাঁর পারফরম করা নিয়ে বাইলস জানালেন, ‘শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তটাই নেব আমি আর মনোযোগ দেব নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। এই সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

বাইলসের জায়গায় অংশ নিয়ে আনইভেন বারে জর্ডান চিলেসের স্কোর ১৪.১৬৬। রাশানদের ধরতে সেটা যথেষ্ট ছিল না। অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো কাউকে। চোখ-ধাঁধানো সেই পারফরম্যান্সই আনইভেন বারে করেন সুনিসা লি। তাঁর স্কোর ১৫.৪! এত বেশি স্কোর এবারের অলিম্পিকে করেননি আর কেউই। বিমে রাশান দুই জিমন্যাস্ট ভ্লাদিসলাভা উরাজোভা ও অ্যাঞ্জেলিনা মেলনিকোভার ভুলে আশা জাগে যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এএফপি



সাতদিনের সেরা