kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

শুভ জন্মদিন

দাবা তাঁর আবেগ, পেশা নয়

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাবা তাঁর আবেগ, পেশা নয়

বাংলাদেশে যখন ফুটবল রমরমা, তখনো নিয়াজ মোরশেদের গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়াটা মাতিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। এরপর চার গ্র্যান্ড মাস্টার পেয়েছে বাংলাদেশ, এঁদেরই একজন রিফাত বিন সাত্তার। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে পরিচিতি এনে দেওয়া দাবাড়ুদের জীবনের নিশ্চয়তা মেলেনি দাবার বোর্ডে। রিফাত নিজে তাই বেছে নিয়েছেন চাকরিজীবন, শুধু নেশার টানেই বসে পড়েন দাবা বোর্ডের সামনে।

গতকাল ছিল রিফাতের ৪৭তম জন্মদিন। এমন দিনেও আক্ষেপ ঝরল এ নিয়ে, ‘পেশাদার দাবাড়ু হওয়ার মতো পরিবেশ বাংলাদেশে নেই। দাবা খেলে কারো কিন্তু পেট ভরে না। তাই চাকরি শুরু করলাম, আর চাকরি করতে করতেই গ্র্যান্ড মাস্টারের তিনটি নর্ম করি। গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়াই যেহেতু চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল, সেটি পূরণ হওয়ার পর খেলাটি থেকে একটু দূরে সরে যেতে আমার কষ্ট লাগেনি।’

১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেন রিফাত। পরের বছরই বিয়ে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বান্ধবী আইরিনকে। এরপর চার বছর শুধু ছিলেন দাবা নিয়ে, কোনো চাকরি করেননি। শুধু দাবা নিয়ে থাকলেও খেলায় খুব একটা এগোতে পারছিলেন না রিফাত। তাই চাকরি নেন এনজিওতে। বিস্ময়কর হচ্ছে, চাকরি নেওয়ার আট মাসের মধ্যেই জিএমের প্রথম নর্ম পেয়ে যান! ২০০২ সালে প্রথম, ২০০৩ সালে দ্বিতীয় আর ২০০৫ সালে পান তৃতীয় নর্ম। গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ২০০৬ সালে, সেদিন ছিল আবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল। এর পরও বাংলাদেশের তৃতীয় গ্র্যান্ড মাস্টার হওয়ায় মিডিয়ায় কম মাতামাতি হয়নি রিফাতকে ঘিরে।

আরডিআরএস, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনিসেফ, প্লান্ট, অ্যাকশন এইড হয়ে রিফাত এখন চাকরি করেন সেভ দ্য চিলড্রেনে। সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরামর্শক হিসেবে অনেক দিন কর্মরত ছিলেন কম্বোডিয়ায়। দাবা থেকে তখন ছিলেন একেবারেই দূরে। দেশে ফেরার পর চাকরির পাশাপাশি আবারও শুরু করেছেন দাবা। রিফাতের ঘর আলো করে এসেছে এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়ে মারজুকা রিফাত আর ছেলে সায়ান আরিফ রিফাতের কেউই দাবায় আগ্রহী নয়। এ নিয়ে আক্ষেপও নেই রিফাতের, ‘আমি নিয়াজ মোরশেদ ভাইকে দেখে দাবায় আগ্রহী হয়েছিলাম। ১৯৮১ সালে বুয়েটে মুফতি স্মৃতি দাবায় তাঁর সঙ্গে ড্র করেছিলাম। এরপর নিয়াজ ভাই পিঠ চাপড়ে দিয়ে অনেক উৎসাহ দিয়েছিলেন আমাকে। এখন সে রকম কোনো তারকা নেই। সংগঠকরা আন্তরিক নন। তবে আমি আশাবাদী, চিত্রটা বদলাবে।’



সাতদিনের সেরা